» শত্রুরাই বলে দেয় সম্ভাবনা আছে

প্রকাশিত: ২৩. জুন. ২০২২ | বৃহস্পতিবার

 

            ।। রিতু আক্তার।।

বন্যায় ভাসছে সিলেট ও সুনামগঞ্জবাসী। টানা বৃষ্টি, আকাশে মেঘ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেদিন সিলেট দেখতে গিয়েছিলেন সেদিন বৃষ্টি ছিল না। একটি জাতীয় দৈনিক রিপোর্ট করেছিল ‘প্রধানমন্ত্রী সিলেট গেলেন উজ্জ্বল রোদ সঙ্গে নিয়ে’। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে প্রায় ১৫ দিন পর উজ্জ্বল রোদের দেখা পাওয়ায় বানভাসিদের মনে আশার সঞ্চার হয়েছিল। এমন বাদলঝরা দিনে রোদেলা বেলায় প্রধানমন্ত্রীর আগমন শুভ সংবাদ নিয়ে এসেছিল

বলেই মনে করছেন বন্যা দুর্গতরা। সেদিন সারাদিন ভাল কেটেছে সিলেটবাসীর।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর প্রায় ছয় বছর

নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে ১৯৮১ সালের ১৭ মে দেশে ফেরেন প্রধানমন্ত্রী শেখ

হাসিনা। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট যেদিন বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করা হয়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার ছোটবোন শেখ রেহানা এবং দুই সন্তানসহ স্বামীর কর্মস্থল পশ্চিম জার্মানিতে অবস্থান করছিলেন। ফলে তারা খুনিদের হাত থেকে প্রাণে বেঁচে যান। দেশে ফেরার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ১৯

বার হত্যার চেষ্টা করা হয়। তাকে প্রতিবার হত্যার চেষ্টার সময় সৌভাগ্য ছিল সহযাত্রী। হয়তো ঘাত প্রতিঘাত শক্রুদের ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে ধৈর্য্য ধারণ করায় আজ বিশ্বের অন্যতম নেতৃত্বের অধিকারী তিনি। গত দুদিন থেকে এইসব

কথা ভাবছিলাম আর মনে হচ্ছিল শক্ররাই বলে দেয় সম্ভাবনা আছে। নইলে তারা ষড়যন্ত্র করে কেন?

 

কারমাইকেল বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে এম.এ পাশ করে ২০১৯ সালে আগপাছ কিছু না ভেবেই পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান পদে

মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছিলাম। তখন এত্তো কিছু বুঝি নাই। শুধু সময়টাকে কাজে লাগিয়ে ভোটের মাঠে ছিলাম। জনগণ বিপুল ভোটে আমাকে বিজয়ী করেছিল। সেটা এত

ভোট যে আমার বয়োজেষ্ঠ উপজেলা চেয়ারম্যানের প্রাপ্ত ভোটের চেয়ে অনেক বেশী। এত্তো ভোট পেয়েও জনগণের সেবা করার সুযোগ নেই। সরকারী বরাদ্দ বন্ঠনের

সুযোগ নেই। হ্যাঁলো, সমাজ সেবা অফিসার সাহেব, একজন দুঃস্থ নারীকে পাঠালাম বিধবা ভাতা পায় না একটু দেখবেন প্লিজ। এভাবে শত শত অনুরোধ করতে করতে আমি

ক্লান্ত। কোন লাভ নেই ভেবে নিয়ে উপজেলা পরিষদে আমার রুমটাতে বসি। বসেই থাকি। সময় কাটাই। অফিসে আসা জনগণকে পরামর্শ দেই। সব বয়সের নারী-পুরুষ

আমার কাছে আসেন। তাদের আপ্যায়ন করার সাধ্য আমার নেই। তবু তারা আসেন। এটিকে হয়তো ভালোবাসা বলে। যা সম্মানী বেতন পাই তা দুস্থ, অসুস্থ্য, অগ্নিকান্ডে পুড়ে যাওয়া পরিবার, দরিদ্র শিক্ষার্থীসহ অনেকের মাঝে বন্ঠনে শেষ হয়ে যায়। এ কারণে ব্যাংক ঋণ বেড়েছে, ধার বেড়েছে।

 

ইদানিং আমাকে নিয়ে সুক্ষ্ণ ষড়যন্ত্রের আভাস পাচ্ছি। কি রকম সেটি জানি

না। তবে টের পাচ্ছি। নতুন সময়ের সাহসী সন্তান আমি। দৃঢ়তার সাথে সম্মুখে এগিয়ে যাওয়াই আমার প্রত্যয়। এটি ভাবতে গিয়ে মনে হলো, শক্র থাাকা ভালো। শক্ররাই গোপনে বড় কাজটা করে দেয়। যা তারা আদৌ বুঝতে পারে না। শক্ররাই বলে

দেয় সম্ভাবনা আছে। নইলে তারা ষড়যন্ত্র করে কেন? সুতারাং ধন্যবাদ শক্র এবং ষড়যন্ত্রকারীগণ। দেখা হবে বিজয়ে।

 

 

লেখক পরিচিতি: মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান

দেবীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ

পঞ্চগড়।