এই মাত্র পাওয়া:

» প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পরও বিমানবন্দরে করোনা পরীক্ষার পিসিআর ল্যাব স্থাপন করা হয়নি

প্রকাশিত: ১৪. সেপ্টেম্বর. ২০২১ | মঙ্গলবার

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

জাতির সংবাদ টোয়েন্টিফোর ডটকম।।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্দেশ দেওয়ার এক সপ্তাহ পরও বিমানবন্দরে করোনা পরীক্ষার পিসিআর ল্যাব স্থাপন করা হয়নি। অথচ আরব আমিরাতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রবেশের জন্য বিমানবন্দরেই করোনা পরীক্ষার শর্ত রয়েছে।

এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ৬ সেপ্টেম্বর সোমবার দুপুরে মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী দুই-তিন দিন অথবা দ্রুততম সময়ের মধ্যে তিন বিমানবন্দরে (হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর) পিসিআর ল্যাব বসানোর নির্দেশ দেন।

ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পার্কিং গ্রাউন্ডে এজন্য স্থানও নির্ধারণ করা হয়। এর পরও ল্যাব স্থাপন না হওয়ায় সংকটে পড়েছেন প্রায় আড়াই লাখ প্রবাসী শ্রমিক, যারা সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশে চাকরি করেন। বিভিন্ন সময় ছুটিতে তারা দেশে এসে আটকা পড়েন। বিলম্ব যত হবে, সংকট তত বাড়বে। চাকরি হারানোর আশঙ্কাও রয়েছে।

দেশে অনেক আন্তর্জাতিক মানের ল্যাব আছে। আইসিডিডিআরবি, স্কয়ার হাসপাতাল, ল্যাবএইড হাসপাতালসহ অনেক নামিদামি হাসপাতালে উন্নত মানের পিসিআর ল্যাব আছে। বিমানবন্দরে তাদের ল্যাব চালানোর সক্ষমতাও আছে। ওপেন প্রতিযোগিতার মাধ্যমে তাদের মধ্য থেকে সবচেয়ে ভালো ল্যাবকে অনুমোদন দেওয়া যেতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম বলেন, ‘বিমানবন্দরে পিসিআর ল্যাব স্থাপনের জন্য প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়কে সবকিছু বুঝিয়ে দিয়েছি। কাদের পিসিআর ল্যাব আছে, কাদের ল্যাব চালানোর সক্ষমতা আছে-সবকিছুর তালিকা দেওয়া হয়েছে। এটা প্রতিযোগিতার মাধ্যমে হওয়াই ভালো। খোঁজ-খবর নিয়ে যারা ভালো তাদের দেওয়া উচিত।’

তিনি বলেন, ‘বিমানবন্দরে পিসিআর ল্যাব স্থাপনের কাজটি দ্রুত শুরু হয়ে যাবে। তবে এর পুরোটা নির্ভর করছে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ওপর।’

বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, শ্রীলঙ্কাসহ ১৫টি দেশ থেকে শর্তসাপেক্ষে সম্প্রতি ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয় সংযুক্ত আরব আমিরাত। দেশটির নতুন নিয়ম অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় অনুমোদনের জন্য অনলাইনে আবেদন করতে হবে। ভ্রমণ শুরুর আগে টিকা নেওয়া এবং ভ্রমণের সর্বোচ্চ ৪৮ ঘণ্টা আগে পিসিআর ল্যাবে পরীক্ষা করে করোনার নেগেটিভ সনদ পেতে হবে।

এছাড়া যাত্রা শুরুর আগমুহূর্তে আবারও করোনার র‌্যাপিড টেস্ট বা পিসিআর টেস্ট করাতে হবে। তবে দেশের কোনো বিমানবন্দরে পিসিআর পরীক্ষার সুবিধা না থাকায় নিষেধাজ্ঞা তুলে দেওয়ার পরও এ দেশের নাগরিকদের আমিরাত ভ্রমণ সম্ভব হচ্ছে না। এতে বিশেষ করে প্রবাসী শ্রমিকদের ভোগান্তি দেখা দিয়েছে।

অভিবাসন-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভারত, শ্রীলঙ্কা, এমনকি পাকিস্তানের বিমানবন্দরে আরটি পিসিআর ল্যাব অনেক আগেই তৈরি করে কর্মী পাঠানো শুরু করলেও শ্রমবাজার প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। সৌদি আরবের পরেই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার সংযুক্ত আরব আমিরাত। ২০১২ সাল থেকে কয়েক বছর শ্রমবাজার বন্ধ থাকার পর আবার খুললেও সুবিধা পাচ্ছেন না এ দেশের প্রবাসী কর্মীরা।

করোনায় শ্রমবাজার খুললেও বিমানবন্দরে আরটি পিসিআর ল্যাব টেস্টের সুবিধা না থাকায় আটকা পড়ছেন প্রায় আড়াই লাখ শ্রমিক। তাদের অনেকেই জানান, কারো কারো ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। অনেকের ছয় মাসের অধিক হয়ে গেছে, তারাও যেতে পারছেন না। আবার যারা ভিজিটে যাবেন, তাদের কোম্পানি অ্যালাউ করবে কি না, এছাড়া যাদের চাকরি চলে গেছে, বেকার হয়ে গেছেন-এর দায়ভার কে নেবে?

সিভিল এভিয়েশনের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মফিদুর রহমান সংবাদ মাধ্যমকে বলেছেন, বিমানবন্দরে পিসিআর ল্যাব স্থাপনের জায়গা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তবে গতকাল সোমবার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গিয়ে দেখা যায়, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ল্যাব বসানোর কোনও কার্যক্রম শুরু করেনি।

Facebook Pagelike Widget