এই মাত্র পাওয়া:

» সত্যিকারে এক লাইলির কথা

প্রকাশিত: ২০. জুন. ২০২০ | শনিবার

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

 

   লেখক : সৈয়দা সনিয়া আখতার অনন্যা

আম্মার কাছ থেকে গল্প শুনেছিলাম আম্মার সাথে চাকরি করতো এক আন্টি সেই আন্টির  গল্প আন্টির নাম কিন্তু লাইলী না আমি লাইলি বলছি আম্মার কাছে আন্টি গল্প করেছিল সে যখন এইচ এস সি পরীক্ষা দিবে তখন তার একটা ছেলেকে খুব ভালো লেগেছিল আন্টির বাসা ছিল ঢাকা নারিন্দা আর ছেলেটার বাসা ছিল ধানমন্ডিতে আন্টি ছেলেটাকে খুব পছন্দ করত ছেলেটাও কিছুটা বুঝতো কিন্তু হঠাৎ একদিন আন্টি তার বান্ধবীকে নিয়ে তার সাথে দেখা করতে যায় দেখা করতে গেলে ছেলেটার আন্টির বান্ধবীকে পছন্দ হয়ে যায় কারণ আন্টির বান্ধবী অনেক বড় লোকের মেয়ে এবং দেখতে খুব সুন্দরী মেধাবী ছাত্র ছিল হঠাৎ দুজনের সাথে খুব গভীর সম্পর্ক হয়ে যায়। আন্টি জানতোনা। আন্টি মনে মনে ছেলেটাকে ভিষণ ভালোবাসতো ছেলেটার সাথে দেখা করার জন্য আন্টি অনেক সময় নারান্দা থেকে ধানমন্ডি চলে যেত ছলে-বলে-কৌশলে দেখা করত কোন এক সময় আন্টি জানতে পায় আন্টির বান্ধবীর সাথে ওই ছেলেটির সম্পর্ক হয়ে গেছে আন্টির বান্ধবী তাকে বলে।বলার পরে আন্টি মনে খুব কষ্ট পায়। বছর খানেক পরে ছেলেটার সাথে আন্টির বান্ধবীর বিয়ে হয়ে যায় আন্টি তখন ডিগ্রীতে পড়ে কিন্তু খুব মনে কষ্ট পায় কষ্ট পেয়ে সে মনে সিদ্ধান্ত নেয় জীবনে প্রথম আমার এই ছেলেটাকে ভালো লেগেছিল আমি আর কোনদিন বিয়েই করবো না।আন্টি ডিগ্রী পাস করে করার পরে চাকরি নেয় আন্টি চাকরি নেওয়ার আগে তার বাবা মারা যায়।আর আন্টির মা আন্টি যখন ক্লাস ফাইভে পড়ে তখন সে মারা যায় আন্টির দুই ভাই আর একটা বোনের দ্বায়িত্ব পালন করেন।আন্টি চাকরি নিয়ে তার ছোট দুই ভাইবোনকে পড়াশোনা করানো শুরু করে হটাৎ ছোট বোন প্রেম করে বিয়ে করে। এর পরে বড় ভাইয়ের বিয়ে করে কিন্তু বোনের যে বয়স হয়ে যাচ্ছে তার বিয়ের জন্য কেউ কিছু করে না কোনো আত্মীয়-স্বজন ও না।কিছুদিন পরে সে ডিসিশন নেয় একটা দত্তক ছেলে নিয়ে পালবে একটা ছেলেকে দত্তক নেয় এর ভিতরে ভাই বোন সবার বিয়ে হয়ে যায়। সংসার হয়ে যায় একসময় আন্টিকে তার আঙ্গুল তুলে কথা বলে তুমি কি করেছো আমাদের জন্য যা পরিবারে হয় যে বেশি করে তারই বেশি কথা শুনতে হয়। আন্টিকে সর্বদিক থেকে এতিম হয়ে গেল দত্তক ছেলেটাকে নিয়ে সে একটা রুম ভাড়া নিল ছেলেটাকে লালন পালন শুরু করলো ছেলেটা এসএসসি পাস করল ভালো রেজাল্ট করলো এইচ এস সি পাস করল তারপর অস্ট্রেলিয়ায় স্কলারশিপ পায় আন্টি ছেলেটাকে অস্ট্রেলিয়া পাঠিয়ে দিলো বসর দুয়েক পড়ে ছেলেটা আন্টিকে নিয়ে গেল অস্ট্রেলিয়ায়। সেখানে গিয়ে আবার নতুন করে চাকরি করে মা ছেলের দিব্যি আরামে তাদের কাটে দিন। অনেক বছর পরে তাদের পুরনো এক বন্ধুর সাথে তার দেখা হয় অস্ট্রেলিয়াতে বন্ধু তখন বলে আন্টি যে ছেলেটাকে পছন্দ করত সে এখন বৃদ্ধাশ্রমে থাকে আন্টি শুনে হতবাক হয়ে যায় তারপরে সে সব বলে আন্টিকে ঐ বান্ধবীর ঘরে একটা ছেলে একটা মেয়ে হয় তারা লংড্রাইভে চট্টগ্রাম জিতেছিল হঠাৎ করে গাড়ি এক্সিডেন্ট করে ছেলেটা মারা যায় আর আন্টির বান্ধবীর স্বামী মানে সেই বন্ধু এক্সিডেন্টে তার পা-টা হারায় অঙ্গহীন হওয়ার পরেও কোন রকম সে ব্যবসা করত আস্তে আস্তে কিছুটা ব্যবসা ডাউনে চলে আসে এদিক থেকে সেইযে সুন্দরী বউ আন্টির বান্ধবী সে এক অন্য পুরুষের সাথে পরকীয়া করে মেয়েটাকে নিয়ে চলে যায় কানাডায়। আঘাত গুলো সহ্য করতে না পারে স্ট্রোক করে প্যারালাইসিস রোগী হয়ে যায়।তার ভাইদের উপর সে বোঝা হয়ে যায় ভাইরা তার থেকে ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়ি যাচ্ছিল সব লিখে নিয়ে যায় একসময় তাকে দুই ভাই বৃদ্ধাশ্রমে রেখে আসে মাসিক টাকা দিবেন খরচা বাবদ তাকে রেখে আসে কিছুদিন নাকি টাকা দেয়।তারপরে আর ভাইরা তার কোন খোঁজ খবর রাখে না সে বিদ্যাশ্রমে থেকে যায়।এই কথা শোনার পরে আন্টি অঝোরে কান্নাকাটি করে আন্টি তখন মনে মনে সিদ্ধান্ত নেয় আমি বাংলাদেশে যাবো এবং ওকে আমি বৃদ্ধাশ্রম থেকে নিয়ে আসবো আমি ওকে বৃদ্ধাশ্রমে থাকতে দিবো না যার জন্য আমার এতটা বছর জীবন যৌবন সব শেষ হয়ে গেল যে আমাকে অবহেলা করলো অবজ্ঞা করলো সে আজকে অবহেলায় থাকবে না।তার ভরণ-পোষণের দায়িত্ব আমি নিব। এদিক থেকে অস্ট্রেলিয়াতে আন্টি যে অফিসে কাজ করে সেখানে তার কলিগের সাথে ভালো সম্পর্ক হয় ভালো সম্পর্ক বলতে ভালো সম্পর্ক সেখানে কোন রং ছিল না।তখন সেই কলিগকে পূর্বের ইতিহাস সব বলে বলার পরে সে জানতে পারে যে ছেলেটা দত্তক আন্টি বিবাহিত না তারপর সেই অস্ট্রেলিয়ার বন্ধু তাকে বলে আমি বৃদ্ধাশ্রম থেকে আনবো তাকে সব ব্যবস্থা করব। চলো আমরা তোমাদের দেশে যাব তাকে নিয়ে আসব আন্টি সেই ফ্রেন্ডকে নিয়ে বাংলাদেশে আসে এবং বৃদ্ধাশ্রমের যায় গিয়ে তার পূর্বের ফ্রেন্ডকে সেখান থেকে নিয়ে অস্ট্রেলিয়া চলে যায়। যাওয়ার পরে তার পূর্বের ফ্রেন্ড অনেক অনুতপ্ত সে তখন তার কাছে ক্ষমা চায় সে ভুল করেছে সে সুন্দরীর পিছনে ঘুরে তোমাকে অামি অবহেলা করেছি স্বীকার করে তুমি গরীব ছিলা তুমি দেখতে শ্যাম বর্ণ ছিল সুন্দর ছিল না তাই তোমার চাইতে আমার ওকে বেশি ভালো লাগছিল। তাই আমি ওকে বিয়ে করেছিলাম আন্টি বলল সে সমস্ত কথা থাক পরে আন্টি রীতিমত তাকে অস্ট্রেলিয়া অনেক চিকিৎসা করে কিছুদিন পরে সেই যে দত্তক ছেলেকে বিয়ে করায় বিয়ে করানোর পরে বউ আংকেলকে দেখতে পারে না সহ্য করতে পারতোনা ঘরে অশান্তি লেগেই আছে। আন্টি তখনই অস্ট্রেলিয়ার ফ্রেন্ড আছে সব জানায় তখন সে আন্টিকে বুদ্ধি দেয় এখানে তো ফিফটি পার্সেন্ট টাকা দিলে আর ফিফটি পার্সেন্ট টাকা সরকার দেয় তুমি একটা বাড়ি নিতে পরো। তারপরে আলাদা একটা বাড়ি নেয় সেখানে পূর্বের ফ্রেন্ডকে নিয়ে আংটি থাকে মাঝে মাঝে ছেলে যেত বাজার ঘাট করে দিয়ে আসত আর ওখানে তো সরকারের অনেক সুযোগ সুবিধা আছে চিকিৎসা খাওয়া-দাওয়া সোশ্যাল পাইতো। সবকিছু নিয়ে ভালোই চলছিল হঠাৎ সেই আঙ্কেল টা মারা যায় অস্ট্রেলিয়া যাবা আট বছর পরে। আন্টির পূর্বের ফ্রেন্ড তাকে নিয়ে নাকি বছর দুই আগে বাংলাদেশে আসে বাংলাদেশে তাকে মাটি দিয়ে রেখে যায় আজিমপুর কবরস্থানে। তখন নাকি আম্মার সাথে আবারো দেখা হয়েছিল আন্টি অনেক কথা নাকি অাম্মাকে বলেছিল। ঐআঙ্কেল অনেকবার আন্টিকে বিয়ে করার প্রস্তাব দিয়েছিল তুমি শেষ জীবনে আমাকে গ্রহণ করো আন্টি বলেছিল না আমি তোমাকে কখনই গ্রহণ করব না। তোমার যখন ভরা যৌবন ছিল আমারও ছিল তখন তুমি আমাকে যখন পছন্দ করো নাই এখন আমি যদি তোমাকে বিয়ে করি সেটা হবে ভুল। তুমি আমাকে দায়ে পড়ে বিয়ে করেছ তুমি এখন অসহায় তোমার এখন কিছু নাই তুমি সেটা মনে মনে ভাববে যে তাই তুমি আমাকে বিয়ে করতে বাধ্য হয়েছ। যাই হোক অবশেষে তাদের বিয়ে হলো না আম্মার মুখ থেকে শুনেছিলাম সব কথা আন্টির সাথে আর আম্মার সাথে কোন যোগাযোগ ছিল না অস্ট্রেলিয়া চলে যাওয়ার পরে। আম্মার ব্রেইন স্ট্রোক করল এক দিনে তিনবার কালবৈশাখী ঝড়ের মত প্রায় পাঁচ মাসের ভিতর সব শেষ হয়ে গেল আমার অাম্মা চলে গেল না ফেরার দেশে। সেই আন্টি হঠাৎ করে আজ সকালে আমাকে ফোন করলো শেষবার যখন আম্মার সাথে দেখা হল তখন নাকি আমার ফোন নাম্বার নিয়ে গিয়েছিল চলে যাওয়ার পরে নাকি আম্মার সাথে ফোনে আমার একদিন কথা হয়েছে।আন্টি আম্মাকে চাইল অাম্মার সাথে কথা বলবে আমি বললাম আন্টি আম্মা আর দুনিয়াতে নেই তখন সেও অঝরে কাঁদল আর বলল আমার জীবনে তোমার মা একটা ভালো বন্ধু ছিল যার কাছে সব বলতে পারতাম আমি যখন তোমার ঐ আংকেল কে নিয়ে দেশে মাটি দিতে আসলাম তখনই তোমার মার সাথে আমার শেষ দেখা হয়েছিল আন্টিকে বলেছিলাম আপনি এবার দেশে আসেন ফিরে আসেন সে বললো না এদেশে আমি আর কখনো আসবো না এ দেশ আমাকে কিছু দেয়নি শুধু কষ্ট আর যন্ত্রণা দিয়েছে। আপনজন আত্মীয়-স্বজন বন্ধু-বান্ধব যাকে মনে প্রাণে ভালবাস ছিলাম যার জন্য আজ আমি বৃদ্ধা হয়ে গেলাম। কেউ আমাকে কিছু দেয়নি আমি সব শুধু হারিয়েছি। আমি আর ফিরবো না মা।যদি দেখো কোনদিন বৎসরের পর বৎসর হয়ে গেছে আমি তোমাদের খবর নেই নি তখন ভাববে আমিও আর নাই আমাকে ক্ষমা করে দিও তোমার মা থাকলে হয়তো তোমার মাকে বলতাম যে আমাকে ক্ষমা করে দিও। তোমার মা আমাকে নিজের ছোট বোনের মত ভালবাসত। সত্যিই আমি যদি আজকে আন্টির সাথে সরাসরি কথা না বলতাম আমি জানতাম না যে ভালবাসায় এত অমর হয় আম্মার মুখে শুনেছিলাম অতটা বিশ্বাস করিনি এ যুগের মানুষ এখনো লাইলির মত ভালবাসে নাকি।সে একাই ভালোবেসে গেছে সারা জীবন একাই কষ্ট পেয়েছে একাই সব কিছু ভোগ করেছে দুঃখ কষ্ট যন্ত্রণা বেদনা আল্লাহ তুমি তাকে শান্তি দিও তাকে দুনিয়া ও অাখেরাতে শান্তি দিও। অনেক ভালোবাসার গল্প আমি জীবনে শুনেছি কিন্তু এই আংটির মতো মর্মান্তিক ভালোবাসার কথা আমি কোনদিন শুনি নাই আন্টির জন্য শুভকামনা রইল।( সবশেষে আন্টি আমাকে একটা অনুরোধ করলো মা তোমার কাছে আমার অনুরোধ আমার কোন নাম পরিচয় কখনো কেউকে দিবানা) তবে সত্যি কথা এটাও সে আমাকে প্রাইভেট নাম্বার দিয়ে ফোন করেছে তার কোনো নাম্বারও আমার কাছে রইল না যে আমি আর কখনো তার সাথে যোগাযোগ করতে পারব নাড়।যদি সে কখনো যোগাযোগ করে। এমন ভালোবাসা কয়জনে ভালোবাসতে পারে,এখন দুনিয়াতে ভাল মানুষ আছে মানবতার জয় হোক, ভালোবাসার জয় হোক।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৯৯ বার

[hupso]
Facebook Pagelike Widget