এই মাত্র পাওয়া:

» চীনা নাগরিকসহ দুজনের ১৩ বছর কারাদণ্ড

প্রকাশিত: ১৬. নভেম্বর. ২০২২ | বুধবার

জাতির সংবাদ টোয়েন্টিফোর ডটকম।। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা অর্থ আত্মসাতের মামলায় চীনা নাগরিক ও এক বাংলাদেশির ১৩ বছর করে কারাদণ্ডের রায় দিয়েছেন আদালত। এ ছাড়া অপর চার আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

আজ বুধবার ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. ইকবাল হোসেন এ রায় ঘোষণা করেন।

১৩ বছরের কারাদণ্ড প্রাপ্তরা হলেন- চীনা নাগরিক দি সিনফা নিটার্স লিমিটেডের চেয়ারম্যান ইয়াং ওয়াং চুং ও প্রতিষ্ঠানটির এমডি বাংলাদেশি খসরু আল রহমান। এদের তিনটি ধারায় এ দণ্ড দিয়েছেন আদালত।

রায়ে আদালত এক ধারায় ইয়াং ওয়াং চুং ও খসরু আল রহমানকে ১০ বছর কারাদণ্ড ও দুই কোটি ৫৯ লাখ ৪০ হাজার ১৪৮ টাকা অর্থদণ্ড করেছেন। আরেক ধারায় ২ বছরের কারাদণ্ডের পাশাপাশি এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাদের ৩ মাস কারাদণ্ড এবং অপর একটি ধারায় ১ বছর কারাদণ্ড, ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে তাদের আরও তিন মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন।

রায়ে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক মনসুরুল হক ও গোলাম মোস্তফাকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড এবং দুই কোটি ৫৯ লাখ ৪০ হাজার ১৪৮ টাকা অর্থদণ্ড করেছেন।

এ ছাড়া রায়ে ন্যাশনাল ব্যাংক লি. দিলকুশা শাখার তৎকালীন সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট (এক্সপোর্ট) আব্দুল ওয়াদুদ খান ও তৎকালীন এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট শাহাবুদ্দিন চৌধুরীর এক ধারায় ৫ বছরের কারাদণ্ডের পাশাপাশি দুই কোটি ৫৯ লাখ ৪০ হাজার ১৪৮ টাকা অর্থদণ্ড করেছেন আদালত। আরেক ধারায় তাদের এক বছর কারাদণ্ড, ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও তিন মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

আসামিদের মধ্যে শেষের তিনজন জামিনে আছেন। রায় ঘোষণা শেষে সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। অপর তিন আসামি পলাতক রয়েছেন।

মামলা থেকে জানা যায়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে প্রতারণা ও জাল জালিয়াতির মাধ্যমে একটি জাল দলিল তৈরি করে ব্যাংকে বন্ধক রাখে। দীর্ঘদিন ব্যাংকের কাছ থেকে ব্যাক টু ব্যাক এলসি খোলার নিশ্চয়তা নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করেন। ব্যাংকের দায় দেনা বাবদ দুই কোটি ৫৯ লাখ ৪০ হাজার ১৪৮ টাকা পরিশোধ না করে গা ঢাকা দিয়ে থাকেন। যাতে ব্যাংক জাল জালিয়াতির কাগজপত্র দিয়ে গ্রহণকৃত বন্ধকী জমি বিক্রি করে তাদের টাকা উদ্ধার করতে না পারে।

এ ঘটনায় দুদকের উপ-পরিচালক জাহাঙ্গীর হোসেন ২০১৭ সালের ১৭ জানুয়ারি মতিঝিল থানায় মামলাটি দায়ের করেন। একই কর্মকর্তা মামলাটি তদন্ত করে ৬ জনকে অভিযুক্ত করে ২০১৮ সালের ২৪ জুন চার্জশিট দাখিল করেন।

২০১৯ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জগঠন করেন আদালত। ১৩ জন সাক্ষীর মধ্যে ১১ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।