» গাইবান্ধায় হাট-বাজারসহ ফাকা মাঠে সামাজিক দূরত্ব মানছেনা কেউ

প্রকাশিত: ২২. এপ্রিল. ২০২০ | বুধবার

 

সঞ্জয় সাহা, গাইবান্ধা প্রতিনিধি: করণাভাইরাস সংক্রমনরোধে বিশ্বব্যাপী মহামারি আকার ধারন করায় সরকারের নির্দেশ মতে পুলিশ প্রশাসন, সেনাবাহিনী,র‍্যাব, সাংবাদিক সহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা জনগনের মাঝে সামাজিক দুরত্ব রোধে বিভিন্ন রকম সচেতনতামূলক প্রচার প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছেন। অন্যদিকে করণার হাত থেকে মানুষকে বাচাতে ঘরে থাকার নির্দেশ দিয়ে গাইবান্ধা জেলাসহ সহ দেশব্যাপী সাধারন ছুটি ঘোষনা করেছে সরকার। সে সাথে আইইডিসিআর গাইবান্ধাকে ৫ নং ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে গণ্য করেছে। তারপরও কোনো ভাবেই সচেতন করা যাচ্ছেনা মানুষজনকে। মানুষ যেন চোর পুলিশ খেলায় মেতে উঠেছে। সামাজিক দুরত্ব মানছেন না তারা। ঘর থেকে বের হলে বোঝা যায় না যে, গাইবান্ধা ঝুঁকিতে আছে।
এই পরিস্থিতিতেও গাইবান্ধা শহরের পুরাতন বাজার সহ শহর ও সদর উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার সহ বিভিন্ন মাঠে ভীড় জমাচ্ছে মানুষ। কেউ আসছে বাজার করতে, কেউ কেউ মাঠে গাদাগাদি করে খেলছে। আবার কেউ কেউ অকারনেই ভীড় করছে। গাদাগাদি করে গায়ের সাথে গা ঘেষে পণ্য কেনায় অন্যদেরকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে। গাইবান্ধা শহরের পুরাতন বাজার, ব্রীজরোড কালিবাড়ীর বিভিন্ন মাঠ ও হাট-বাজার ঘুরে দেখা গেছে, মানুষ অন্য স্বাভাবিক সময়ের মতোই বাজারে ভীড় করছে। অন্যদিকে ব্রীজরোড কালিবাড়ী পাড়ার স্কুল মাঠ ও পুরাতন ঘাঘট নদীর ওপাড়ে ডেভিড কোম্পানি পাড়া সংলগ্ন ফাকা মাঠে ছেলেপেলেরা সামাজিক দূরত্ব না মেনে খেলাধুলা করা সহ মহিলারা আড্ডা মারছে। অনেকের মুখে মাস্ক থাকলেও তারা সামাজিক দূরত্ব কোনভাবেই মানছে না। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে তারা বাহিরে বের হওয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের চোখে পড়া মাত্রই জরিমানা করছেন। তার পরো মানুষের বাহিরে বের হওয়া যেন কোনভাবেই থামানো যাচ্ছেনা। সবজি বাজার সহ গালামালের দোকান সহ প্রতিটি দোকানে তারা পণ্য কিনতে গিয়ে ভীড় করছেন। বিক্রেতারাও হিমশিম খাচ্ছেন ক্রেতাদের চাহিদা মেটাতে। প্রতিটি দোকানের সামনে ৫ থেকে ৮ জন করে ক্রেতাদের গাদাগাদি করে দাড়াতে দেখা গেছে। বুধবার সকালে পুরাতন বাজারে কয়েকজন ক্রেতার সাথে কথা বলা হলে তারা জানান, যেহেতু দুপুর ২ টা থেকে ৩ টার পর সব দোকান বন্ধ হয়ে যায়। তাই এর আগেই ভীড় করে। এমনভাবে ভীড় করে দেখে মনে হয় ওদের মনে করণা নিয়ে কোনো ভয় নেই। আমরা যারা কিছুটা সচেতন ব্যক্তি আছি অন্যসব অসচেতন মানুষের কারণে করণার ঝুঁকিতে পড়েছি। বাজারে এসে সচেতনার সহিত বাজার করলেও দেখা যায় অনেকে গা ঘেষে চলে যায়। মাঠগুলিতে দেখা গেছে পুলিশ আসলে লোকজনের সমাগম কমে যায়। পুলিশ গেলে আবার যেই সেই। এতে করে মানুষ যেন চোর পুলিশ খেলায় মেতে উঠেছে। আবার সকাল ৬ টা থেকে ৭ টার দিকে বিভিন্ন সিগারেট কোম্পানির সেলসম্যান তারা তাদের অফিসে সামাজিক দূরত্ব না মেনে গাদাগাদি করে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। পরে তারা অফিস থেকে সিগারেট নিয়ে শহর সহ সদর উপজেলার বিভিন্ন দোকানে গিয়ে তা বিক্রি করছে। এতে করেও করণা ছড়ানোর আশংকা রয়েছে বলে জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সচেতন ব্যক্তি।