» রমজানে চাহিদাকে পুঁজি করে সুযোগ নিচ্ছে কিছু মুনাফালোভী অসাধু ব্যবসায়ী

প্রকাশিত: ২৫. এপ্রিল. ২০২০ | শনিবার

জাতির সংবাদ টোয়েন্টিফোর ডটকম ।।    করোনা পরিস্থিতির কারণে জনসাধারণের ক্রয়ক্ষমতা কমে গেলেও পবিত্র রমজানে চাহিদাকে পুঁজি করে সুযোগ নিচ্ছে কিছু মুনাফালোভী অসাধু ব্যবসায়ী। বাধ্যতামূলক হলেও দোকানগুলোতে নেই মূল্য তালিকা। মানছে না আইন। সরবারহের অজুহাত দিয়ে ইচ্ছেমতো বাড়িয়ে দিচ্ছে নিত্যপণ্যের দাম। সবজি থেকে শুরু কওে চাল, ডাল, ফল-সব কিছুর দামই অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে বিপাকে পড়ছেন সাধারণ ক্রেতারা। এদিকে ভোক্তা আইন না মানায় গতকাল শুক্রবার রাজধানীর ১১ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়।

রমজানের শুরুতেই প্রতিবছরের ন্যায় চিনির দাম বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। গতকাল প্রতিকেজি চিনি বিক্রি হয়েছে ৬৫ থেকে ৭৫ টাকা, যা এক সপ্তাহ আগেও ছিল ৬৫ থেকে ৭০ টাকা। ৮০ থেকে ১২০ টাকা কেজির রসুন এখন ১১০ থেকে ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতিকেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৫৫ থেকে ৬০ টাকা, এক সপ্তাহ আগেও যা ৪৫ থেকে ৫০ টাকা ছিল। আমদানি করা ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজির পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৫০ থেকে ৫৫ টাকা। প্রতিকেজি বিদেশি আদা ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা এক সপ্তাহ আগেও ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা বিক্রি হয়েছে। এ ছাড়া বাজারে প্রতিকেজি ছোলা বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৮৫ টাকা, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৭৫ থেকে ৮০ টাকা।

সরেজমিন দেখা যায়, লকডাউনের অজুহাতে বেড়েই চলেছে ফলের দাম। এক মাস আগে আঙুরের দাম ছিল ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা। এখন বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৩৬০ টাকা পর্যন্ত। আপেল ছিল কেজিপ্রতি ১২০ টাকা থেকে প্রকারভেদে ১৪০ টাকা। এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০০ টাকায়। খুচরা বাজারে মাল্টা বিক্রি হয়েছে ১২০ থেকে ১৩০ টাকা কেজি। একলাফে সেটা এখন ১৮০ থেকে ২৫০ টাকায় গিয়ে ঠেকেছে। নাশপাতি কেজিপ্রতি ১৮০ থেকে ২০০ টাকা থাকালেও বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ২৬০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজি দরে। পেয়ারার দাম ছিল ৫০ থেকে ৬০ টাকা, তা এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০০ থেকে ১২০ টাকায়।

আর রমজানে সবচেয়ে বেশি কেনা হয় খেজুর। বর্তমানে সৌদি আরবের আজওয়া খেজুর প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে দেড় হাজার থেকে দুই হাজার টাকায়। মেকজেল খেজুর প্রতিকেজি ১ হাজার ৩০০ টাকা। ইরানের কামরাঙ্গা মরিয়ম ১ হাজার, সাধারণ মরিয়ম ৯০০, তিউনিসিয়ার প্যাকেটজাত খেজুর ৪৬০, দাবাস ২২০, ফরিদা ৩০০, বড়ই ২২০, নাগাল ২০০ টাকা এবং বাংলা খেজুর ১০০ থেকে ১২০ টাকা বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি।

ফল আমদানিকারক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘এক কেজি আপেলে কর দাঁড়ায় ৪০ থেকে ৪৫ টাকা, মাল্টায় ৩৭ টাকা, সাদা আঙুরে ৮০ টাকা, লাল আঙুরে ৯০ টাকা ও নাশপাতিতে ৪০ টাকা। দেশে মোট ফলের চাহিদার ৭০ শতাংশ আমদানি করে মেটানো হয়। বর্তমানে লকডাউনের প্রভাবে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা এমনিতেই কমে গেছে। কিন্তু শুল্ক যদি কমানো হতো তা হলে সার্বিক মূল্য হ্রাস পেত। পুষ্টি চাহিদা মেটাতে ফল সহজেই কিনতে পারত সাধারণ মানুষ। এ ছাড়া বন্দরে হিমায়িত স্টোরেজের অভাবে ফল পচে যাচ্ছে।’ তবু বাজারে ফলের জোগান ও দাম স্বাভাবিক রয়েছে বলে উল্লেখ করেন এ ব্যবসায়ী নেতা।

এদিকে মোটা আতপচাল প্রতিবস্তা বিক্রি হচ্ছে মানভেদে ১ হাজার ৯০০ থেকে ২ হাজার টাকা। গত সপ্তাহে যা ১ হাজার ৭০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। মোটা সেদ্ধ চাল বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৫০ থেকে ২ হাজার ১০০ টাকায়। আগে তা বিক্রি হয়েছিল ১ হাজার ৮০০ টাকায়। স্বর্ণা সেদ্ধ চাল বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ২৫০ টাকায়। ২ হাজার ১৫০ থেকে বেড়ে ২ হাজার ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে গুটি সেদ্ধ চাল। ১ হাজার ৯০০ টাকা দামের আতপচাল এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতিবস্তা ৩০০ টাকা বেড়ে ২ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া মিনিকেট, জিরাশাইল, পাইজামসহ সব ধরনের চাল বস্তায় সর্বনিম্ন ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে।

বাড়তি দাম নেওয়ায় ১১ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা : অতিরিক্ত দাম ঠেকাতে গতকাল শুক্রবার জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের ছয়টি টিম মাঠে নামে। রাজধানীর কারওয়ানবাজার, গুদারাঘাট বাজার, ভাটারা বাজার, উত্তর বাড্ডা বাজার, দক্ষিণ বাড্ডা বাজার, গুলশান-১ কাঁচাবাজারে এ অভিযান চালানো হয়। এ সময় মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করা, অনৈতিকভাবে বেশি দামে নিত্যপণ্য বিক্রি করাসহ যথানিয়মে ভোক্তা আইন পালন না করায় ১১ প্রতিষ্ঠানকে সাড়ে ১৮ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

অভিযান পরিচালনা করেন ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক (উপসচিব) মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার, মাসুম আরেফিন সহকারী পরিচালক শাহনাজ সুলতানা, ফাহমিনা আক্তার, রজবী নাহার রজনী ও তাহমিনা আক্তার। অভিযান চলাকালে হ্যান্ডমাইকে চাল, ডাল, তেল, আদা, রসুন, পেঁয়াজসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য তালিকা যথাযথভাবে প্রদর্শন এবং প্রদর্শনকৃত মূল্যের অধিক দামে পণ্য বিক্রি না করা, করোনাকে কেন্দ্র করে অতিমুনাফা করা থেকে বিরত থাকার জন্য ব্যবসায়ীদের সতর্ক করেন তারা। এ ছাড়া ক্রেতা-বিক্রেতার স্বাস্থ্যঝুঁকি বিবেচনায় মাস্ক, হ্যান্ডগ্লাভস ও হাত ধোয়ার পরামর্শ দেওয়া এবং অযথা বাইরে ঘোরাফেরা না করার আহ্বান জানানো হয়।