এই মাত্র পাওয়া:

» দীর্ঘ ৩ বছর পর সুন্দরগঞ্জে চাঞ্চল্যকর জেলে সুবাস দাস হত্যার রহস্য উদঘাটন 

প্রকাশিত: ১২. জানুয়ারি. ২০২১ | মঙ্গলবার

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

 

সঞ্জয় সাহা, গাইবান্ধা প্রতিনিধিঃ গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জের দক্ষিন মরুয়াদহ গ্রামে দীর্ঘ ৩ বছর পর চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ড জেলে সুবাস চন্দ্র দাস (৪৫)এর হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে গাইবান্ধা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেষ্টিগেশন (পিবিআই) পুলিশ।

এ ঘটনায় স্থানীয় ২ যুবককে গ্রেফতার করে আদালতে স্বীকারোক্তি মুলক জবানবন্দি প্রকাশ করা হয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে- গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ৯ নং ছাপড়হাটি ইউনিয়নের দক্ষিন মরুয়াদহ গ্রামে ৩ সন্তান নিয়ে বসবাস করতেন জেলে সুবাস দাস। পরিবারের সদস্যদের অভাব মেটাতে প্রতিরাতেই তিনি বিভিন্ন বিলে মাছ ধরার জন্য বাসা থেকে বের হতেন। আর মাছ বিক্রি করেই সংসার চালাতেন তিনি।

কিন্তু ঘটনার নির্মম পরিহাস- ২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর রাত ১১টার দিকে পাশের সোনালের পাড় বিলে মাছ ধরতে যায় সুবাস দাস। এর পর ৫ দিন পর অর্থাত ২ নভেম্বর সোনালের পাড় বিল থেকে তার লাশ উদ্ধার করে সুন্দরগঞ্জ পুলিশ।

পরের দিন নিহত সুবাশের স্ত্রী কবিতা রানী বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামীদের বিরুদ্ধে সুন্দরগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং- ৩, তারিখ ৩/১১/২০১৮ ইং। ৩০২/২০১/৩৪ পেনাল কোডের জিআর নং- ৪৮৮/২০১৮। কিন্তু
মামলাটি থানায় দীর্ঘদিন থাকলেও আসামী না ধরায় আলোর মুখ দেখেনি নিহতের পরিবার। এতে ন্যায্য বিচার পাওয়ার আশা ছেড়েই দেন তারা।

পরে ২০২০ সালের ১৫ জুলাই মামলাটি পিবিআই আসলে পুলিশ সুপার এ,আর এম আলিফ এর নির্দেশে মামলাটির তদন্ত ভার গ্রহন করে পুলিশ পরিদর্শক শফিকুল ইসলাম। তিনি বিভিন্ন তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে কুমিল্লা থেকে ঘটনার মূল আসামি রাঙ্গা মিয়া (৪২)কে গ্রেফতার করেন। আসামি রাঙ্গা মিয়া দক্ষিণ মরুয়াদহ গ্রামের সোনালেরপাড় নামক স্থানের মৃতঃ দবির উদ্দিন এর পুত্র।

এতে খুলতে থাকে ঘটনার জট। আলোর মুখ দেখেন নিহতের পরিবার।

এর পর তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী চলতি সালের ৮ জানুয়ারি গাইবান্ধা শহরের ডিবিরোড থেকে অন্যতম প্রধান আসামি তাজুল ইসলাম (২৭) ওরফে তাজরুল কে গ্রেফতার করলে তারা দুজনে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি মুলক জবানবন্দি দেয়। তাজুল ইসলাম দক্ষিন মরুয়াদহ গ্রামের সিরাজুল ইসলাম এর পুত্র।

এদিকে পুলিশ বলছে- এই হত্যাকাণ্ডে ৬ জন আসামি জড়িত ছিল। মুলত বিলে মাছ মারাকে কেন্দ্র করে সুবাস এবং আসামিদের কথা-কাটাকাটির এক পর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে সুবাশকে হত্যা করে রাঙ্গা মিয়া ও তার গং। ইতিমধ্যে ৩ জন আসামি গ্রেফতার হয়েছে।

“মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেষ্টিগেশন (পিবিআই) এর পুলিশ পরিদর্শক শফিকুল ইসলাম” জানান- এটি একটি হত্যাকান্ড। পিবিআই এর পুলিশ সুপার স্যার এর নির্দেশে তদন্তের কাজ শুরু করি। কয়েকজন ব্যাক্তির উপর বাদীপক্ষের সন্দেহ হলে তাদের খোজার চেষ্টা করি। দীর্ঘদিন পর আসামিদের ধরতে সক্ষম হই। তারা জবানবন্দি দেয়। এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠ বিচার যেন হয় এ জন্য তদন্ত সম্বলিত পুলিশ প্রতিবেদন দ্রুত সময়ের মধ্যে জমা দিতে সক্ষম হবো বলে আশা রাখছি।

অন্যদিকে পিবিআই এর গাইবান্ধা ” পুলিশ সুপার এ আর এম আলিফ” ঘটনার বিবরন দিয়ে বলেন- ২০১৮ সালের ২৮ অক্টোবর ইং তারিখ রাত্রে জেলে সুবাস দক্ষিন মরুয়াদহ গ্রামের সোনালের পাড় বিলে মাছ ধরতে এলে আসামি রাঙ্গা মিয়া ও তাজুল ইসলাম দুই হাত দিয়ে তার গলা চেপে ধরে গামছা দিয়ে মুখ পেচিয়ে ধরে সুবাসকে পানিতে ডুবিয়ে রাখলে ৫ থেকে ৭ মিনিট পর সে নিস্তেজ হয়ে পড়ে। পরে মৃত্যু নিশ্চিত করার জন্য চাকু দিয়ে দুই হাতের কব্জির গোড়া ও দুই পায়ের গোড়া কেটে দেয়। প্রথমে ধান ক্ষেতে লাশ ফেলে রাখে। লাশের গন্ধ বের হবে ভেবে তার ৫ দিন পর আরেকটু দূরে অন্য একটি বিলে কচুরিপানার নিচে লাশ ডুবিয়ে রাখে। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে।

তিনি আরো বলেন- ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য আসামিদের খুজে বের করে আইনের আওতায় এনে বিজ্ঞ আদালতে সোর্পদ করে এবং তদন্ত শেষ করে অভিযোগ পত্র দাখিল করে আইন যাতে প্রয়োগ হয় সেটি নিশ্চিত করবো।

পিবিআই অত্যান্ত নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে প্রকৃত আসামীদের গ্রেফতার করায় তাদের ধন্যবাদ জানিয়েছে নিহতের পরিবার এর লোক ও স্থানীয়রা।

সে সাথে অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতার করে প্রশাসনের কাছে সকল আসামীদের ফাসির দাবী জানিয়েছেন তারা।

Facebook Pagelike Widget