» বিএসএফের হয়রানি ও বেনাপোল বন্দরে আমদানি-রফতানি বন্ধের সমাধানে পরামর্শক আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত

প্রকাশিত: ২৬. ফেব্রুয়ারি. ২০২০ | বুধবার

 

খোরশেদ  আলম,জাতির সংবাদ টোয়েন্টিফোর ডটকম।।     : দেশের বৃহত্তম স্থল বন্দর বেনাপোল দিয়ে আমদানি রফতানি বন্ধ রয়েছে। এবং বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ স্টাফদের বাণিজ্যিক কাজে ভারতের পেট্রাপোল বন্দরে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করায়। বেনাপোল ও ভারতের পেট্রাপোল বন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি বন্ধ হওয়া সহ স্থগিত রয়েছে।

সেই উপলক্ষে এই মর্মে, বেনাপোল স্থল বন্দর কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে বন্দরের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। বন্দরের অতিরিক্ত পরিচালক মামুন কবির তরফদার এই উন্মুক্ত আলোচনায় প্রথমে বলেন, দুই দেশের মধ্যে পাসপোর্টধারী যাত্রীদের যাতায়াত স্বাভাবিক রয়েছে। কিন্তু ২৫ ফেব্রুয়ারি দুপুর থেকে এ পথে আমদানি-রফতানি বন্ধ রয়েছে।

উক্ত আলোচনা সভায়, বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ স্টাফ অ্যাসোসিয়েশন এর সাধারন সম্পাদক সাজেদুর রহমান এসময় বলেন, বাণিজ্যিক সুবিধার্থে দুই পাশের সিঅ্যান্ডএফ স্টাফরা কাগজপত্র প্রস্তুত করতে, বেনাপোল ও পেট্রাপোল বন্দরে যাতায়াত করে থাকেন কিন্তু হঠাৎ করে, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) সদস্যরা স্টাফদের ভারতে  যাতায়াতে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এটা বাংলাদেশের আমদানি ও রপ্তানি বানিজ্যের হুমকির সামিল। এতে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে।

এসময় উক্ত আলোচনায়, ভারতীয় সিএন্ডএফ এজেন্ট ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক কার্তিক ঘোষ বলেন যে, বিএসএফ এর আকষ্মিক এমন হটকারি সিদ্ধান্তে উভয় পক্ষের জন্য দুঃখজনক বিষয় যা আমাদের কাম্য নয়। আমরা আমাদের সাধ্য মত চেষ্টা করছি যত দ্রুত সম্ভব সমাধানের চেষ্টা করা হবে।

ভারতের ব্যাবসায়িক নেতা দিলিপ কুমার ও বলেন, আমরা আমাদের সংশ্লিষ্ট বিএসএফ কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি, তারা কোন আশানুরুপ মন্তব্য পেশ করেন নাই বিধায়। এ মুহুর্তে কোন সিএন্ডএফ এজেন্ট স্টাফ ভারতে প্রবেশ করতে পারবে না।

সিএন্ডএফ এজেন্ট এসোসিয়েশন এর সভাপতি মফিজুর রহমান সজন উপস্থাপন আলোচনায় বলেন, বিএসএফ এ-র বাঁধায় যদি অহেতুক আমাদের কর্মচারীদের ভারতে কাগজপত্র আমদানী রপ্তানি বানিজ্যের সহায়তায় ভারতে প্রবেশ করতে না পারে। তাতে দুই দেশের ব্যাবসায়িক সম্পর্কের অবন্নতি হবে, যাহা সরকারের রাজস্ব আহরণের বাঁধা হবে বলে মনে করি।

এসময় সি এন্ড এফ এজেন্ট স্টাফ এসোসিয়েশন এর বন্দর বিষয়ক সম্পাদক মোঃ আওয়াল হোসেন তার উস্থাপন আলোচনার বলেন, ভারত বাংলাদেশ উভয় বন্ধু প্রতিম দেশ তাই অচিরেই উভয় দেশের উর্ধ্বতন কর্মকতা ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দৃষ্টি আকর্ষণ করা উচিত ।

এদিকে বেনাপোল স্থল বন্দরের  বাংলাদেশি ট্রাকচালকেরা জানান, ভারতে প্রবেশের অপেক্ষায়, পণ্য বোঝাই দুই শতাধিক ট্রাক আটকা পড়েছে। ওদিকে পেট্রাপোল বন্দরেও একই অবস্থা।

বেনাপোল বন্দরের উপ-পরিচালক (প্রশাসন) আব্দুল জলিল বলেন, কোনো আলোচনা ছাড়াই বিএসএফের এমন সিদ্ধান্ত বেআইনি। এতে বাণিজ্য বন্ধ রয়েছে। পেট্রাপোল বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে বাণিজ্য সচল করার চেষ্টা করছি।

বেনাপোল কাস্টমস হাউসের সহকারী কমিশনার জনাব উত্তম চাকমা তিনি ও বলেন, যে বেনাপোলের সি এন্ড এফ এজেন্ট স্টাফরা যদি, ভারতে কোন অনৈতিক কর্মকান্ডে জড়িত থাকে। তাদের কে সনাক্ত করুন এবং কি পদ্ধতি ব্যবহার করে উভয় দেশের ব্যাবসায় কার্যক্রম  সচল থাকে। তার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য তার দপ্তর কর্তৃক প্রচেষ্টা অব্যহত আছে।