» “মে দিবসের অঙ্গীকার হোক” বৈষম্য চাই না, চাই সুষ্ঠু সুন্দর জীবন ধারণের অধিকার

প্রকাশিত: ০১. মে. ২০২১ | শনিবার

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

 

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকা অবস্থায় তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর সরকারি কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির আন্দোলনকারীদের সাথে একমত পোষণ করে তাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হতে বহিষ্কার হয়েছিলেন। সেদিন বঙ্গবন্ধু কথা দিয়ে ছিলেন। আমি যদি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হতে পারি সর্বপ্রথম তোমাদের বেতন বৃদ্ধি করে দেবো বঙ্গবন্ধু তার কথা রেখেছিলেন।

১৯৭২ সালের ১২ জানুয়ারী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৭২ সালে ১ মে তিনি তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর সরকারি কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধি করেন। বঙ্গবন্ধুর মন্ত্রী পরিষদ ১৯৭৩ সালে সরকারি কর্মচারীদের সুখের কথা চিন্তা করে ১০ গ্রেডের একটি সুন্দর বেতন স্কেল উপহার দিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধু সরকারের সময় প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরা বেশ সুখেই ছিলেন।

১৯৭৫ সালে ১৫ আগস্ট হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। এর পর দেশে সামরিক শাসন জারি করা হয়। গণতান্ত্রকে হত্যা করে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের মৌলিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়। এর পর থেকে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের ভাগ্যে নেমে আসে অন্ধকার।
এরশাদ সরকারের সময় ১০টি গ্রেডের পরিবর্তে ২০টি গ্রেড করা হলো।
বিএনপি সরকারের সময় প্রজাতন্ত্রের সকল কর্মচারীদের একই যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ সচিবালয়ের কর্মচারীদের সাথে সচিবালয়ের বাহিরের কর্মচারীদের বিশাল একটি বৈষম্য তৈরী করে দিলো।
বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পরে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরা আশায় বুক বেঁধে ছিলো হয়তো এবার আমারের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে । যেহেতু বঙ্গবন্ধুর এবং মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের শক্তি বঙ্গবন্ধুর কন্যা মাননীয় জননেত্রী শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হয়েছে হয়তো বা আমাদের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে। কিন্তু আজ বুকভরা ব্যথা নিয়ে বলতে হচ্ছে ২০১৫ সালের বেতন স্কেলে যদিও বলা হচ্ছে দ্বিগুণ হারে বেতন বৃদ্ধি করা হয়েছে কথাটা শতভাগ সত্য না । এখানে চরম ভাবে বঞ্চিত করা হয়েছে ১১ থেকে ২০ গ্রেডের কর্মচারীদের কোথাও ২% কোথাও ৩% কোথাও ৪% বেতন বৃদ্ধি করা হয়েছে। প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের সকল সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে । এখানে বর্তমান সরকারের সময় আরেক ধাপ বৈষম্য তৈরী করা হয়েছে কর্মকর্তাদের সাথে কর্মচারীদের মধ্যে, যা আমরা কোন ভাবেই মেনে নিতে পারছি না। এই বৈষম্য নিয়ে অনেক লেখা লেখি হয়েছে। মন্ত্রীপরিষদে এই বিষয়ে বেশ কয়েকবার আলোচনা হয়েছে, ওনারা উপলব্ধি করেছেন আমরা আমলা তান্ত্রিক বৈষম্য শিকার হয়েছি। এই বৈষম্যের বিষয় টি জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হয়েছে কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে আজ পর্যন্ত এই বিশেষ কোন সিদ্ধান্ত হয়নি। বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে ২০১০ সালের জালাও পুড়াও পূর্ব ও পরে যত অন্দোলন সংগ্রাম হয়েছে । সকল প্রকার নাশকতা মুলক অন্দোলনের বিরুদ্ধে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরা মাঠে ছিলো। যেহেতু আপনি বর্তমান সরকারের একজন দায়িত্বশীল মন্ত্রী আশা করি আগামী বাজেটে আমাদের এই বিষয়টি আপনি গুরুত্বের সাথে দেখবেন। এবার মে দিবসের অঙ্গীকার হোক আমরা বৈষম্য চাই, না চাই সুষ্ঠু সুন্দর জীবন ধারণের অধিকার। জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু, জয় হোক প্রজাতন্ত্রের সকল কর্মচারীদের।

লেখক পরিচিতিঃ মোঃ আকতার হোসেন,সাধারণ সম্পাদক বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী কল্যাণ ফেডারেশন

Facebook Pagelike Widget