এই মাত্র পাওয়া:

» মেয়ে বলে কি মানুষ না ?

প্রকাশিত: ১৪. নভেম্বর. ২০২২ | সোমবার

 

।। সৈয়দা সনিয়া আখতার ।।

স্ত্রীকে ভালো রাখার মানেই ভালো খাবার আর বাসস্থান নয়।তার আত্মিক শান্তিটা খুবই জরুরী।সবাই বিলাসিতায় সুখী হয়না।একজন স্বামী মানে যার হাত ধরে তার স্ত্রী সব ছেড়ে আজীবন কাটিয়ে দিবে, যার ফলে তার সর্বগুণ থাকা প্রয়োজন।অথচ সমাজ স্ত্রীর পেছনে লেগে থাকে তাকে জ্যাজ করতে।

আপনি জানেননা আপনার স্ত্রীর ত্যাগের গল্প,আপনার চোখে সে সর্বসুখী।এরকম হলে সমস্যা আপনার চোখের,সাথে অন্তরেরও।আপনি আসলে তাকে উপলব্ধি করতে পারেননা।একটা স্বামী শুধু জীবন সঙ্গীই নয়,বরং বাবা মায়ের স্নেহেরও অংশীদার, স্ত্রীর উত্তম বন্ধু। অথচ আপনার মধ্যে ইগো কাজ করে।

স্ত্রীর উপদেশ যদি শুনতে শরীর জ্বলে তাহলে বুঝে নিন শয়তান আপনাকে অহংকারে কাবু করে ফেলেছে।

 

স্ত্রীর প্রতি যেমন স্বামীর কর্তৃত্ব রয়েছে তদ্রুপ স্বামীর প্রতিও স্ত্রীর পূর্ণ হক্ব রয়েছে।সংসার জীবনে কলহ আসবেই কিন্তু সেই কলহে জবান দিয়ে যেন এমন কিছু বের যেন না হয় যেটা সাংসারিক জীবটায় বিষাদ করে দেয়।জীবন কেটে যাবে কিন্তু সহজেই কাবু করা যায়।

আপনি একটু ভাবুন,স্ত্রীর পরিবার থেকে কেউ আপনার বিরুদ্ধে কিছু বললে আপনি মারাত্মক চটে যাবেন।হয়তো কোনোদিন শ্বশুর বাড়ি পা রাখবেননা কথায় কথায় বউকে বাপের বাড়ির কথা নিয়ে খোটা দেন।অথচ প্রতিনিয়ত আপনার স্ত্রীর সাথে এটায় আপনি আপনার পরিবার করছেন ।যেখানে আপনিই পারেননা ফ্যামিলি ছাড়া কাউকে আপন করতে সেখানে স্ত্রীর উপরে কিভাবে চাপিয়ে দেন?

 

আপনি যদি না পারেন আপনার শশুর শাশুড়ি শালা শালি মাসে একদিন খোঁজ খবর নিতে। অথবা আসলে একটু ভালো আপ্যায়ন বা ব্যবহার করতে, তাহলে প্রতিনিয়ত আপনার স্ত্রী আপনার বাবা মা ভাই বোন তাদের সাথে কি করে তাল মিলিয়ে চলে? তারপর স্ত্রীর সাথে স্বামীর থাকে খারাপ ব্যবহার,সেও তো একজন মানুষ সেও কোন মায়ের সন্তান সেও ছোটবেলা থেকে আদরে মানুষ হয়েছে?

 

আমাদের দেশের শাশুড়িরা কখনোই ভাবেনা বউ একটা মেয়ে সে অন্যর বাড়িতে বড় হয়েছে তার বাবা মা তাকে অনেক যত্ন করে মানুষ করেছে বউকে ব্যবহার করতে চায় কাজের বুয়ার মতো। নিজের মেয়ে বিয়ে হলে তখন বলে মেয়ের শাশুড়ি ভালো না আমার মেয়েটাকে অনেক কষ্ট দেয়।একবার চিন্তা করে দেখেছেন কি আমি শাশুড়ি হিসাবে কতোটা ভালো।শাশুড়ি এটাও ভাবেনা আমিও একসময় বউ ছিলাম, বউও ভাবেনা আমিও একসময় শাশুড়ি হবো।মেয়েরা মেয়েদের প্রধান শক্রু।

 

মেয়ে বলে?মেয়ে বলে কি মানুষ না?আপনিও যেই মায়ের সন্তান সেও মায়েরই সন্তান বরং বাবার রাজকুমারিও।আচ্ছা কোন আইনে লেখা একটা মেয়েকে এসব সহ্য করতেই হবে?না রাষ্ট্রীয় আইন আর না ইসলামিক শরিয়াহ্।শরিয়তের দৃষ্টিতে নারীরা এহসান করে।না করলে বাধ্য নয়।স্ত্রীকে সম্মান দিতে শিখুন।কেননা আল্লাহ্ র কাছে ঐ ব্যক্তিই উত্তম যে তার স্ত্রীর নিকট উত্তম।আমার কথা না হাদিসের কথা।

 

একজন স্বামীকে খুব বেশিই সাপোর্টিভ হতে হয়।উত্তম জীবনসঙ্গী না পেলে জীবনটা এতো বেশি তিক্ত হয়!!!

এটাও ঠিক সবার নসীবে সব জোটেনা।থাকনা অপূর্ণ, চলুক এভাবেই!!

এইতো কয়টা দিন,মৃত্যু আসলেই তো সব শেষ

দুনিয়ায় কস্টের বিনিময়ে আমার আল্লাহর কাছে সুখ চেয়ে নেবো পরকালে।