» সর্দিকাশি জ্বর বলে তাড়িয়ে দেই না, কারণ আমরা জানি এই মূহুর্তে তাদের দেখার কেউ নেই

প্রকাশিত: ২৩. এপ্রিল. ২০২০ | বৃহস্পতিবার

জাতির সংবাদ টোয়েন্টিফোর ডটকম।।     

স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রালয়ের অধীনে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের একজন কর্মচারী আমি। আমার পদবি পরিবার কল্যান পরিদর্শিকা। যুগে যুগে প্রতিনিয়ত আমরাও স্বাস্থ্য বিভাগের সাথে হাতে হাত রেখে কাজ করে চলছি। এবারও সেটার ব্যতিক্রম হয়নি।

 

ইনডোর, আউটডোর, স্যাটেলাইট ক্লিনিক সবখানেই আমরা আছি। এবং সবখানেই প্রতিদিন চিকিৎসা সেবা দিচ্ছি সাধারণ রোগের- মহিলা,শিশু, কিশোর কিশোরী পুরুষ, গর্ভবতী, প্রসূতি এবং প্রসবসেবা।

 

জন্মনিয়ন্ত্রণ সেবা দিচ্ছি -ইনজেকশন, খাবার বড়ি, আই,ইউ ডি, কনডম। পরিকল্পিত পরিবার গঠনের জন্য জনগণের দ্বারগোড়ায় গিয়ে করে যাচ্ছি কাজ।

 

আর এই বৈশ্বিক মাহামারিতেও আমরা পিছিয়ে নেই। ঝাঁপিয়ে  পড়েছি আমরা নিজের জীবনকে তোয়াক্কা না করে।

 

সাধারণ রোগীর সেবা দিতে গিয়ে সর্দিকাশি জ্বর, গলাব্যাথা  এধরণের রোগীদের সম্মুখীন আমাদেরই আগে হতে হয়। বিশেষ করে স্যাটেলাইট ক্লিনিকগুলোতে।

আর এই করোনা রোগীর লক্ষ্মণ চিহ্ন পেলে যথাযথ পরামর্শ দিয়ে ঘরেই থাকতে বলি এবং নমুনা সংগ্রহের জন্য জেলা হাসপাতালে যোগাযোগ করার জন্য বলি আবার কখনো নিজেই ফোন করে ব্যবস্থা করি।

আমরা জানি না কে করোনা আক্রান্ত আর কে নয়। তবুও আমরা আমাদের সেবা অব্যাহত রেখেছি। সর্দিকাশি জ্বর বলে তাড়িয়ে দেই না।  কারণ আমরা জানি এই মূহুর্তে তাদের দেখার কেউ নেই।

এভাবে আমরা করোনা আক্রান্ত রোগীকেও না জেনে দিয়ে যাচ্ছি সেবা। তবুও দুঃখ নেই এই মহৎ কাজ করার ক’জনে সুযোগ পায়।

তবে দুঃখ হয় যখন দেখি পক্ষপাতিত্ব, কিংবা আমাদের পরিবার কল্যান পরিদর্শিকারা প্রশংসার জায়গা থেকে বঞ্চিত হয়।

খুব কষ্ট পেয়েই আমি আজ এই লেখাটি লেখলাম।

মাঝে মাঝে পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা পদটিকে মনে হয় শুধু দেশকে দেওয়ার জন্যই জন্ম নিয়েছে বিনিময়ে প্রশংসা সুযোগসুবিধা নয় শুধুই বদনাম।

লেখক : হাবিবা বেগম, পরিবার কল্যান পরিদর্শিকা ।