এই মাত্র পাওয়া:

» খালেদা জিয়ার সেলফ হোম কোয়ারেন্টিন আগামীকাল শেষ হচ্ছে

প্রকাশিত: ০৮. এপ্রিল. ২০২০ | বুধবার

জাতির সংবাদ টোয়েন্টিফোর ডটকম।।     সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ১৪ দিনের সেলফ হোম কোয়ারেন্টিন আগামীকাল বৃহস্পতিবার শেষ হচ্ছে। বৈশ্বিক করোনা ভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতি বিবেচনায় অসুস্থ বিএনপি চেয়ারপারসনের শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার বিষয়ে লন্ডনে অবস্থানরত ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমানের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তার আগ পর্যন্ত সাবেক এ প্রধানমন্ত্রী সরকারের স্বাস্থ্যবিধি মেনে ‘স্টে অ্যাট হোম’ থাকবেন বলে জানিয়েছেন তার চিকিৎসকরা।

ডা. জোবাইদা রহমানের তত্ত্বাবধানে দেশে ছয় সদস্যের একটি মেডিক্যাল বোর্ড খালেদা জিয়ার চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন। তারা হলেন অধ্যাপক ডা. এফএফ সিদ্দিকুর রহমান, অধ্যাপক ডা. রাজিবুল আলম, অধ্যাপক ডা. আবদুল কুদ্দুস, অধ্যাপক ডা. হাবিবুর রহমান, অধ্যাপক ডা. জাহিদ হোসেন ও ডা. মামুন।

গতকাল মঙ্গলবার জানতে চাইলে বোর্ডের সদস্য বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন টেলিফোনে আমাদের সময়কে বলেন, ‘ম্যাডাম এখন কোয়ারেন্টিনে আছেন। আগামী বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) তার সেলফ হোম কোয়ারেন্টিন শেষ হবে।’

সরকারের নির্বাহী আদেশে কারাবন্দি খালেদা জিয়া গত ২৫ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল থেকে মুক্তি পেয়ে গুলশানের ভাড়াবাসা ‘ফিরোজা’য় আসেন। বাসায় ফেরার পর ব্যক্তিগত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা কার্যক্রম চলছে। তার সঙ্গে নার্সসহ সেবা প্রদানকারী কয়েকজন সদস্যও সেলফ কোয়ারেন্টিনে রয়েছেন ‘ফিরোজা’র দোতলায়।

ডা. জাহিদ বলেন, ‘ম্যাডাম আগের চেয়ে মানসিকভাবে ভালো আছেন। তবে দীর্ঘদিন ধরে যথাযথ চিকিৎসা না পাওয়ায় তার পুরনো রোগগুলো জটিল আকার ধারণ করে। লন্ডন থেকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানে স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ম্যাডামের চিকিৎসা চলছে। এখন তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল আছে।’

৭৫ বছর বয়সী খালেদা জিয়া রিউমাটিজ আর্থারাইটিস, ডায়াবেটিস, চোখ ও দাঁতের নানা রোগে আক্রান্ত।

ব্যক্তিগত চিকিৎসক টিমের একাধিক সদস্যের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, খালেদা জিয়ার হাত-পায়ের ব্যথাটা বেশি। তার শারীরিক অসুস্থতা অনেক বেশি। তিনি হাঁটতে পারেন না। ব্যথা উপশমের জন্য গরম পানিতে তোয়ালে ভিজিয়ে থেরাপি দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এতে উনি আরাম অনুভব করছেন।

ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে জনগণকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার কথা বলা হয়েছে। তা ছাড়া আগামী ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত সাধারণ ছুটি। এর মধ্যে তো ম্যাডামের শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্ভব নয়। সে ক্ষেত্রে পরিস্থিতি বিবেচনায় যতদূর সম্ভব আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

খালেদা জিয়ার পারিবারিক সূত্র জানায়, কোয়ারেন্টিন থেকে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে, টিভি ও সংবাদপত্রে চোখ বুলিয়ে অবসর সময় পার করছেন খালেদা জিয়া। গৃহকর্মী ফাতেমা ছাড়াও একজন নার্সকে তার দেখভালের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ব্যক্তিগত চিকিৎসকরা নিয়মিত তার স্বাস্থ্যের খোঁজখবর রাখছেন। তাদের পরামর্শে নেতাকর্মীসহ কারও সঙ্গে এ মুহূর্তে দেখা-সাক্ষাৎ করছেন না। পরিবারের দু-একজন সদস্য তার সঙ্গে দেখা করতে পারেন। সেটিও নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে।

পারিবারিক সূত্রে আরও জানা যায়, হোম কোয়ারেন্টিনে থাকলেও সোশ্যাল এবং অনলাইন মিডিয়ার মাধ্যমে নিকট-আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন খালেদা জিয়া। দেশের বাইরে থাকা ছেলে, ছেলের বউ ও নাতনিদের সঙ্গে স্কাইপে কথা বলছেন।

ঢাকায় থাকা ভাইবোন, তাদের ছেলেমেয়ের সান্নিধ্যও পাচ্ছেন খালেদা জিয়া। ফলমূল ছাড়া বাইরের কোনো খাবার খাচ্ছেন না। যেটুকু খাবার তিনি খাচ্ছেন তা বাসায়ই রান্না হচ্ছে। বোনের বাসা থেকেও আসে পছন্দের খাবার। খালেদা জিয়ার বাড়ির কাজকর্ম পুরোটাই করছেন গৃহকর্মী ফাতেমা বেগম। যিনি খালেদা জিয়ার সঙ্গে কারাগারে ছিলেন।