» স্ত্রী থাকতেও কেন পরকীয়ায় জড়ায় পুরুষ?

প্রকাশিত: ১১. জুন. ২০২২ | শনিবার

জাতির সংবাদ টোয়েন্টিফোর ডটকম।। বিয়ে ভাঙছে ভারতের সঙ্গীতশিল্পী দুর্নিবার সাহার? এই গুঞ্জনেই আপাতত সরগরম টলিপাড়া। ইদানীং দুর্নিবার-মীনাক্ষির দাম্পত্যকলহ চরমে। শোনা যাচ্ছে, এখন তা এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে, বাড়ি থেকে বেরিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন মীনাক্ষি। ঘনিষ্ঠ মহলের খবর, নতুন সম্পর্কে জড়িয়েছেন দুর্নিবার। তার জেরেই এই পরিস্থিতি।

যে জুটি সবে বছর খানেক আগে গাঁটছড়া বেঁধেছিল, সেই দাম্পত্য এত তাড়াতাড়ি ভাঙছে কী করে? এমন বন্ধুর মতো স্ত্রী থাকতে এত তাড়াতাড়ি সত্যিই কি পরকীয়ায় জড়িয়েছেন দুর্নিবার? এ কি বিশ্বাসযোগ্য? তাতে অনেকের আবার বক্তব্য, কেউ যদি শাকিরার মতো সঙ্গিনীকেও ঠকিয়ে অন্যের প্রতি আকৃষ্ট হতে পারেন, তবে আর বলার কী আছে! শাকিরা আর জেরার্ড পিকের বিচ্ছেদের কারণও যে একই। শাকিরার অনুমান, পিকে অন্য কোনো নারীর প্রতি আকৃষ্ট হয়েছেন।

কিন্তু ভালো সঙ্গিনী থাকা সত্ত্বেও পুরুষরা কেন আকৃষ্ট হন অন্যের প্রতি, সে প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে অনেকের মনে। এ নিয়ে আলোচনা এবং গবেষণা কম হয়নি।

আমেরিকার ইন্ডিয়ানা বিশ্ববিদ্যালয়ে এ নিয়ে বিভিন্ন সমীক্ষা চালানো হয়েছে। সেখানকার এক সেক্সোলজিস্ট জানাচ্ছেন, এই আচরণের প্রকৃত কারণ এখনো পাওয়া যায়নি। তবে তারা অনেক ক্ষেত্রেই খেয়াল করেছেন, অনেক দিনের সম্পর্কে জড়িয়ে থাকা পুরুষদের মধ্যে নতুন নারীর প্রতি আকৃষ্ট হওয়ার প্রবণতা বেশি।

কেন এমন করে থাকেন পুরুষরা? এটি জানতে কথা বলা হল তিরিশ বছর বয়সী কয়েক জন পুরুষ ও নারীদের সঙ্গে। তাদের অধিকাংশেই বেশ কয়েক বছরের বিবাহিত সম্পর্কে রয়েছেন। কারও কারও বিয়ে ভেঙেছে কিছু দিন আগে। এক এক জন, এক এক ভাবে দেখেন বিষয়টি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক তথ্যপ্রযুক্তিকর্মী জানান, বিয়ের দুবছরের মাথায় তার এক সহকর্মীর সঙ্গে সম্পর্ক হয়। স্ত্রীও তা জানতে পারেন। কিন্তু পরকীয়ায় জড়িয়েছিলেন যার সঙ্গে, তার সঙ্গে দিনের বেশিটা সময় কাটত। রোজের খুঁটিনাটি আলোচনা হত। সব মিলিয়ে নির্ভর করতে শুরু করেন সেই সহকর্মীর উপর। যৌন আকর্ষণও বোধ করেন।

আর এক তথ্যপ্রযুক্তি কর্মী শেখর দাসের বক্তব্য, বিবাহিত সম্পর্কে রোমাঞ্চ কমে যায়। স্ত্রী যখন বান্ধবী ছিলেন, তখন বেশি সময়ে বাইরে দেখা হত। তিনি সাজগোজ করে থাকতেন। তাকে দেখতে বেশি ভাল লাগত।

তিনি বলেন, সে সময়ে যৌন উত্তেজনা টের পেতাম। এখন অনেক দিনই বাড়িতে স্ত্রীকে দেখে সেই উত্তেজনা হয় না। বরং অন্য মেয়েদের রাস্তায় দেখলে তাদের বেশি আকর্ষণীয় মনে হয়।

‘দ্য ইভলিউশন অব ডিজায়ার’-এ ডেভিড বাস লিখেছিলেন, যৌন চাহিদা, উত্তেজনাও জিন নির্ভর একটি বিষয়। পুরুষদের জিনে একাধিক ব্যক্তির প্রতি আকৃষ্ট হওয়ার প্রবণতা বেশি থাকে।

তবে মধ্য তিরিশের এক সাংবাদিক এ কথা মানেন না। তার বক্তব্য, এটি ছেলে আর মেয়েদের ক্ষেত্রে আলাদা করে দেখার মতো বিষয় নয়। যে কোনো লিঙ্গের মানুষই আকৃষ্ট হতে পারেন অন্যের প্রতি। কেউ সে দিকে এগিয়ে যান, কেউ বা নিজেকে আটকে রাখেন।

এখনো বিয়ে করেননি, মধ্য কুড়ির এক যুবকের আবার বক্তব্য, মেয়েরাও যথেষ্ট অন্য ছেলেদের প্রতি আকৃষ্ট হন। কিন্তু ছেলেদের মধ্যে বিষয়টি জাহির করার চল বেশি। তাই তাদের কথা বেশি প্রকাশ্যে আসে।

সামাজিকভাবে মহিলাদের যৌন স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন পেশায় স্কুল শিক্ষিকা সুনন্দা রায়। তার বক্তব্য, মেয়েরা বিবাহিত সম্পর্কে থেকেও অনেক সময়ে নিজের যৌন চাহিদা প্রকাশ করতে পারেন না। এখনো অনেকেই এই ধারণা নিয়ে থাকেন যে, মেয়েদের যৌন ইচ্ছা প্রকাশ করতে নেই। ফলে অন্য কোন পুরুষের প্রতি আকৃষ্ট হলেও তা প্রকাশ করার চল হয়তো মেয়েদের মধ্যে পুরুষদের তুলনায় কম।’

সুনন্দা জানান, তারো অনেক সময়ে অন্য পুরুষকে ভাল লেগেছে। কিন্তু নিজের স্বামী তো দূরে থাক, কোন বন্ধুর কাছেও সে কথা প্রকাশ করতে পারেননি।