এই মাত্র পাওয়া:

» চিংড়ি উৎপাদন পদ্ধতি বহুমুখীকরণের মাধ্যমে রপ্তানি বৃদ্ধি” শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত

প্রকাশিত: ২৯. জুন. ২০২১ | মঙ্গলবার

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

জাতির সংবাদ টোয়েন্টিফোর ডটকম।।
ফিশারিজ প্রোডাক্টস বিজনেস প্রমোশন কাউন্সিল এবং  বাংলাদেশ ক্রোজেন ফুডস এক্সপোর্টার্স এসোসিয়েশন এর যৌথ উদ্যোগে মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর নিজস্ব সভাকক্ষে
“চিংড়ি উৎপাদন পদ্ধতি বহুমুখীকরণের মাধ্যমে রপ্তানি বৃদ্ধি” শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

বিএফএফইএ এর প্রেসিডেন্ট মোঃ আমিন উল্লাহর সভাপতিত্বে  প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বানিজ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (রপ্তানি ) এবং বিপিসি এর কো-অর্ডিনেটর  মোঃ আবদুর রহিম খান।

মুল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিএফএফইএ এর সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মোঃ খলিলুল্লাহ।

ধন্যবাদ জানিয়ে বক্তব্য  রাখেন বিএফএফইএ এর ভাইস প্রেসিডেন্ট হুমায়ুন কবির।

সেমিনারে নেতৃবৃন্দ বলেন, অধিকতর প্রতিযোগিতা পূর্ণ বিশ্ববাজারে আমাদের রপ্তানিমুখী হিমায়িত চিংড়ি খাতটি বিগত কয়েক বছর ধরে ক্রম নিম্নমুখী। অতীতে এই খাতটি পোশাক খাতের পরেই দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল। বর্তমানে সপ্তম স্থানে নেমে এসেছে।  ২০১৩-২০১৪ থেকে ২০১৯-২০২০ পর্যন্ত হিমায়িত চিংড়ি রপ্তানির চিত্র দেয়া হলো ঃ
(সূত্র ঃ মৎস্য অধিদপ্তর এবং রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো)
বর্তমানে বাংলাদেশে ১০৫টি হিমায়িত খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকারী কারখানা রয়েছে। যার বাৎসরিক উৎপাদন ক্ষমতা ৪.০০ লক্ষ মেঃ টন। কাঁচামালের স্বল্পতার কারনে আমাদের কারখানামূহের উৎপাদন ক্ষমতা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১০-১৫%, যা কারখানা বাঁচিয়ে রাখার জন্য অনুকূল নয়। উপরোল্লিখিত সময়ে ধারাবাহিকভাবে রপ্তানি কমেছে পরিমানে ১৭,৫৯৯ মেঃ টন এবং রপ্তানি আয় কমেছে ২১৭ মিলিয়ন     মার্কিন ডলার।
চিংড়ি শিল্পে আমাদের দুরবস্থার কারণ হলো ঃ
১।বিবিধ কারনে বাংলাদেশের গলদা ও বাগদার উৎপাদনশীলতা পৃথিবীতে সবচাইতে নিম্নে, অর্থাৎ     ৩০০-৪০০ কেজি/হেক্টর মাত্র। ফলশ্রুতিতে উৎপাদন খরচ বেশি।
২।অন্যদিকে উচ্চ ফলনশীল, কম উৎপাদন খরচ, সস্তা ও সহজ লভ্য, সুস্বাদু চিংড়ি ভেনামির বিশ্ববাজার দখল করে নিয়েছে।।

চিংড়ির উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে  প্রস্তাবসমূহ ঃ
ক)চিংড়ি চাষযোগ্য এলাকায় অবকাঠামো উন্নয়ন ও সেমি-ইনটেনসিভ পদ্ধতি প্রয়োগের মাধ্যমে চিংড়ির উৎপাদন বৃদ্ধি ঃ বিগত প্রায় পাঁচ দশক ধরে বাংলাদেশে বাগদা চিংড়ি সনাতনী পদ্ধতিতে চাষ হচ্ছে বিধায় হেক্টর প্রতি উৎপাদন মাত্র ৩০০-৪০০ কেজি, যা পৃথিবীতে সবচেয়ে কম। বর্তমানে চিংড়ি চাষের অধীন ২,৫৮,০০০ হেক্টর জমির এক তৃতীয়াংশ জমিতেও ‘বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে’ অর্থাৎ সেমি ইনটেনসিভ পদ্ধতিতে চাষ করলে (প্রতি হেক্টরে ৩০০০ কেজি) মোট উৎপাদন দাঁড়াবে ২,৫৮,০০০ মেঃ টন, যা বিদ্যমান কারখানাগুলোতে প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে অনায়াসে রপ্তানি করা সম্ভব। চাষ বৃদ্ধিকল্পে যে সকল উদ্যোক্তা বিজ্ঞান সম্মতভাবে/সেমি-ইনটেনসিভ পদ্ধতিতে চিংড়ি চাষ করতে আগ্রহী তাদের হ্রাসকৃত সুদে ও সহজ শর্তে ঋণ প্রদান করা জরুরী। যে সকল কারনে চিংড়ি চাষাবাদ বিঘিœত হচ্ছে, যথা খাল-বিল ভরাট হয়ে যাওয়ায়, চিংড়ি চাষের জমির গভীরতা কমে যাওয়ায়, চিংড়ি চাষ অঞ্চলে বাঁধ নির্মান ও সংস্কার না করা ইত্যাদি অবকাঠামো তৈরিতে সরকার কর্তৃক বিশেষ প্রকল্প গ্রহণ করা অর্থাৎ জরুরী ভিত্তিতে চিংড়ি চাষ অঞ্চলে খাল বিল খনন করা, পুকুর খনন করে চিংড়ির ঘেরের গভীরতা বৃদ্ধি করা, প্রয়োজনীয় বাঁধ নির্মান ও সংস্কার করা, বিদ্যুৎ সুবিধা ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা আবশ্যক।
খ)বাণিজ্যিকভাবে ভেনামি চিংড়ি চাষ ও রপ্তানি উন্মুক্তকরণ ঃ  ভেনামি প্রজাতির চিংড়ি রোগ সহনীয়, অতি উচ্চ ফলনশীল (প্রতি হেক্টরে উৎপাদন ১০-১৫ মেঃ টন), উৎপাদন খরচ কম ও দামে সস্তা হওয়ায় ইতোমধ্যে বিশ্ববাজারে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেছে, যা অদ্যাবধি বাণিজ্যিকভাবে বাংলাদেশে চাষ শুরু করা সম্ভবপর হয় নাই। উল্লেখ্য, ইতোমধ্যে এশিয়ার চিংড়ি উৎপাদনকারী ১৫টি দেশের মধ্যে ১৪টি দেশ ভেনামি চিংড়ি চাষ শুরু করেছে। আমাদের পার্শ্ববর্তী প্রতিযোগী দেশসমূহ যেমন ভারত (৬.৫ লক্ষ মেঃ টন), ভিয়েতনাম (৪.০ লক্ষ মেঃ টন), থাইল্যান্ড (৩.৫ লক্ষ মেঃ টন) ভেনামি চিংড়ি প্রতি বছর উৎপাদন ও রপ্তানি করছে। এ সকল দেশসমূহ পূর্বে আমাদের মতো ইষধপশ ঞরমবৎ চিংড়ি উৎপাদনে নিয়োজিত ছিল। বিশ্ববাজারে ভেনামি চিংড়ি উৎপাদন ও বাণিজ্যের পরিমান ৭৭%। ফলে বাংলাদেশের রপ্তানিকারকরা এই বিপুল চাহিদা মেটাতে সক্ষম নয়। সম্প্রতিকালে মৎস্য অধিদপ্তর ভেনামি চিংড়ি চাষে নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে এবং বাণিজ্যিকভাবে তা কার্যকরী হলে আগামী ৫ বছরের মধ্যে বাংলাদেশও ভারতের মতো ৪-৬ লক্ষ মেঃ টন ভেনামি উৎপাদনে সক্ষম হবে। এর ফলে বাংলাদেশের চিংড়ি ও মাছ রপ্তানি ৩-৪ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হবে। বিএফএফইএ-এর বিগত ১৫ বছরের প্রচেষ্টায় ১০ একর করে মাত্র ২টি ভেনামি চাষের শর্ত সাপেক্ষে পাইলট প্রজেক্টের অনুমতি মিলেছে। অনুমোদিত পাইলট প্রজেক্টে ভেনামি চিংড়ির পরীক্ষামূলক চাষের ফলাফল সন্তোষজনক। আশা করছি, প্রতি হেক্টরে ৪-৫ মেঃ টন উৎপাদন হবে ইনশাল্লাহ। তাই আমাদের পাইলট প্রজেক্টের ফলাফল এবং সারা বিশ্বে ভেনামি চিংড়ি উৎপাদনের চিত্র পর্যালোচনা করলে পাইলট প্রজেক্ট ধ্যান-ধারনা হতে বেরিয়ে এসে একটি সহজ নীতির মাধ্যমে বাণিজ্যিকভাবে ভেনামি চিংড়ি চাষকে উন্মুক্ত করে রপ্তানির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য বিনীত অনুরোধ করছি।
গ)রোগমুক্ত ঝচঋ চিংড়ির পোনার সরবরাহ বৃদ্ধি ঃ রোগমুক্ত ঝচঋ চিংড়ির পোনার সরবরাহ প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল অর্থাৎ প্রয়োজনের তুলনায় সরবরাহ মাত্র এক তৃতীয়াংশ (১/৩)। তাই ঝচঋ চিংড়ির পোনার উৎপাদন বৃদ্ধির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানাচ্ছি।

ঘ)পণ্য ও বাজার বহুমুখীকরণ (চৎড়ফঁপঃ ্ গধৎশবঃ উরাবৎংরভরপধঃরড়হ) ঃ বর্তমানে আমরা যে সকল পণ্য উৎপাদন ও রপ্তানি করি, তা অধিকাংশই গতানুগতিক মূল্য সংযোজিত পণ্য। তাই ঐরমযবৎ ঠধষঁব অফফবফ পণ্য তৈরি ও রপ্তানির লক্ষ্যে বিদেশী ঊীঢ়বৎঃ নিয়ে এসে সরেজমিনে কারখানাগুলোতে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনবল তৈরিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করলে আমাদের রপ্তানি আয় আরো বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি আমাদের রপ্তানি পণ্যের নতুন নতুন বাজার সম্প্রসারণের ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য ইপিবি’র সাহায্য ও সহযোগিতা কামনা করছি, যার মাধ্যমে অধিক পরিমান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব হবে।
ঙ)রপ্তানিকারকদের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য নগদ সহায়তা বৃদ্ধি ঃ বিদ্যমান কাঁচামাল সংকটজনিত ক্ষতি ছাড়াও হিমায়িত খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানসমূহের পরিচালন ব্যয় তথা ঙাবৎযবধফ পড়ংঃ (বিদ্যুৎ, জ্বালানী, শ্রমিক-কর্মচারী-মজুরী, পরিবহন, মোড়ক সামগ্রী, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষন ইত্যাদি) বহুবিধ বেড়ে গেছে। ইদানিং আন্তর্জাতিক বাজারে ঈড়হঃধরহবৎ-এর ভাড়া বহুলাংশে বেড়ে গেছে। এই বাড়তি খরচ সমন্বয় সাধন এবং আন্তর্জাতিক বাজারে দেশের উৎপাদিত হিমায়িত চিংড়ি ও মাছ রপ্তানি বাণিজ্যে অন্যান্য প্রতিযোগী দেশের সাথে মূল্য প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার জন্য শতভাগ দেশজ কাঁচামালভিত্তিক এই রপ্তানি পণ্যটির সরকার প্রদত্ত নগদ সহায়তা বৃদ্ধি করা একান্ত প্রয়োজন। বর্তমানে এই খাতের রপ্তানিতে চিংড়িতে ১০% (সিলিং সীমা হিমায়িত চিংড়ি ক্ষেত্রে পাউন্ড প্রতি সর্বোচ্চ এফওবি মূল্য ৪.৯৮ মাঃ ডলার) এবং অন্যান্য মাছে ৫% (সিলিং সীমা অন্যান্য মাছ-এর ক্ষেত্রে পাউন্ড প্রতি সর্বোচ্চ এফওবি মূল্য ১.৯৭ মাঃ ডলার) নগদ সহায়তা দেয়া হয়, যা আমাদের ইনভয়েস মূল্য হতে অনেক কম। অপরদিকে, সস্তা দামের বিপুল পরিমান ভেনামি চিংড়ি সরবরাহের কারনে আমরা বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতায় সক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছি। অতএব, বিশ^ব্যাপী ঈঙঠওউ-১৯ জনিত এই সংকটময় মুহুর্তে আন্তর্জাতিক বাজারে দেশের চিংড়ি ও অন্যান্য মাছ রপ্তানি খাতটিকে অস্তিত্ব লড়াইয়ে টিকে থাকার লক্ষ্যে এবং দেশের স্বার্থে শতভাগ রপ্তানিযোগ্য এই কৃষিজাত পণ্য মাঠ পর্যায় হতে রপ্তানি পর্যন্ত কার্যক্রম চালু রেখে মুল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জন অব্যাহত রাখার জন্য হিমায়িত চিংড়ি ও অন্যান্য মাছ রপ্তানিতে সরকার প্রদত্ত নগদ সহায়তা অন্যান্য কৃষি পণ্যের ন্যায় ২০%-এ উন্নীত করা আবশ্যক।
চ)রপ্তানীতব্য চিংড়ির জন্য কমন ল্যান্ডিং সেন্টার স্থাপন ঃ প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানাগুলোতে স্বাস্থ্যসম্মত ও গুণগত মানসম্পন্ন চিংড়ি গ্রহণের জন্য কমন লান্ডিং সেন্টার স্থাপনের প্রয়োজন। তদুপরি ই.ইউ-এর চাহিদা অনুযায়ী ট্রেসিবিলিটি নির্ণয়ে সহজীকরণের নিমিত্তে কমন ল্যান্ডিং সেন্টার স্থাপনের বিকল্প নেই। এমতাবস্থায় খুলনায় সুবিধাজনক স্থানে ২টি এবং চট্টগ্রামের ফিরিঙ্গি বাজার মৌজায় বিএফডিসি অথবা এর সংলগ্ন স্থানে ১টি, সরকারী উদ্যোগে চৎড়লবপঃ চৎড়ভরষব করাসহ সরকারী খরচে  ঈড়সসড়হ খধহফরহম ঈবহঃৎব নির্মান করার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।
ছ)চিংড়ি বীমা চালুকরণ ঃ চিংড়ি উৎপাদন ঝুঁকিপূর্ন বিধায় কৃষিশস্যের অনুরূপ চিংড়ি বীমা চালু করা।
জ)অয়ঁধঃরপ উরংবধংবং উরধমহড়ংঃরপ খধনড়ৎধঃড়ৎু স্থাপন ঃ চিংড়ি ও মাছের রোগ নির্নয়, প্রতিকার ও প্রতিরোধের জন্য এবং বিদেশী ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী চিংড়ি ও মাছ রপ্তানির লক্ষ্যে প্রতিটি বিভাগে ১টি করে অয়ঁধঃরপ উরংবধংবং উরধমহড়ংঃরপ খধনড়ৎধঃড়ৎু স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ।

Facebook Pagelike Widget