এই মাত্র পাওয়া:

» দেশের উন্নতির জন্যই প্রয়োজন সচেতন জনগোষ্ঠীঃ হানিফ সংকেত

প্রকাশিত: ০৯. জানুয়ারি. ২০২১ | শনিবার

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

 

জাতির সংবাদ টোয়েন্টিফোর ডটকম।। 
বৈশ্বিক মহামারী করোনা দুর্যোগের কারণে বিশ্বব্যাপী ২০২০ ছিল এক ভয়ংকর বছর। এ সময় দেশে দেশে থেমে গেছে অর্থনীতির চাকা। মন্দার মুখে পড়েছে সারা বিশ্ব। বাংলাদেশেও এই দুর্যোগে ব্যাপকভাবে আর্থিক ক্ষতি হয়েছে, শিক্ষা ক্ষেত্রেও পিছিয়ে পড়েছে শিক্ষার্থীরা।

বড় বড় রাষ্ট্রও এখন করোনার দ্বিতীয় ঢেউ নিয়ে বিপর্যস্ত। ২০২১ সালের বড় চ্যালেঞ্জ হলো এই করোনা ঝুঁকি থেকে মানুষকে মুক্ত করা। সে জন্য যত দ্রুত সম্ভব ভ্যাকসিন দেওয়ার ব্যবস্থা করা।
শিক্ষা ক্ষেত্রে যে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে তা সচল করা, শিক্ষার্থীদের ঝুঁকিমুক্ত শিক্ষা ব্যবস্থা  নিশ্চিত করা। কারণ সন্তানদের শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন অভিভাবকরা। করোনার কারণে এলোমেলো হয়ে যাওয়া শিক্ষা ব্যবস্থাকে একটি ব্যবস্থাপনার মধ্যে আনাও একটি বড় চ্যালেঞ্জ। করোনাভাইরাসের কারণে দেশে নতুন করে এক দরিদ্র-শ্রেণি সৃষ্টি হয়েছে।

কর্মহীন হয়ে পড়েছে লাখ লাখ মানুষ। মানুষের আয়ও কমে গেছে। এদের পুনর্বাসনও একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
দেশের দুর্যোগ ও মানুষের বিপদকে পুঁজি করে যেসব অসাধু ব্যবসায়ী এবং রাজনীতিবিদ অবৈধভাবে অর্থ উপার্জন করেছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা। কোনোক্রমেই যেন আইনের ফাঁক গলে এরা বেরিয়ে যেতে না পারে সে ব্যাপারে সচেষ্ট থাকা।

আমি রাজনীতি, অর্থনীতি ও সমাজনীতি নিয়ে বেশি কিছু বলব না, একজন ক্ষুদ্র সংস্কৃতিসেবী হিসেবে বলব, দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের জন্য আগামী বছরটা একটি বড় চ্যালেঞ্জের বছর। দেশের সংস্কৃতি বলতে গেলে অনেকটা ধ্বংসের পথে। মিডিয়া জগতে নেমেছে অর্থনৈতিক ধস। পাশাপাশি মানহীন ছবি ও অনুষ্ঠান নির্মাণ করাতে দর্শকরাও দেশীয় চ্যানেল এবং সিনেমা হল থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। অনেকেই ভার্চুয়াল মিডিয়া নির্ভর হয়ে পড়েছে।

একই ধরনের অনুষ্ঠান, গৎবাঁধা সংবাদ, টকশো দর্শককে ধরে রাখতে পারছে না। আর করোনার ছুটিতে নিয়মিত বাড়িতে টেলিভিশনের সামনে বসে থেকে কাক্সিক্ষত মানের অনুষ্ঠান দেখতে না পেয়ে আরও বেশি হতাশ হয়েছেন দর্শকরা। আর চলচ্চিত্রশিল্পের অবস্থা তো আরও ভয়াবহ। তাই চলতি বছরে সাংস্কৃতিক অঙ্গনের জন্য প্রধান চ্যালেঞ্জ-টিভি বা সিনেমা থেকে মুখ ফেরানো দর্শকদের আবারও দেশীয় টিভিমুখী করা আর হলে ফিরিয়ে আনা। সেজন্য প্রয়োজন মানসম্পন্ন অনুষ্ঠান নির্মাণ এবং ছবি নির্মাণ-যে ছবি পরিবার নিয়ে হলে বসে দেখা যাবে। আজকাল সাংস্কৃতিক অঙ্গনে কাজের মূল্যায়নও যথার্থ হচ্ছে না। দেওয়া হচ্ছে অপাত্রে পুরস্কার। তাই পুরস্কারও হারাচ্ছে তার গুরুত্ব। পারস্পরিক সম্পর্ক, তোষামোদ ইত্যাদি কারণেও অনেকের পুরস্কার প্রাপ্তি ঘটছে। আর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে সচেতন জনগোষ্ঠী তৈরি করা। আমাদের সবাইকে সব ক্ষেত্রেই আরও সচেতন হতে হবে। স্বাস্থ্য সচেতনতার বিষয়টি অভ্যাসে পরিণত করতে হবে। করোনা থেকে রক্ষা পেতে আমাদের স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে। নিজের দেশ, পরিবেশ, সংস্কৃতি, মানুষে মানুষে সম্প্রীতি, সৎ, আদর্শ, সৎ নীতি সব ব্যাপারেই প্রয়োজন সচেতনতা। কারণ যত উন্নয়নই হোক না কেন সচেতন না হলে তার সঠিক রক্ষণাবেক্ষণও সম্ভব নয়। সুতরাং দেশের উন্নতির জন্যই প্রয়োজন সচেতন জনগোষ্ঠী।

সূত্র – বাংলাদেশ প্রতিদিন

Facebook Pagelike Widget