» দেশে ৪৩ শতাংশের বেশি নারী পুরোপুরিভাবে গৃহস্থালির কাজে যুক্ত

প্রকাশিত: ০৭. মার্চ. ২০২০ | শনিবার

জাতির সংবাদ টোয়েন্টিফোর ডটকম ।।
‘নারীর অমূল্যায়িত কাজের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি’ শীর্ষক সংলাপ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।
‘নারীর অমূল্যায়িত কাজের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি’ শীর্ষক সংলাপ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।
দেশে ৪৩ শতাংশের বেশি নারী পুরোপুরিভাবে গৃহস্থালির কাজে যুক্ত। পুরুষ ১ শতাংশের কম। দেশের মোট জাতীয় উৎপাদনে (জিডিপি) নারীর অবদান ২০ শতাংশ। তবে গৃহস্থালির কাজকে জাতীয় আয় পরিমাপের পদ্ধতিতে (এসএনএ) যোগ করা গেলে, জিডিপিতে নারীর অবদান দাঁড়াবে ৪৮ শতাংশ।

‘নারীর অমূল্যায়িত কাজের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি’ শীর্ষক সংলাপ অনুষ্ঠানে বৃহস্পতিবার এ তথ্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক সায়েমা হক। রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টার ইনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন (এমজেএফ)।

অনুষ্ঠানের মূল প্রবন্ধে বলা হয়, কর্মজীবী একজন নারী দিনে গড়ে তিন ঘণ্টার বেশি ঘরে কাজ করেন। পুরুষকে করতে হয় দেড় ঘণ্টার কম। অন্যদিকে বাইরে কাজ করেন না এমন নারী প্রায় ছয় ঘণ্টা গৃহস্থালির কাজ করেন। পুরুষ করেন দুই ঘণ্টার কম। নারীর ক্ষমতায়নে নারীবান্ধব অবকাঠামোগত বরাদ্দ বৃদ্ধি, সামাজিক নিরাপত্তা, জনসেবা ও ঘরের ভেতরের কাজ বা দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া উচিত বলেও এ প্রবন্ধে উপস্থাপন করা হয়।

অনুষ্ঠানে নারীর অস্বীকৃত ও অমূল্যায়িত গৃহস্থালি ও সেবামূলক কাজের মূল্যায়ন করে, তা জাতীয় জিডিপিতে অন্তর্ভুক্ত করা ও জাতীয় আয় পরিমাপের পদ্ধতি সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন বক্তারা। এ সময় তাঁরা স্যাটেলাইট অ্যাকাউন্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে নারীর অবমূল্যায়িত কাজকে তুলে ধরার দাবিও জানান। স্যাটেলাইট অ্যাকাউন্ট ব্যবস্থা হচ্ছে এমন একটি হিসাব পদ্ধতি, যা দিয়ে ঘরের অ-অর্থনৈতিক সেবামূলক বা গৃহস্থালি কাজ মাপা হয়।

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, যেসব লেনদেন টাকার অঙ্কে মূল্যায়ন করা যায় না, সেটি কোনোভাবেই জাতীয় আয়ে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব নয়। নারীর এই কাজের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিতে হলে আগে কিছু ব্যবস্থার পরিবর্তন আনতে হবে। তবে নারীদের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বিষয়গুলোকে বিবেচনা করা হবে বলে জানান তিনি।

গৃহস্থালির কাজ সব সময় ঘরের মধ্যে নয়, বাইরেও হয় বলে উল্লেখ করেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা হোসেন জিল্লুর রহমান। তিনি বলেন, গৃহস্থালির কাজ সহজ করার জন্য রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ দরকার, তাতে উৎপাদনশীল খাতে নারীর অংশগ্রহণ বাড়বে।

সামাজিক ন্যায্যতা, নারীর অধিকার, সমতা ও মর্যাদা দিতে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দরকার বলে মন্তব্য করেন ইউএনডিপির মানব উন্নয়ন কার্যালয়ের সাবেক পরিচালক সেলিম জাহান। তিনি বলেন, দুনিয়াব্যাপী মজুরিভিত্তিক কাজে প্রাধান্য পুরুষের, সেবামূলক কাজে নারীদের। আবার নারীর অমূল্যায়িত কাজের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক গুরুত্ব রয়েছে। এ জন্য জাতীয় আয়ের হিসাবে নারীর এ ধরনের কাজ অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। এতে কিছু সমস্যা থাকলেও অসম্ভব নয়।

সূচনা বক্তব্যে এমজেএফের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম বলেন, দেশে নারীরা অনেক দূর এগিয়েছে। নারীর গৃহস্থালি ও সেবামূলক কাজের মূল্যায়ন শুধু টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট অর্জনের জন্য নয়, এতে নারী-পুরুষের মধ্যে বৈষম্য কমবে। পাশাপাশি নারীর মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে, নারীর প্রতি সহিংসতা কমবে।

জেন্ডার বাজেটের পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন হয় না বলে মন্তব্য করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক শরমিন্দ নিলোর্মী। তিনি বলেন, স্যাটেলাইট অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে নারীর ঘরের কাজের স্বীকৃতি মিললে শিশু থেকে শুরু করে সবার মধ্যে এক ধরনের ইতিবাচক উপলব্ধি তৈরি করবে। শ্রমশক্তিতে গ্রামের তুলনায় শহুরে নারীর অংশগ্রহণের হার কম হওয়ার কারণও ব্যাখ্যা করেন তিনি।

নিজেরা করি’র সমন্বয়ক খুশী কবির বলেন, যে কাজগুলো সাধারণভাবে নারীর কাজ বলা হয়, সেসব কাজে পুরুষের অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে। এতে নারীর ঘরের কাজের মূল্যায়ন হবে।

অনুষ্ঠানে এ ছাড়াও বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।