» গাইবান্ধায় সরস্বতী দেবীর প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত মৃৎশিল্পীরা

প্রকাশিত: ২২. জানুয়ারি. ২০২০ | বুধবার

সঞ্জয় সাহা : আর মাত্র ৬ দিন পর হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব বিদ্যার দেবী শ্রী শ্রী সরস্বতী পূজা।  প্রতিবছরের ন্যায় এবারো মাঘ মাসের পঞ্চমী তিথিতে অনুষ্ঠিত হবে হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব বিদ্যার দেবী সরস্বতী পূজার।

পূজা উপলক্ষে শীতকে উপেক্ষা করে কার্যত ভক্তির স্বরুপ প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন গাইবান্ধা শহরের ব্রীজরোড কালিবাড়ী পাড়ার মৃৎশিল্পী অলোক দে টুটুন সহ শহরের মৃৎশিল্পীরা। আজ থেকে আর মাত্র ৬ দিন পর জ্ঞানের আলো ছড়াতে আসবেন বিদ্যার দেবী মা সরস্বতী। তাই মৃৎশিল্পীদেরও বিশ্রামের সময় নেই। দিনরাত প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পাড করছেন তারা।
গাইবান্ধা জেলা শহরের ব্রীজরোড কালিবাড়ী পাড়া, ভি,এইড রোডস্থ কালিবাড়ী মন্দির ঘুরে দেখা গেছে, মৃৎশিল্পীরা তৈরি করছে ছোট-বড় বিভিন্ন সাইজের প্রতিমা। খড় ও মাটি দিয়ে তৈরি প্রতিমার গায়ে দেয়া হচ্ছে মাটির প্রলেপ। চলছে রোদে শুকিয়ে রঙ ও অলঙ্কার পরানোর কাজ।শহরের ব্রীজরোড কালিবাড়ী পাড়ার মৃৎশিল্পী অলোক দে টুটুন জানান, সারা বছরই বিভিন্ন প্রতিমা তৈরি করে থাকি। আগামী ২৯ জানুয়ারি সরস্বতী পূজা। এ উপলক্ষে সরস্বতীর প্রতিমা বানাচ্ছি। এক একটি প্রতিমা ৬ শ টাকা থেকে ৫ হাজার টাকায় বিক্রি করা হবে। অনেকেই তাদের পছন্দ মতো প্রতিমার অর্ডার দিচ্ছেন। আপাতত মৃৎশিল্পীদের কর্ম ব্যস্ততা তুঙ্গে। আর ৬ দিন বাদে বিদ্যার দেবীর আরাধনায় নতজানু থাকবে সকলে।

প্রতিবছরের মতো জ্ঞানের আলো ছড়াতে আবারও এসেছেন বিদ্যার দেবী সরস্বতী। বিদ্যা ও সংগীতের দেবী সরস্বতীর আরাধনাকে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠেয় একটি অন্যতম প্রধান হিন্দু উৎস তিথিটি শ্রীপঞ্চমী বা বসন্ত পঞ্চমী নামেও পরিচিত।
শাস্ত্র মতে, এদিন দেবীর কাছে বিদ্যার অর্জনের প্রার্থনা করে ভক্তরা। পূজার সময় ভক্তরা প্রিয় দেবীর শ্রীচরণে অঞ্জলি প্রদান করে থাকেন। এছাড়া পুরোহিতের মন্ত্র পড়ার সাথে সাথে উপস্থিত ভক্তরাও সে মন্ত্র মনে মনে পাঠ করতে থাকেন এবং দেবীকে স্মরণ করেন।
শাস্ত্রীয় মতে আরো জানা যায়, শ্রীপঞ্চমীর দিন সকালেই সরস্বতী পূজা সম্পন্ন করা যায়। সরস্বতীর পূজা সাধারণ পূজার নিয়মেই হয়। তবে এতে কয়েকটি সামগ্রীর প্রয়োজন হয়। এরমধ্যে অভ্র-আবীর, আমের মুকূল, দোয়াত-কলম ও যবের শীষ এবং বাসন্তী রঙের গাঁদা ফুল অন্যতম। লোকাচার অনুসারে এদিন ছাত্রছাত্রীরা পূজার আগে কুল ভক্ষণ করেন না। পূজার দিন কিছু লেখাও নিষিদ্ধ। পূজার পর লক্ষ্মী, নারায়ণ, লেখনী-মস্যাধার (দোয়াত-কলম), পুস্তক ও বাদ্যযন্ত্রের পূজা করার প্রথা প্রচলিত রয়েছে।
এদিনটি উপলক্ষে গাইবান্ধা শহরসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় মন্দির, বাসাবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সরস্বতী পূজার আয়োজন করা হয়েছে।  সে সাথে শহরের ব্রীজরোড দূর্গাবাড়ী মন্দিরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের অায়োজন করা হয়েছে।

এবার সেই দিনে রয়েছে উপরি পাওনা ৷ কারণ সরস্বতী পুজো পড়েছে দু’দিন ধরে ৷ মাঘ মাসের শুক্লা পঞ্চমী তিথিতে হয় বাগদেবীর আরাধনা ৷ এ বছর পঞ্চমী পড়ছে ২৯ জানুয়ারি অর্থাৎ বাংলার ১৪ মাঘ, বুধবার ৷ সকাল ৮ টা বেজে ৪৭ মিনিটে পুজো শুরু হচ্ছে এবং শেষ হবে ৩০ জানুয়ারি, ১৫ মাঘ সকাল ১০টা ৫৬ মিনিটে ৷
সুতরাং এবার আর পুজো শেষে মন খারাপ নেই ৷ দু’টো দিন মনের সুখে চুটিয়ে আনন্দ করতে পারবে বাঙালিরা ৷