» মৃত্যুপুরীর যুদ্ধগুলো উড়িয়ে নতুন করে বাঁচতে” : চিকিৎসকের কবিতামাখা আবেগঘন ষ্ট্যাটাস  

প্রকাশিত: ২৪. এপ্রিল. ২০২০ | শুক্রবার

দিদারুল আলম দিদার :
একজন চিকিৎসক। যিনি চিকিৎসা শাস্ত্রে উচ্চতর ডিগ্রিধারী। বিসিএস (স্বাস্থ্য) উত্তীর্ণ হওয়ায় যখন যেখানে সরকার পোস্টিং দেয় সেখানেই নিবেদিতপ্রাণ চিকিৎসক হিসেবে  মানুষের সেবা করছেন। তেমনি করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রমণ শুরু হওয়ার শুরুতেই এতটুকু ভাবেননি, বরাবরের মতোই নিজের পেশা অসুস্থ মানুষের চিকিৎসায় থেকেছেন অবিচল।
এখন নিজেই অসুস্থ হয়ে সুস্থতার জন্য লড়াই করছেন সময়ের এ সাহসী বীর চিকিৎসক। মানবতার এ সাহসী বীর চিকিৎসক সুস্থ হয়ে আবারও চিকিৎসক হিসেবে মানুষের পাশে দাঁড়াবেন এটাই পরম করুণাময় সৃষ্টিকর্তার কাছে অগণিত মানুষের দোয়া।
বৈশ্বিক মহামারি করোনায় আক্রান্ত সকল চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীসহ সকলেই সুস্থ হয়ে উঠবেন এটাই প্রত্যাশা। যে সকল চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী এ মহামারি প্রতিরোধে সকল ভীতিকে তুচ্ছ করে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন-তাদের স্যালুট।        ‘সময়ের সাহসী সন্তান ও বীর চিকিৎসকের ফেইসবুক পেইজ থেকে নেয়া কবিতামাখানো আবেগঘন ষ্ট্যাটাস হুবহু তুলে ধরা হলো। (নাম পরিচয় প্রকাশ নয় সুস্থতায় সকলের দোয়া কামনা।)’
“আমারো খুব ইচ্ছে হয়, আরেকবার
শালিকের ডাকে ঘুম ভেঙ্গে যাক
পূবের আকাশে রঙের ছোয়াঁ লেগে এলে
ছুঁটে যাই উন্মুক্ত ধানক্ষেত ধরে
ছুঁটে যাই সেই ছোট্টবেলার স্বপ্নগুলোয়
প্রজাপতি গান, দোয়েলের শীষ
গোল্লাছুটের প্রাণপণ দৌঁড়
সেঁচের পানিতে কাগজের নাও
বরশি বেঁয়ে কাটানো দুপুর
সন্ধ্যা হলে সাপলুডু আর
কুপির আলোয় গানের আসর
রূপকথা শুনে ঘুমিয়ে পড়া মায়ের বুকে
আমার খুব ইচ্ছে হয়
হাত মুখ চোখে ভরে নিয়ে যাই পৃথিবীর সমস্ত রূপ-রস
আমার খুব ইচ্ছে হয়
এই মৃত্যুপুরীর যুদ্ধগুলো উড়িয়ে দিয়ে
নতুন করে বাঁচতে অমন একটা জীবন।”
‘হে চিকিৎসক তোমার পাশে পুরো দেশ। মৃত্যুপুরীর যুদ্ধগুলো উড়িয়ে দিয়ে নতুন করে বাঁচতে অমন একটা জীবন জয় করবেই তুমি এবং তোমরা।’
করোনাভাইরাস জনিত সংক্রমণের প্রভাবে রোগীদের চিকিৎসায় জীবনের ঝুঁকি ও মায়াকে তুচ্ছ করে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন মেধাবী চিকিৎসক ডা: মঈন। শেষে মৃত্যুকে তার আলিঙ্গন করতে হয়েছে।  এ নিয়ে শুধু বলব তিনি সাহসী তিনি বীর তিনি শহীদ। এ দেশের চিকিৎসকন ও সচেতন মানুষ তাকে উদাহরণ হিসেবে স্মরণ করবেন অনন্তকাল।
তবে ডাঃ মঈনের মৃত্যুর পর আমাদের চিকিৎসা ব্যবস্থা ও লজিষ্ট্রিক সাপোর্ট এবং বিভিন্ন সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠে। এখন সে পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে অনেক। মানুষ সরকার গনমাধ্যমসহ অন্যান্য অনেকেই এখন অনেক সচেতন ও সোচ্চার ।
বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাস জনিত সংক্রমণে এখন প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশের হাজারো মানুষ। দেশে মৃত্যবরণের সংখ্যাও শত ছাড়িয়েছে ইতোমধ্যে। প্রতিদিনই আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। বিশ্বে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা লাখ ছাড়িয়ে তা জ্যামিতিক হারে বাড়ছে। শক্তি মহাশক্তির দেশে কার্যকর ঔষধ আবিষ্কারের চেষ্টা অব্যাহত।
নানা ঔষধ ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থায় সুস্থ হচ্ছেন অনেকেই। তবে আতংক কাটছেনা মানুষের। এরূপ পরিস্থিতি এখনকার মানুষ কখনো কল্পনাও করেনি।
এ মহামারি জনিত উদ্ভূত পরিস্থিতিতে চির চেনা বিশ্ব চরিত্র এখন আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।  বিশ্বের উন্নত ও অনুন্নত সকল দেশই এ মহামারির কবলে। এ মহামারির সংক্রমণ ঠেকাতে নেয়া পদক্ষেপের ফলে যেসব জায়গা মানুষের পদচারণায় মুখর থাকে, সেগুলো দেখলে এখন ভূতুড়ে মনে হয়। দেশে দেশে প্রতিদিনের চলাচলের উপর নিষেধাজ্ঞা, বিভিন্ন বানিজ্যিক অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানসহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ, ভ্রমণের উপর নিষেধাজ্ঞা, গণ-জমায়েতের উপর বিধিনিষেধ-এসব কারণে এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
একটি রোগে ঠেকানোর ক্ষেত্রে পুরো বিশ্ব যেভাবে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে, সেটি নজিরবিহীন। কিন্তু এর শেষ কোথায় ? সঠিক জবাব না থাকলেও নানা সীমাবদ্ধতার মাঝেও চলছে মানুষের যুদ্ধ। এ যুদ্ধে  জয়ী হবে মানুষ আবারও আলোকিত হবে পৃথিবী এবং প্রাণবন্ত হবে জীবনযাত্রা এ অপেক্ষা।