এই মাত্র পাওয়া:

» বঙ্গবন্ধু পরিষদের উদ্যোগে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও মুজিববর্ষের শুভ উদ্বোধন

প্রকাশিত: ১৭. মার্চ. ২০২০ | মঙ্গলবার

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

জাতির সংবাদ টোয়েন্টিফোর ডটকম।।    ১৭ই মার্চ, ২০২০, মঙ্গলবার সকাল ৯.০০টায় স্বাধীনতার মহান স্থপতি, মুক্তিযুদ্ধের মহানায়ক, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শুভ জন্মদিন এবং বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও মুজিববর্ষ উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু পরিষদের উদ্যোগে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ৮৭ বশিরউদ্দিন রোড, কলাবাগান, ঢাকায় মুজিববর্ষের শুভ উদ্বোধন ও আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ডা. এস এ মালেক এর সভাপতিত্বে ও কেন্দ্রীয় নেতা মতিউর রহমান লাল্টুর সঞ্চলনায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. প্রিয়ব্রতপাল বলেন, বঙ্গবন্ধুর জন্ম স্বার্থক হয়েছে। তিনি জন্মগ্রহণ করেছিলেন বলেই আজ আমরা স্বাধীন দেশ পেয়েছি। তার জন্ম না হলে বাংলাদেশ কখনও স্বাধীন হতো কিনা সন্দেহ ছিল। বঙ্গবন্ধুর কৃতিত্ব তিনি একটি ধর্মরাষ্ট্র পাকিস্তানকে পিছনে ফেলে বাঙালি দেশপ্রেমে অনুপ্রাণিত করে জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে একটি স্বাধীন দেশ প্রতিষ্ঠা করেছেন। এই জন্য তিনি স্বাধীনতার মহান স্থপতি, জাতির পিতা। বঙ্গবন্ধু তার কর্মের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু থেকে আজ বিশ্ববন্ধুতে রূপান্তরিত হয়েছেন। বঙ্গবন্ধু সোনর বাংলা গড়তে চেয়েছিলেন, কিন্তু তিনি সময় পাননি। আর সেই সোনার বাংলা বিনির্মাণের কাজ তারই সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা অত্যন্ত সফলতার সাথে সুসম্পন্ন করছেন। বাংলাদেশ আজ বিশ্বের উন্নয়নে রোল মডেল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসী বিভাগের অধ্যাপক ড. ফিরোজ আহমেদ বলেন, বঙ্গবন্ধুর একক নেতৃত্বে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। বঙ্গবন্ধু বাঙালির অর্থনৈতিক মুক্তির কথা ভাবতেন। অর্থনৈতিক মুক্তি ছাড়া স্বাধীনতা অর্থহীন। এই জন্য তিনি বাঙালির অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্যে বিভিন্ন গণমূখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন।  বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. লিয়াকত হোসেন মোড়ল বলেন, বঙ্গবন্ধু দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য রাজনীতি করেছেন। অধিকার হারা মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা, শোষন ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করা এবং ন্যায় ও আদর্শভিত্তিক সমাজ গঠনের জন্য বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানের স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে ২৪ বছরের সংগ্রাম এবং ১৪ বছরের কারাবাসের মাধ্যমে আন্দোলন-সংগ্রাম গড়ে তুলে তিনি আমাদের স্বাধীনতার স্বাদ পূরণ করেছেন। তিনি বেঁচে থাকলে আজ বাংলাদেশ সুইজারল্যান্ডের মতো দেশের পর্যায়ে উপনিত হতো। আমাদের দুর্ভাগ্য আমরা আমাদের জাতির পিতাকে বাঁচিয়ে রাখতে পারিনি। তিনি আমাদের অনুপ্রেরণা, সাহস, শক্তি ও মনোবল দিয়েছেন। আমরা তার আদর্শ, নেতৃত্ব ও দেশপ্রেমকে অনুসরণ করে আধুনিক বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে পারি।
সভাপতির বক্তব্যে ডা. এস এ মালেক বলেন, বঙ্গবন্ধু জাতীয়তাবাদী মহান নেতা ছিলেন। তিনি ধর্মান্ধতা ও মৌলবাদকে সমর্থন করতেন না। তিনি অসম্প্রদায়িক ও ধর্মনিরপেক্ষ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার যে স্বপ্ন নিয়ে কাজ করেছিলেন, তার প্রতিফলন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে গড়ে তুলতে সক্ষম হন। তিনি জানতেন ধর্মান্ধতা মানুষের শুধু ক্ষতিই করে। কোন সুখ-শান্তি ও কল্যাণ বয়ে আনতে পারে না। এই জন্য তিনি স্বাধীনতার পরে আমাদের সংবিধানে ধর্ম নিরপেক্ষতার কথা উল্লেখ করেছিলেন। বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানের ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে যে সংগ্রাম করেছিলেন ও ধর্মনিরপেক্ষ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন, সেই ধর্মান্ধতার বিষবাষ্প আজ আবার আমাদের সমাজে মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। মানুষের কল্যাণ স্বাধন করতে হলে ধর্মের ভিত্তিতে ভেদাভেদ থাকলে দেশের কোন কল্যাণ ও অগ্রগতি সাধিত হয়না। অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন জাতীয় গণতান্ত্রিক লীগের সভাপতি এম এ জলিল, বঙ্গবন্ধু পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতা- প্রকৌশলী এস এম সিরাজুল ইসলাম, হিমাদ্রি শেখর, ড. জাহাঙ্গীর আলম, একে শামসুদ্দিন খাজা, ড. শংকর তালুকদার, লুৎফর রহমান, মোঃ আজিজুল হক, বাংলাদেশ আনুবিক শক্তি কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মাহবুবুল হক, নুরুদ্দিন চৌধুরী, আশরাফ উদ্দিন, বীমা বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জিএম হেলাল উদ্দিন, স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত ক্রীড়াবিদ কাজল দত্ত প্রমুখ। পরে কেক কেটে অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করা হয়।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৩৬ বার

[hupso]
Facebook Pagelike Widget