» চিকিৎসদের অনুপ্রেরণা দিতে না পারলেও সমালোচনা না করি : কাজী সোনিয়া রহমান

প্রকাশিত: ১০. এপ্রিল. ২০২০ | শুক্রবার

দিদারুল আলম দিদার,জাতির সংবাদ টোয়েন্টিফোর ডটকম  : করোনাভাইরাস জনিত উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পুরো বিশ্ব বিপর্যস্ত। এ পর্যন্ত ১৫ লক্ষাধিক লোক আক্রান্ত হয়েছে। মৃত্যু হয়েছে প্রায় ৯০ হাজার লোকের।
আমাদের দেশেও এখন করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। মৃত্যুবরণ ও আক্রান্ত দিনে দিনে বাড়ছে।
এই পরিস্থিতির মধ্যে চিকিৎসকদের  নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় চলছে নানা মন্তব্য ও সমালোচনা ।
এ বিষয় নিয়ে বৃহস্পতিবার কুমিল্লা বার্ডের উপ-পরিচালক কাজী সোনিয়া রহমান, তার ব্যাক্তিগত ফেইসবুক আইডিতে করোনা পরিস্থিতিতে দেশের চিকিৎসকদের অনুপ্রেরণা দিয়ে পাশে থাকার আহবান জানান। কাজী সোনিয়া রহমানের ব্যাক্তিগত ফেইসবুক আইডি থেকে নেয়া লেখাটি তুলে ধরা হল।
“আসুন দেশের এ ক্রান্তিলগ্নে একে অপরকে দোষারোপ না করে একসাথে করোনা সংক্রমণ যুদ্ধে চিকিৎসকদের পাশে দাড়াই। চিকিৎসকরাই এ যুদ্ধের সম্মুখ যোদ্ধা। পৃথিবীর কোন দেশেই সব সেক্টরে শতভাগ সেবা নিশ্চিত করতে পারেনা। কাজেই নাগরিকদের কিছু অপ্রাপ্তি থাকতেই পারে। সেজন্য আমরা প্রাপ্তির সিংহভাগকে অস্বীকার করতে পারিনা। সামান্য অপ্রাপ্তি বা দু’একজনের অবহেলার জন্য পুরো চিকিৎসক সমাজ’কে বিভিন্ন মিডিয়াতে যেভাবে দোষারোপ করা হচ্ছে এটা দুঃখজনক। এতে করে মানবিক চিকিৎসকবৃন্দ যারা সব সময় পাশে থাকেন তারা সেবাদানে নিরুৎসাহিত হতে পারেন।
করোনা আজ বিশ্ব ব্যাপী বিস্তৃত, উন্নত দেশগুলোও এ দুর্যোগ মোকাবেলায় হিমশিম খাচ্ছে। কিন্তু তারা চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য কর্মীদের অনুপ্রেরণা দিচ্ছে। তাদের জন্য গান গাচ্ছে, হাত তালি দিচ্ছে এবং তাদেরকে বিশেষ সন্মানের আসনে স্থান দিচ্ছে। আসুন আমরা চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য কর্মীদের অনুপ্রেরণা দিতে না পারলেও সমালোচনা না করে অন্তত পাশে থাকি।”
প্রতিবেদকের মন্তব্য :
এ মহামারির বিরুদ্ধে লড়াইটা চিকিৎসক নার্সদেরই করতে হবে। চিকিৎসকরাই এ লড়াইয়ের নেতৃত্ব দিবেন। পৃথিবীজুড়ে চিকিৎসক নার্স থেকে অ্যাম্বুলেন্স চালক, এক কথায় চিকিৎসা সেবায় জড়িত বিভিন্ন কর্মীরাই লড়ছেন।
চীন, ইতালি, স্পেন, ফ্রান্স, থেকে আমেরিকা প্রতিটা আক্রান্ত দেশে লড়তে লড়তে ক্লান্ত অবসন্ন দেহে চিকিৎসক, নার্সরা হাসপাতালের মেঝেতে একজনের গায়ে আরেকজন শুয়ে পড়ছে। করোনার ভয়াবহতার মুখে মানুষ বাঁচানোর লড়াই। নিজের জীবনকে শতকরা একশো ভাগ ঝুঁকিতে দিয়ে লড়ছে চিকিৎসা সংশ্লিষ্টরা।
মানবসেবার ধর্মের অগ্নি পরীক্ষায় আজ মহাবিপর্যয়ের পৃথিবীতে অনেক চিকিৎসক বীরত্বের নায়কোচিত আদর্শ হয়ে উঠেছেন। অনেকে লড়াইয়ে ভয়ঙ্কর ছোয়াঁচে জীবাণু করোনার ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর কোলেও ঢলে পড়ছেন। এমন অনেক দৃষ্টান্ত আমরা লক্ষ্য করছি। তবু তাদের সতীর্থরা দমে যাননি। লড়ছেন অদম্য মনোবলে সর্বোচ্চ সেবা দিয়ে। করোনার মহাপ্রলয়ে পৃথিবী এখন মৃত্যুর অসহনীয় যন্ত্রণা ভোগ করছে। পৃথিবীজুড়ে কান্না। লাশ রাখার জায়গা নেই। এমন মর্মান্তিক মৃত্যু প্রিয়জনের মৃত্যুতে কান্নার সুযোগসহ জানাযা দাফনে অংশ নেয়ার সূযোগ পর্যন্ত  নেই। অপরিচতরাই শেষ বিদায় দিচ্ছেন।
বাকরুদ্ধ শোকস্তব্ধ পৃথিবী। বাংলাদেশও এখন আক্রান্ত এই বিশ্ব মহামারিতে। এখানে চিকিৎসকদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। হাসপাতাল-ক্লিনিকে মানুষ চিকিৎসা পাচ্ছে না এমন অভিযোগও দেশজুড়ে।
অনেকে বলছেন চিকিৎসা ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে করোনায় আক্রান্তের  মুখে পরিকল্পিত চিকিৎসা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে না পারায়। বাস্তবতা হলো এ অভিযোগ পুরোপুরি সত্য নয়। কেউ কেউ কাপুরুষের ভূমিকা রাখলেও সবাই নয়। আর নয় বলেই চিকিৎসক নার্সরাই এখানে লড়াই করছেন। মৃত্যু ভয়কে তোয়াক্কা না করে। শুরুতে পরীক্ষার কিট, ল্যাব, পিপিই-সহ করোনাভাইরাস প্রতিরোধে লজিস্টিক সাপোর্ট তেমন ছিল না। এছাড়াও বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা ও পরিকল্পনাহীনতাতো ছিলোই।
দেশে করোনা ভাইরাস জনিত উদ্ভূত পরিস্থিতির ভয়াবহতা প্রতিরোধ ও মোকাবেলায় আমাদের দেশের চিকিৎসক নার্সরা সফল হবেন।
যার যার অবস্থান থেকে সহযোগিতা এগিয়ে এগিয়ে আসছেন অনেকেেই।
সকলের সম্মিলিত চেষ্টায় এবং
সৃষ্টিকর্তার অপার কৃপায় জীবন যাত্রা অচিরেই স্বাভাবিক হবে। আলোকিত হবে পৃথিবী প্রানবন্ত হবে জীবনযাত্রা।
বিশেষ করে তখন আমাদের চিকিৎসকরা হবেন মানবতার দূত ও বীর।