» ১১ দফা দাবিতে বাংলাদেশ সহকারী প্রধান শিক্ষক পরিষদ এর সংবাদ সম্মেলন

প্রকাশিত: ০৯. সেপ্টেম্বর. ২০২২ | শুক্রবার

জাতির সংবাদ টোয়েন্টিফোর ডটকম।।

বাংলাদেশের বেসরকারি মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সহকারী প্রধান শিক্ষকগণের পেশাগত সমস্যা ও বিভিন্ন দাবী পূরণের লক্ষ্যে আজ ০৯ সেপ্টেম্বর শুক্রবার সংবাদ সম্মেলন করেন বাংলাদেশ সহকারী প্রধান শিক্ষক পরিষদ ।

 


সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষক নেতৃবৃন্দ বলেন, বাঙ্গালী জাতির অবিসংবাদিত নেতা, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রেখে যাওয়া স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে প্রায় পঁচিশ হাজার সহকারী প্রধান শিক্ষক যাঁরা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের বিভিন্ন বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছেন । জাতির পিতার সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে পরিচালিত গণতান্ত্রিক সরকার বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে নানাবিধ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। যার ফলশ্রুতিতে উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় স্বীকৃত বাংলাদেশ আজ অদম্য অগ্রযাত্রার মহাসরণিতে ধাবমান। ইতোমধ্যে আমরা স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী পার করেছি এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত রূ্পকল্প-’৪১ বাস্তবায়নে এগিয়ে যাচ্ছি। আর এ রূপকল্প বাস্তবায়ন কর্মযজ্ঞে আমরা সহকারী প্রধান শিক্ষকগণও গর্বিত অংশীদার। উপস্থিত গণমাধ্যমের প্রতিনিধিগণ, শিক্ষাক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়নের মাঝে বাংলাদেশের মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের বিভিন্ন বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সহকারী প্রধান শিক্ষকগণ কর্মক্ষেত্রে আর্থিক, সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিকভাবে নানাবিধ বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। এসব বৈষম্য নিরসনকল্পে নিম্ন বর্ণিত দাবীসমূহ সদয় বিবেচনায় নেয়া এবং আশু প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য বর্তমান শিক্ষা বান্ধব সরকারের নিকট আকুল আবেদন জানাচ্ছি ।

দাবীসমূহ :
১/ সহকারী প্রধান শিক্ষকগণ চাকুরীর শুরুতে সহকারী শিক্ষক হিসেবে এমপিওভুক্ত হয়ে ন্যূনতম দশ বছর শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা নিয়ে শূন্য পদে আবেদন করে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে নির্বাচিত হয়ে নতুনভাবে সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগপ্রাপ্ত হন। তাই ২৮ মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দে শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক জারীকৃত জনবল কাঠামো ও এমপিও নির্দেশিকা অনুযায়ী দশ বছর ও ষোল বছর সন্তোষজনক চাকুরী শেষে সহকারী প্রধান শিক্ষকগণকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে দুটি উচ্চতর গ্রেড প্রদান করা।

২/ প্রতিষ্ঠানের সকল কার্য নির্বাহে প্রতিদিনের সার্বক্ষণিক অভিজ্ঞতার আলোকে নীতি নির্ধারনী পর্যায়ে ভূমিকা রাখা ও মতামত তুলে ধরে একাডেমিক ও প্রশাসনিক কাজের সমন্বয় সাধন, জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ, কাজে স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা আনয়নের লক্ষ্যে সহকারী প্রধান শিক্ষকগণকে ম্যানেজিং কমিটি/গভর্ণিং বডিতে পদাধিকার বলে সহকারী সদস্য সচিব হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা।

৩/ সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন দপ্তর/সংস্থা/অফিস কর্তৃক সময় সময় চাহিদার ভিত্তিতে প্রাতিষ্ঠানিক রিপোর্ট তৈরি/দাখিলের সময় সহকারী প্রধান শিক্ষকগণকে সম্পৃক্ত করা এবং তাঁদের স্বাক্ষর নেয়া জরুরি। প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব তহবিল ও সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিতকরণ, সকল আয়-ব্যয়ে স্বচ্ছতা আনয়ন সহ নানাভাবে প্রতিষ্ঠানের তহবিল তছরূপ বন্ধ করার লক্ষ্যে অর্থ ব্যয় সংশ্লিষ্ট সকল ক্ষেত্রে অফিস সহকারী কাম হিসাব সহকারী সকল ধরনের বিল-ভাউচারে স্বাক্ষর দেয়ার পর সহকারী প্রধান শিক্ষক স্বাক্ষর করবেন। তারপর প্রতিষ্ঠান প্রধান স্বাক্ষর করে ম্যানেজিং কমিটি/গভর্ণিং বডিতে অনুমোদন করাবেন-এই মর্মে নির্দেশনা প্রদান করা।

৪/ অধ্যক্ষের অনুপস্থিতিতে উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়/স্কুল এন্ড কলেজে প্রতিষ্ঠানের দ্বিতীয় প্রশাসনিক পদে দায়িত্ব পালনরত সহকারী প্রধান শিক্ষকের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালনের বিষয়টি নিশ্চিত করা।

৫/ সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে কমপক্ষে তিন বছর দায়িত্ব পালন শেষে যাতে উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়/স্কুল এন্ড কলেজে অধ্যক্ষ পদে আবেদন করে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ পেতে পারেন সেই সুযোগ প্রদান করা।

৬/ উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়/স্কুল এন্ড কলেজে অধ্যক্ষ পদের সাথে সামঞ্জস্য বিধানের লক্ষ্যে সহকারী প্রধান শিক্ষকের পদটিকে উপাধ্যক্ষ পদে উন্নীত করা (যা বর্তমানে সমমানের মাদরাসায় বিদ্যমান)।

৭/ চলমান শিক্ষাক্রম/ভবিষ্যত শিক্ষাক্রম/শিক্ষা ব্যবস্থাপনা/শিক্ষা প্রশাসনের সময়োপোযোগী ধ্যান-ধারণার সাথে তাল মিলিয়ে চলার লক্ষ্যে একটি নির্দিষ্ট সময় পর পর ইন সার্ভিস প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা।

৮/ প্রতিষ্ঠান প্রধান সহ সকল পদে কর্মরতদের যুগোপযোগী চাকুরী বিধি প্রণয়ন করা এবং তা বাস্তবায়নের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা।

৯/ উচ্চমাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত শিক্ষা ব্যবস্থাকে জাতীয়করণ করা এবং শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে ডেপুটেশনে কাজ করার সুযোগ প্রদান করা।

১০/ প্রতিষ্ঠান প্রধান পদে Extention প্রদান কিংবা চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ প্রদান বন্ধ করা এবং অবিলম্বে প্রতিষ্ঠান প্রধান সহ সহকারী প্রধান শিক্ষকের সকল শূন্য পদ এনটিআরসি’র মাধ্যমে পূরণ করা।

১১/ কর্মক্ষেত্রে হয়রানি বন্ধ করা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহ নিয়মিত সরকারিভাবে তদারকির ব্যবস্থা করা।