» শার্শার গাতিপাড়ায় বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনে ভ্রাম্যমাণ আদালতে বরসহ কনের পিতাকে অর্থদণ্ড

প্রকাশিত: ২৭. ফেব্রুয়ারি. ২০২০ | বৃহস্পতিবার

 

খোরশেদ আলম, জাতির  সংবাদ টোয়েন্টিফোর ডটকম।।    যশোরের শার্শার গাতিপাড়ায় ২৭ শে ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার বাল্যবিবাহ দেওয়ার অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতে উভয় পক্ষের বর ও কনের পিতা সহ দুজনকে সর্বমোট ২১ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে।

সুত্রে জানা যায় বাল্যবিবাহ সংক্রান্ত, শার্শা উপজেলা সহকারী (ভূমি) কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ খোরশেদ আলম চৌধুরীর এর মোবাইলে একটি ক্ষুদে বার্তা আসে যে। শার্শা ইউনিয়নের গাতীপাড়া গ্রামে ১৩/১৪ বছরের মেয়ে সাথে ২৫ বছরের ছেলে সাথে বাল্যবিবাহ দিচ্ছে।

এসময় উক্ত ম্যাজিস্ট্রেট তাৎক্ষণিক ফোর্স নিয়ে লাঞ্চের (দুপুর) ২টার সময় বিবাহ বাড়িতে উপস্থিত হয়ে দেখাতে পাই যে, কনে মোছাঃ ঐশি আক্তার (১৫), পিতা মোঃ শাহিন মোড়ল এর সাথে পাশের বাড়ির বর মোঃ সুজন হোসেন (২৫), পিতা মোঃ নুর ইসলাম’ এর সাথে বিবাহ সম্পাদনের উদ্দেশ্য খাওয়া-দাওয়া ও বিবাহ সংক্রান্ত আনুষঙ্গিক আয়োজন চলছে।

উক্ত বাল্যবিবাহ প্রসঙ্গে ম্যাজিস্ট্রেট জানান, আমি কন্যা ও বরের বাবাকে বাল্যবিবাহ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে, উত্তর দেন যে, তারা কোর্ট থেকে এভিডেভিডের মাধ্যমে ছেলে-মেয়ের বিবাহ সম্পন্ন করেছেন কিন্তু তারা জানেন না যে, এভিডেভিড কোন বিয়ে নয়, শুধু হলফনা এবং কেউ যদি এভিডেভিডকে বিয়ে মনে করে এক সঙ্গে বসবাস করে তা ব্যভিচার।

ভ্রাম্যমাণ আদালত অনুযায়ী, এসময় আমি মেয়ের জন্ম সনদ এবং JSC সার্টিফিকেট যাচাই করে দেখতে পাই যে, কনে মোছাঃ ঐশির বয়স ১৫ বছর। বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭ অনুযায়ী কন্যা বয়স ১৮ বছরের কম হওয়ায় সে একজন অপ্রাপ্ত বয়স্ক। উপর্যুক্ত অপরাধের কারণে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭ অনুযায়ী বাল্যবিবাহকারী বর মোঃ সুজন হোসেন (২৫) কে ১১ হাজার এবং বাল্যবিবাহ সংশ্লিষ্ট পিতা মোঃ শাহিন মোড়ল (কনের পিতা) কে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয় এবং বাল্যবিবাহ ভেঙ্গে দেওয়া হয়। কনের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে বিয়ে দিতে কনের বাবাকে নিষেধ করা হয় এবং সবাই একমত পোষণ করেন। বাল্যবিবাহ নিরোধ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন সবসময় জিরো টলারেন্স থাকবে।