» নবীন আইনজীবীদের জন্য ৫০ লাখ টাকার ফান্ড: সুপ্রিমকোর্ট বার  

প্রকাশিত: ১১. এপ্রিল. ২০২০ | শনিবার

জাতির সংবাদ টোয়েন্টিফোর ডটকম: 
করোনাভাইরাস জনিত উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে পেশায় ক্ষতিগ্রস্ত আইনজীবীদের প্রতি সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতি (সুপ্রিমকোর্ট বার)।
সমিতির সদস্যদের চিকিৎসার জন্য সুদমুক্ত ঋণ, নবীন আইনজীবীদের ৫০ লাখ ফান্ড গঠনসহ ৫ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সুপ্রিমকোর্ট বার-এর  নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটি।
সুপ্রিমকোর্ট বার-এর নবনির্বাচিত  সম্পাদক ব্যারিস্টার মো: রুহুল কুদ্দুস কাজল আজ এ কথা জানান।   তিনি বলেন, সুপ্রিমকোর্টের ইতিহাসে আইনজীবীদের কল্যানে ক্রান্তিকালীন ফান্ড গঠন এটিই প্রথম। পর্যায়ক্রমে এ ফান্ড বৃদ্ধি করা হবে। নবনির্বাচিত কমিটি আইনজীবী কল্যানে এবং সুপ্রিমকোর্ট বারকে যুগোপযোগী করতে সম্ভব সব কিছু করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করে।
এ বিষয়ে বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশ করা হয়েছে ।  বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, করোনার কারণে দীর্ঘদিন আদালতের অনির্ধারিত বন্ধ এবং দেশ কার্যত লক ডাউনে থাকায় পেশাজীবী হিসাবে আমরা এক অনিশ্চয়তার মধ্যে পতিত হয়েছি।  বিশেষ করে আমাদের তরুণ বন্ধুদের বিষয়টি আমাদেরকে উদ্বিগ্ন করেছে বেশি।  এমন এক অস্বস্থিকর পরিস্থিতিতে, সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির নবনির্বাচিত কার্যকরি কমিটি ১০ এপ্রিল এক অনানুষ্ঠানিক সভায় সমিতির সদস্যদের কল্যাণে কতিপয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।  সিদ্ধান্তসমূহ নিম্নরূপ:
১। সমিতির বিদ্যমান Benevolent Fund Loan Rules,  ২০০১ মোতাবেক কোনও সদস্য শুধুমাত্র ‘চিকিৎসা সুবিধার’ জন্য তার জমাকৃত অর্থের ৯৫% ঋণ হিসাবে নিতে পারেন।  আমরা এটিকে শিথীল করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি যে, একজন আইনজীবী তার জমাকৃত টাকার ৯৫% অথবা ২৫ হাজার টাকা, যে অংকটি কম, সে পর্যন্ত বিনা সুদে ঋণ গ্রহণ করতে পারবেন।  তিনি তিন বছর পর্যন্ত সময় পাবেন এটি পরিশোধ করার জন্য।
২। আমরা জানি Benevolent Fund এর এই সুবিধা অনেক নবীণ আইনজীবী পাবেন না। তাদের কথা বিবেচনা করে আমরা আপাতত ৫০ লক্ষ টাকার একটি আপদকালীন ফান্ড সৃষ্টির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি। একজন সদস্যের আবেদনক্রমে case to case বিবেচনায় এই ফান্ড থেকে তিন বছরের মধ্যে পরিশোধযোগ্য সুদমুক্ত ঋণের আদলে অর্থ বরাদ্দ করা হবে।
৩। করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় আইনজীবীদের জন্য বিশেষ অর্থ বরাদ্দ ও সুদমুক্ত ঋণ সুবিধা চেয়ে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল ও সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছে দাবি জানানো হবে।
৪। ভারত ও পাকিস্তানের আদলে Virtual Court চালুর জন্য প্রধান বিচারপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করা হবে।
৫। সমিতির সামর্থ্যবান সদস্যদের Voluntary contribution এর মাধ্যমে ‘করোনা উদ্ভূত আইনজীবী সহায়তা ফান্ড’ সৃষ্টিতে সচেষ্ট থাকবো এবং একজন বিজ্ঞ সদস্যের প্রয়োজন মাফিক এই ফান্ড থেকে অনুদান হিসাবে অর্থ দেওয়া হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, নতুন কমিটি আগামী ১৩ এপ্রিল  দায়িত্ব গ্রহণ করে সিন্ধান্ত সমূহ কার্যকর করবে। বিজ্ঞপ্তিতে সম্পাদক ব্যারিষ্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, আমরা নির্বাচিত হওয়ার দু’দিনের মাথায় গত ১৫ মার্চ, সমিতির সভাপতি সিনিয়র এডভোকেট এ এম আমিন উদ্দিন এর নেতৃত্বে অনানুষ্ঠানিক বৈঠক করে আমাদের এক বছরের কর্ম পরিকল্পনা ঠিক করি। এ লক্ষ্যে  আমরা কিছু হোমওয়ার্কও শুরু করি। তিনি, সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সদস্যদের উদ্দেশ্যে জানান ,  “আপনারা সকলেই অবগত আছেন, গত ৫ এপ্রিল আমাদের আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব নেয়ার কথা ছিল। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির কারণে, সরকারী ছুটি বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং এর ফলশ্রুতিতে এজিএম অনুষ্ঠিত না হওয়ায়, আমরা পূর্বের কমিটির কাছ থেকে এখনো  দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারিনি। আমরা আগামী ১৩ এপ্রিল দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারবো বলে আশা করছি।”
তিনি বলেন, উদ্ভূত পরিস্থিতিতেও নতুন কমিটি আইনজীবীদের কল্যানে সমিতির পক্ষ থেকে  কি কি করা যায়, সেটা নিয়ে আলোচনা করেছে। এ বিষয়ে সুপ্রিমকোর্ট বার এর সাবেক নেতৃত্ব,  সিনিয়র আইনজীবীসহ নানা পর্যায়ে পরামর্শ করা হয়েছে ।
কাজল বলেন, “দু:সময়ে আমরা একে অপরের পাশে থাকবো এটা সকলেই প্রত্যাশা করি। আমরা আমাদের কার্যক্রমে শতভাগ সততা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহীতা নিশ্চিত করতে চাই।”