এই মাত্র পাওয়া:

» ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষা কোর্সের মেয়াদ হ্রাসের আত্মঘাতি উদ্যোগ বন্ধ এবং বিএনবিসি সংশোধন ও ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের পেশাগত সমস্যাদি সমাধানের দাবিতে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের কর্মসূচি ঘোষণা

প্রকাশিত: ২৯. জুন. ২০২১ | মঙ্গলবার

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

 

জাতির সংবাদ  টোয়েন্টিফোর ডটকম : একাধিক জাতীয় কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের পর ২০০০ সালে প্রবর্তিত চলমান ৪ বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্স হ্রাস করে ৩ বছরে রূপান্তরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে এ ধরনের অযৌক্তিক ও আত্মঘাতি সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং ছাত্র-শিক্ষক-পেশাজীবী সংগ্রাম পরিষদ।

আজ (২৯ জুন) দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি নসরুল হামিদ মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন থেকে এ আহ্বান জানানো হয়।

 

সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয় শিক্ষক, ল্যাব, ওয়ার্কসপ ও ব্যবহারিক ক্লাসের কাঁচামালের সংকটে যখন ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়ার উপক্রম, তখন সে বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় কাদের স্বার্থ রক্ষায় পুরো শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেয়ার পাঁয়তারা চালাচ্ছে, তা জাতির কাছে বোধগম্য নয়। ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সের স্কুলিং উল্লেখ করে জানানো হয় ভারতে ১৩ বছর, শ্রীলংকায় ১৪ বছর, পাকিস্তানে ১৪ বছর, বিশ্বে চীনে ১৫ বছর, মালয়েশিয়ায় ১৪ বছর, সিঙ্গাপুরে ১৪ বছর, যুক্তরাষ্ট্রে ১৪ বছর, জাপানে ১৪ বছর বিদ্যমান। বাংলাদেশেও ১৪ বছর স্কুলিং। বিশ্বের সাথে সঙ্গতিহীনভাবে কোর্সের মেয়াদ হ্রাস করা হলে এ শিক্ষার প্রতি মেধাবী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকগণ আগ্রহ হারাবে, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক কর্মক্ষেত্রে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারা অবমূল্যায়িত ও পদোন্নতি বাধাগ্রস্ত হবে, চাকরির ক্ষেত্রে বেতন ও মর্যাদা নিয়ে প্রশ্নের সম্মুখীন হবে এবং আগামীর প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতা ও ৪র্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ গ্রহণে সক্ষমতা হ্রাস পাবে।

সংবাদ সম্মেলনে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভের সাথে উল্লেখ করা হয় প্রধানমন্ত্রী সুষ্পষ্ট নির্দেশনা ও আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটির সুপারিশ থাকা সত্বেও বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড ২০২০ এর সংজ্ঞা ও বিভিন্ন ধারা/উপধারায় ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের অবমূল্যায়ন ও অধিকার হরণ করা হয়েছে। যা সংশোধনে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারগণ নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন চালিয়ে আসলেও অদ্যাবধি তা সংশোধন করা হয়নি।

এছাড়া, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি সত্বেও ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের স্পেশাল ইনক্রিমেন্ট প্রদান, পদোন্নতির কোটা ৫০% এ উন্নীতকরণ, সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্বশাসিত সংস্থা, পেট্রোবাংলা কর্পোরেশন ও বিদ্যুৎ বিভাগের বিভিন্ন কোম্পানিতে ডিগ্রি ও ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার অনুপাত ১:৫ রেখে জনকল্যাণে অর্গানোগ্রাম প্রণয়ন, সকল বিদ্যুৎ কোম্পানিতে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে পদোন্নতি প্রদানে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করে নাই। একইভাবে পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ও টিভিইটি প্রতিষ্ঠানসসমূহের শিক্ষক স্বল্পতা, শ্রেণীকক্ষ, ল্যাব, ওয়ার্কসপ সংকটসহ শিক্ষকদের পদোন্নতি ও ঝঞঊচ প্রকল্পের শিক্ষকদের নিয়মিতকরণ, বেতন ভাতা প্রদান এবং ছাত্র ছাত্রীদের বৃত্তি ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্রেনিং ভাতা বৃদ্ধিসহ ২৯টি ইমার্জিং টেকনোলজির বেকার ডিপ্লোমা গ্রাজুয়েটদের কর্মসংস্থানের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারি হয়নি। প্রাইভেট সেক্টরে কর্মরত ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের ন্যূনতম বেতন ও পদবী প্রদানে এখনো কোন নির্দেশনা দেয়া হয় নাই। যা ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার, ছাত্র-শিক্ষকদের বিক্ষুব্ধ করে তুলেছে।

সংবাদ সম্মেলনে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সের মেয়াদ হ্রাসের প্রতিবাদে এবং পেশাগত সমস্যাদি সমাধানের দাবিতে সপ্তাহব্যাপী আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। ঘোষিত কর্মসূচির মধ্যে আগামী ৩ দিনের মধ্যে বিভিন্ন সংস্থার ১১৯টি ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স সার্ভিস এসোসিয়েশনের পক্ষে শিক্ষামন্ত্রী সমীপে স্মারকলিপি প্রদান, সংগ্রাম পরিষদের উদ্যোগে সকল সার্ভিস এসোসিয়েশনের সাথে ভার্চুয়্যাল প্রতিবাদ সভা আয়োজন, ৭ দিনের মধ্যে ৬৪ প্রশাসনিক জেলা ও আইডিইবি’র ৭টি সাংগঠনিক জেলায় সংগ্রাম পরিষদ গঠন করে ভার্চুয়্যাল, প্রতিবাদ সভা আয়োজন করা হবে। এরপরও শিক্ষা মন্ত্রণালয় ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্স ৪ বছর থেকে ৩ বছরে রূপান্তরের উদ্যোগ প্রত্যাহারের ঘোষণা না আসলে এবং ৪ দফা দাবি বাস্তবায়নে দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের আহ্বায়ক মোঃ ফজলুর রহমান খান, কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোঃ শামসুর রহমান ।

সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন সদস্য সচিব মির্জা এ টি এম গোলাম মোস্তফা।

এ সময় সংগ্রাম পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা এ কে এম আব্দুল মোতালেব, আব্দুল কুদ্দুছ, মোঃ সিরাজুল ইসলাম, আব্দুল মান্নান, মেহেদী হাসান প্রমুখ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

Facebook Pagelike Widget