» বেনাপোল বন্দরে পণ্যবাহী ভারতীয় ট্রাকের চালক ও হেলপারদের শতভাগ স্বাস্থ্য পরীক্ষা হচ্ছে না বলে অভিযোগ

প্রকাশিত: ০৯. মার্চ. ২০২০ | সোমবার

 

খোরশেদ আলম , জাতির সংবাদ টোয়েন্টিফোর ডটকম      : বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্টে ভারত থেকে আসা পাসপোর্ট যাত্রীদের করোনা ভাইরাসের পরীক্ষা শত ভাগ করা হলেও। বেনাপোল বন্দরে পণ্যবাহী ভারতীয় ট্রাকের চালক ও হেলপারদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা মাঝে মধ্যে করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সম্প্রতি ভারতের দিল্লিতে ৩০জন করোনা ভাইরাস রোগীর সন্ধান পাওয়া গেছে এ সংবাদটি বিদেশের বিভিন্ন গনমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় বন্দর এলাকার মানুষ চিন্তিত হয়ে পড়েছে। বেনাপোল বন্দর ব্যবহারকারী বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা অভিযোগ করেছেন, ঢাকা ও চট্রগ্রামের পর বেশি ঝুকিতে আছে বেনাপোল বন্দর। কেননা এই বন্দর দিয়ে প্রতিদিন বাংলাদেশী সহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের প্রায় ১২ থেকে ১৫ হাজার পাসপোর্ট যাত্রী ও ১হাজার থেকে ১২শ ভারতীয় ট্রাক ড্রাইভার ও খালাশী ভারতে গমনাগমন করে থাকে। পাসপোর্ট  যাত্রী , ড্রাইভার ও খালাশীদের মাধ্যমে দেশে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অনেকে। এই বন্দরে ১৭ জানুয়ারী থেকে করোনা ভাইরাস সনাক্ত করণের কাজ শুরু হয় । ১৭ জানুয়ারী থেকে ৫ই মার্চ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৩লাখ পাসপোর্ট যাত্রী ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। এই একই সময়ে স্বাস্থ্য বিভাগের মেডিকেল টিম ১লাখ ৪৪হাজার ৩৩৩জনকে পরীক্ষা করেছে। অপর দিকে একই সময়ে বেনাপোল বন্দরে প্রায় ৪০হাজার বারতীয় ট্রাক ড্রাইভার ও খালাশীরা বেনাপোল বন্দরে প্রবেশ করেছে।কিন্তু ১১হাজার ৭৪১ জনকে পরীক্ষা করা হয়েছে। আজ শনিবার সকালে বেনাপোল চেকপোষ্ট ইমিগ্রেশন করোনা ভাইরাস সনাক্তকরণ টিমের শিপ্ট ইনচার্জ ডাঃ সুমন সেন জানান, আমরা বেনাপোল চেকপোষ্ট ইমিগ্রেশনের গত জানুয়ারী মাসের ১৭ তারিখ থেকে পাসপোর্ট যাত্রীদের করোনা ভাইরাস সনাক্তকরণের জন্য ৮ জন ডাক্তার সহ ৭২ সদস্যের একটি মেডিকেল টিম প্রতিদিন সকাল ৬টা থেকে ১২টা এবং ১২টা থেকে সন্ধা ৬টা পর্যন্ত দুই শিফটে বিভক্ত হয়ে সারাদিন কাজ করে যাচ্ছি। তা ছাড়া ট্রেন যাত্রীদের ১১ ফেব্রুয়ারী থেকে, ২৭ জানুয়ারী থেকে, ২৫ শে জানুয়ারী থেকে বিদেশি যাত্রী, এবং ২৬ জানুয়ারী থেকে বিদেশী এবং ভারতীয় পাসপোর্ট যাত্রীদের, ৬ ফেব্রুয়ারী থেকে ট্রেনের যাত্রী করোনা ভাইরাস পরীক্ষা শতভাগ স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে যাচ্ছি। গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত আমরা ১ লাখ ১৭ হাজার ৬৬৯ জন বাংলাদেশী পাসপোর্ট যাত্রী, ২৬ হাজার ৩৪১ জন ভারতীয় পাসপোর্টযাত্রী ও ৩২৩ জন বিভিন্ন দেশের যাত্রীদের করোনা ভাইরাসের পরীক্ষা করেছি। অপর দিকে একই সময়ে ভারতীয় ১১ হাজার ৭৪১ জন ড্রাইভার ও খালাশী ও ৪৫৮ জন বন্ধন ট্রেনের যাত্রীদের পরীক্ষা করা হয়েছে। অপর দিকে দীর্ঘদিন অতিবাহিত হতে চললেও মেরামত করা হয়নি বেনাপোল চেকপোষ্টে স্থাপিত সোয়াইন ফ্লুর নির্ণয় করার থার্মাল স্ক্যানারটি। স্ক্যানার মেশিনটি দীর্ঘদিন ধরে অচল অবস্থায় পড়ে আছে। স্থাপন করা হয়নি করোনাভাইরাস রোগী সনাক্ত করনের জন্য ইনফারেন্স থার্মোমিটার ও ইলেকট্রনিকস অণুবীক্ষণ যন্ত্র। শুধু মাত্র পোর্টেবল লেজার ডিটেক্টর মেশিনের সাহায্যে করোনা ভাইরাস রোগী সনাক্ত করণের কাজ চলছে। ভারত ফেরত পাসপোর্ট যাত্রীরা অভিযোগ করেছেন গোটা পৃথিবী যখন করোনাভাইরাসের জ্বরে আক্রান্ত তখন বেনাপোল চেকপোষ্টে আধুনিক যন্ত্রপাতি, লোকবল বৃদ্ধি এবং পর্যাপ্ত মাস্ক সরবরাহ করা দাবি পাসপোর্ট যাত্রীদের। এদিকে বেনাপোল চেকপোষ্ট ইমিগ্রেশন সুত্রে জানাগেছে, প্রতিদিন এ বন্দর দিয়ে গড়ে প্রতিদিন ১২ হাজার থেকে ১৫ হাজার পাসপোর্ট যাত্রী ভারত- বাংলাদেশ যাতায়াত করেন। করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে ইমিগ্রেশন চেকপোষ্টে দুইটি মেডিক্যাল টিম কাজ করছে সার্বক্ষনিক। মেডিকেল টিমের সাহায়্যের জন্য ৬ জন পুলিশ সদস্য তাদের সাথে কাজ করে যাচ্ছে।এছাড়া সচেতনতামূলক পরামর্শও দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে গড়ে প্রতিদিন ৫০০-৬০০ পন্যবোঝাই ট্রাক দেশে প্রবেশ করছে। যাতে চালক ও সহকারী মিলিয়ে ১হাজার থেকে-১২শ মানুষ দেশে প্রবেশ করে আবার ভারতে ফিরে যায়। বেনাপোল বন্দরের এক পরিসংখ্যান থেকে জানাগেছে গত ১৭ জানুয়ারী থেকে গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত প্রায় ৪০ হাজার ভারতীয় ট্রাক ড্রাইভার ও খালাশী বেনাপোল বন্দরে প্রশে করেছে। কিন্তু সেখানে মাত্র ১১ হাজার ৭৩১ জনকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়েছে। ভারতীয় ট্রাক চালক কার্তিক দাস বলেন, ট্রাক নিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের পরও স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যবস্থা নেই। এমনকি ভারতেও কোন চেকআপের ব্যবস্থা নেই। বেনাপোল চেকপোস্টে কর্মরত স্বাস্থ্য বিভাগ গত ১৭ দিনে মোট ৭ হাজার ১৩২ জন বিদেশী নাগরিকের স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন করেছেন। র্শাশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. ইউছুপ আলী জানান, সরকার ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের নির্দেশনায় করোনাভাইরাস প্রতিরোধে চেকপোস্টে মেডিক্যাল টিম কাজ করছে। যাত্রী প্রবেশের সময়সীমা পর্যন্ত মেডিকেল টিম কাজ করে। এই স্থলবন্দর দিয়ে বিশেষ করে চীন থেকে পাসপোর্টযাত্রীদের আসার সম্ভাবনা থাকায় তাদের চেকআপ করা হয়। ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রাকের চালক ও সহকারীরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন। বেনাপোল বন্দরের উপ-পরিচালক আব্দুল জলিল বলেন, ভারতীয় ট্রাক চালকদের বাংলাদেশে প্রবেশের আগে যাতে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয় তার জন্য দ্রুত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।