» ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে পোস্টার থেকে ২৫০০ টন বর্জ্য বছরব্যাপী ঢাকা শহরে ১০,০০০ টন লেমিনেটেড পোস্টারের বর্জ্য উৎপাদন

প্রকাশিত: ২৮. জানুয়ারি. ২০২০ | মঙ্গলবার

জাতির সংবাদ ২৪ ডটকম।। ঢাকা, ২৮ জানুয়ারী, ২০২০: ঢাকা শহরে প্রতি বছর বিভিন্ন উৎস থেকে গড়ে প্রায় দশ হাজার টনের উপর লেমিনেটেড প্লাস্টিকের বর্জ্য উৎপন্ন হয় যা মানবস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরুপ। এসডো বাংলাদেশে লেমিনেটেড পোস্টার, লিফলেট, স্টিকার ব্যবহারের উপর ভিত্তি করে “ঞযবৎসধষ খধসরহধঃরড়হ ঋরষসং: অহ ওহপরংরহম ঐবধষঃয ঐধুধৎফং অহফ ঊহারৎড়হসবহঃধষ ঐধাড়প ড়ভ উযধশধ ঈরঃু” শীর্ষক একটি গবেষণা সম্পন্ন করে। গবেষণায় পাওয়া তথ্য প্রকাশ করতে এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (এসডো) ২৮ জানুয়ারী, ২০২০, মঙ্গলবার দুপুর ১২ টায় এসডো’র প্রধান কার্যালয়ে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।

গবেষণা মতে, ২০১৯ সালে মোট ৭১৪৫.২ টন লেমিনেটেড প্লাস্টিক বর্জ্য উৎপন্ন হয়েছে। ২০২০ সালে আনুমানিক ১০৪৩৮ টন উৎপন্ন হবে যেগুলো পূর্ণপ্রক্রিয়াজাতকরণ (জবপুপষব) সম্ভব নয়। এসডো মানবস্বাস্থ্য ও পরিবেশ রক্ষার্থে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ গ্রহণে জোর দেয়। বিশেষভাবে তারা ২ ফেব্রুয়ারী, ২০২০ তারিখ থেকে মাসব্যাপী অনুষ্ঠিতব্য অমর একুশে বইমেলা, অন্যান্য বাণিজ্যিক প্রদর্শনীতে লেমিনেটেড পোস্টার, লিফলেট এবং স্টিকার বিতরণ নিষিদ্ধ করতে কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানায়।

ব্রিফিংয়ে এসডো’র চেয়ারপার্সন সৈয়দ মার্গুব মোর্শেদ জানান যে, যেহেতু এসডো তাদের গবেষণা ঢাকা’র দুই সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনী প্রচারণায় লেমিনেটেড পোস্টার এবং অন্যান্য “প্লাস্টিক কোটেড” পণ্য ব্যবহারের উপর ভিত্তি করে শুরু করে, এর ভিত্তিতে ২২ জানুয়ারী, ২০২০ তারিখে উচ্চ আদালতের আদেশ অনুসারে কর্তৃপক্ষকে তাৎক্ষণিকভাবে পদক্ষেপ নিতে আহবান জানান। এছাড়াও উচ্চ আদালত বিভাগ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে উৎপাদিত এবং বিলি করা লেমিনেটেড পোস্টারের বর্জ্য যথাযথভাবে ব্যবস্থাপনার নির্দেশ দিয়েছেন। এসডো আশাবাদী যে, পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে এ ধরণের প্লাস্টিকের ব্যবহার বন্ধে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

এসডো ঢাকা শহরের সম্ভাব্য লেমিনেটেড প্লাস্টিক বর্জ্যের প্রধান ৬টি উৎস ধরে নিয়ে তার উপর গবেষণা চালায় যার মধ্যে রয়েছে; ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন, খবরের কাগজের সাথে দেয়া প্রচারপত্র, ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা, অমর একুশে বইমেলা, অন্যান্য বড় পরিসরের মেলা/প্রদর্শনী, রেস্তোরা, বিউটি পার্লার ও অন্যান্য বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপনে বিতরণ করা লিফলেট। এ বছর নির্বাচনী পদপ্রার্থীরা প্রচারণার উদ্দেশ্যে আনুমানিক ৩০৪ মিলিয়ন প্লাস্টিক লেমিনেটেড পোস্টার ছেপেছেন। এছাড়াও প্রচারণায় ব্যবহৃত স্টিকার, সাধারণ কার্ড, স্বেচ্ছাসেবকের পরিচয়পত্র তৈরিতেও লেমিনেটেড প্লাস্টিকের ব্যবহার লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ধারণা করা যায়, আসন্ন দুই সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন উপলক্ষে প্রচারণা শুরুর প্রায় ১২ দিনের মধ্যেই ২৪৭২ টন লেমিনেটেড প্লাস্টিক বর্জ্য উৎপন্ন হয়েছে।

দৈনিক খবরের কাগজ ঢাকা শহরে লেমিনেটেড প্লাস্টিক ছড়ানোর আরেকটি উৎস। এসডো’র গবেষণায় দেখা যায়, সর্বাধিক প্রচলিত খবরের কাগজগুলোর সাথে দৈনন্দিন হারে অন্ততপক্ষে একটি করে বিজ্ঞাপনী প্রচারপত্র দেয়া হয়। খবরের কাগজগুলোর সাথে থাকা বিজ্ঞাপনী প্রচারপত্র থেকেই প্রায় বছরব্যাপী ২২৭ টন বর্জ্য উৎপন্ন হয়। গবেষণাটিতে ১১টি প্রধান বাংলা ও ইংরেজি দৈনিক সংবাদপত্র বিবেচনা করা হয়।

সৈয়দ মার্গুব মোর্শেদ বলেন, পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে এসডো ও অন্যান্য এনজিও প্লাস্টিক দূষণ উপর রোধে হাইকোর্টে এক রিট আবেদন করে। এর প্রেক্ষিতে কর্তৃপক্ষ পলিথিন ব্যাগ নিষেধাজ্ঞার যথাযথ বাস্তবায়ন এবং ২০২১ সালের মধ্যে একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক বন্ধের আদেশ জারী করে।

ড. শাহরিয়ার হোসেন জানান, পরবর্তীতে ফেলে দেয়া এই বিপুল পরিমাণ প্লাস্টিক বর্জ্য প্লাস্টিক দূষণের অংশীদার হবে। এসব একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক বর্জ্য নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়াবে, পরিবেশ বিপর্যয় ঘটবে, এছাড়া বায়ু ও পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে কারণ হয়ে দাঁড়াবে।

ব্রিফিংয়ে এসডো’র চেয়ারপার্সন ও সাবেক সচিব সৈয়দ মার্গুব মোর্শেদ, এসডো’র প্রধান টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজর অধ্যাপক আবু জাফর মাহমুদ, এসডো’র মহাসচিব ড. শাহরিয়ার হোসেন, নির্বাহী পরিচালক সিদ্দীকা সুলতানা, নির্বাহী বিভাগীয় সদস্য শাহনাজ মনির সহ এসডো’র অন্যান্য গবেষণা সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
আগের তথ্য অনুযায়ী:
১৯৮৯ সালে ড. শাহরিয়ার হোসেনের নেতৃত্বে কিছুসংখ্যক উদ্যমী জনতা বাংলাদেশে পলিথিন বিরোধী অভিযানের সূচনা করে। এসডো’ই প্রথম কোন সংস্থা যা কিনা ১৯৯০ সালে একবার ব্যবহারযোগ্য পলিথিন শপিং ব্যাগের বিরুদ্ধে অভিযানের শুরু করে এবং দেশব্যাপী পলিথিন বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে। দীর্ঘ প্রচেষ্টার ফলস্বরূপ এসডো ২০০২ সালে, জানুয়ারীর ১ তারিখে ঢাকা শহরে এবং ২০০২ সালে, মার্চের ১ তারিখে দেশব্যাপী পলিথিনের উৎপাদন ও ব্যবহার বন্ধে সাফল্য লাফ করে। বর্তমানে এসডো’র মূল লক্ষ্য একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের ব্যবহার বন্ধ করা। এরপ্রেক্ষিতে কর্তৃপক্ষ পলিথিন ব্যাগ নিষিদ্ধ এবং ২০২১ সালের মধ্যে একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক বন্ধের আদেশ জারী করে।