» মেয়ে শিশুর ধর্ষক ও হত্যাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসির দাবি কাতার প্রবাসী পিতার

প্রকাশিত: ২৬. জানুয়ারি. ২০২০ | রবিবার

জাতির সংবাদ ২৪ ডটকম।।    একমাত্র মেয়ে শিশু নাবিলা আক্তার (৪)-এর ধর্ষক ও হত্যাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসির দাবি জানিয়েছন কাতার প্রবাসী আবুল কালাম (৩২)।

কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার কনেশতলা কৃষ্ণনগর গ্রামের হাজী আবদুল আজিজের ছোট ছেলে এই আবুল কালাম। স্ত্রী ও এক মাত্র মেয়ে নাবিলাকে নিয়ে সুখেই কাটছিল তার জীবন। কিন্তু সুখের এই সংসারে হানা দেয় মানুষরুপী এক জানোয়ার।

আবুল কালাম দাবি করেন, একই এলাকার ডা. আলী আশ্রাফের ছেলে মেহেরাজ হোসেন তুষার (২০) নাবিলাকে একটি নিমার্ণাধীন ভবনে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের পর হত্যা করে। ২০১৮ সালের ১৭ ডিসেম্বর সকাল ১০টার দিকে নাবিলাকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়।

ঘটনার পরদিন ওই ভবনের একটি রুমে সিমেন্টের বস্তার নিচ থেকে নাবিলার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ১৯ ডিসেম্বর এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা হয়। শিশু নাবিলাকে ধর্ষণ ও হত্যার পরদিন তার জানাজায় অংশ নিয়েছিল ঘাতক তুষার। মরদেহ উদ্ধারের সময়ও ঘটনাস্থলে অবস্থান করেছিল সে।

গেল বছর ৩০ জানুয়ারি ডিবির একটি টিম এলাকায় তদন্ত শুরু করে। তদন্তে তুষারের সম্পৃক্তার প্রমাণ পেয়ে ডিবির ওসি নাসির উদ্দিন মৃধার নেতৃত্বে পরিদর্শক নাসির উদ্দিন সরকার ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সহিদার রহমান একটি টিম তুষারকে আটক করে।

৩১ জানুয়ারি কুমিল্লার আমলী আদালতের বিচারক জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইরফানুল হকের আদালতে ১৬৪ ধারায় ঘটনায় জড়িত থাকার বিষয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেন তুষার। তুষার বর্তমানে কারাগারে।

পরিবারের দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে সবার ছোট কাতার প্রবাসী আবুল কালাম। মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান আবুল কালাম পরিবার মুখে হাসি ফোটাতে প্রথমে সৌদি আরব গেলেও বর্তমানে কাতারের একটি কোম্পানিতে ৪ বছর যাবত কর্মরত আছেন। এর আগে সৌদিতে ছিলেন ৮ বছর।

আবুল কালাম জানান, প্রবাস জীবন অনেক কষ্টের মধ্যে যাচ্ছে। একমাত্র শিশু কন্যাকে হারিয়েছি। এখন তুষারের বিরুদ্ধে করা মামলা তুলে নিতে হুমকি ধামকি দিচ্ছে সন্ত্রাসীরা। দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে বিচার করে তুষারের ফাঁসির দাবি জানিয়েছেন তিনি।

আবুল কালাম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, কখনও ভাবিনি আমাদের সমাজে মানুষের মতো পোশাকধারী এতো অসভ্য জানোয়ার বসবাস করে। যদি আগে জানতে পারতাম তাহলে আমার একমাত্র মেয়েকে কখনও ঘর থেকে বের হতে দিতাম না।

সূত্র- প্রবাস বার্তা