» শার্শায় শিক্ষা সফরের দুটি বাসে’র মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১

প্রকাশিত: ১৯. ফেব্রুয়ারি. ২০২০ | বুধবার

 

খোরশেদ আলম : যশোরের শার্শার নাভারন – সাতক্ষীরা মহাসড়কের হাড়িখালিতে ঘন কুয়াশায় দুটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে এতে ১ নিহত সহ অাহত হয়েছে অন্তত বেশ কয়েকজন।

স্থানীয় এলাকাবাসী ও পুলিশ সুত্রে জানা যায়, ১৯ ফেব্রুয়ারি বুধবার সকাল আনুমানিক ৮টার সময়, কলারোয়ার বুঝতলা থেকে ছেড়ে আসা যশোরগামী শিক্ষা সফরের পিকনিকের বাস এবং যশোর থেকে ছেড়ে আসা সাতক্ষীরাগামী লোকাল বাসযাত্রী গাড়ীর সাথে, ঘন কুয়াশার কারণে, শার্শার নাভারণ – সাতক্ষীরা মহাসড়কের হাড়িখালি নামক স্থানে দুটি যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ১ জন নিহত সহ আহত হয়েছে অন্তত বেশ কয়েকজন।

যশোরের নাভারণ হাইওয়ে পুলিশের এসআই ডিটু ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ওই দুর্ঘটনায় বেনাপোল পোর্ট থানা এলাকার দৌলতপুর গ্রামের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম (৬১) নামের ১ জন নিহত হয়েছেন। আহত আরো ৫/৭ জনকে শার্শা উপজেলা  নাভারন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে।

শার্শার বাগআঁচড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক (তদন্ত) সুকদেব রায় তিনি ও সাংবাদিকদের জানান, সতক্ষীরা কলারোয়ার বুঝতলা বিবিআরএনএস মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা গ্রীন বাংলা পরিবহনের বাসে করে নাটোর রাজবাড়ী পিকনিকে যাচ্ছিলেন। এসময় যশোর থেকে ছেড়ে আসা সাতক্ষীরাগামী একটি লোকাল বাসের সাথে পিকনিকের বাসটির মুখোমুখি ধাক্কা লাগে। এতে লোকাল বাসের চালকের মৃত্যু হয়েছে এবং পিকনিকের বাসের ২০ জনের আহত হয়েছে। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে ও প্রাইভেট ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। এ বিষয়ে পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক (তদন্ত) সুকদেব রায় এর কাছে, আরো জানতে ফোন দিলে উনি জানান, আমরা দুর্ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম কিন্তু ঘটনা প্রসঙ্গে আমি কিছুই বলতে পারবো না, বিস্তারিত হাইওয়ে পুলিশ বলতে পারবে। আমরা উদ্ধার করে হাইওয়ে পুলিশের কাছে দিয়েছি ওখানে খবর নেন।

এদিকে নাভারন হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ওসি জহির উদ্দিন সাংদিকদের বলেছেন, বুধবার সকাল ৮ টার দিকে ঘটনাটি ঘটেছে, নাভারন-সাতক্ষীরা মহাসড়কের শার্শার হাড়িখালি নামক স্থানে। এতে লোকাল বাসের চালকের মৃত্যু হয়েছে তবে তার নাম পরিচয় পাওয়া যায়নি। উক্ত বক্তব্য এবং ঘটনা প্রসঙ্গে আরো জানতে উনার নাম্বারে ফোন দিলে উনি ফোন রিসিভ করেননি। অভিযোগ আছে সংবাদ কর্মীদের ফোন উনি তেমন একটা রিসিভ করেন না।

এলাকাবাসী’র অভিযোগে আরো জানা গেছে, ঘন কুয়াসা সেইসাথে মেইন সড়কের উপরে ইটভাটার পিচলে পড়া মাটির কারণে ঘটনাটি ঘটেছে বলে তারা অভিযোগে জানান। সরেজমিন দেখা গেছে, উক্ত উপজেলায় বেশ কয়েকটি ইটভাটা রয়েছে। অধিকাংশ এসব ইটভাটায় ব্যবহারকৃত মাটি বহনকারী ট্রাক্টর গাড়ী সহ চালক এবং ইটভাটাগুলোর নেই কোন বৈধ কাগজপত্র। এরা নিয়মের কোন তোয়াক্কা না করে ফসলী জমিতে অবৈধভাবে গড়ে তুলেছে এদের ইটভাটাগুলো এবং এসব অবৈধ মাটি বহনকারী যানবাহনগুলো এলোমেলো চালানোর কারনে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। ঝরছে অনেক প্রাণ, হচ্ছে পরিবেশের ক্ষতি সেইসাথে হারাচ্ছে খাদ্য উৎপাদন ক্ষমতার ঊর্বরজমি। স্থানীয় এলাকাবাসী ও সচেতনমহল  ঊর্ধ্বতন প্রশাসন কর্তৃপক্ষের নিকট, অবৈধ এসব বেপরোয়া যানবাহন সহ ইটভাটাগুলোর বিরুদ্ধে দ্রুত যথাযথ দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণে হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। আর যাতে এমন দুর্ঘটনা না ঘটে তার দিকে সু-দৃষ্টি কামনা করেছেন।