» ক্যাশ আউট হাজারে সর্বোচ্চ চার্জ হবে ৪ টাকা

প্রকাশিত: ২৪. এপ্রিল. ২০২০ | শুক্রবার

 

জাতির সংবাদ টোয়েন্টিফোর ডটকম ।।

রপ্তানিমুখী শিল্পের শ্রমিকদের আগামী তিন মাসের বেতন বিশেষ প্রণোদনা তহবিল থেকে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। কিন্তু মোবাইল ব্যাংকগুলোয় ক্যাশ আউটের ক্ষেত্রে চার্জ অনেক বেশি। এটি নিয়ে আপত্তি তুলেছিল শ্রমিকপক্ষ। প্রতি হাজার টাকা ক্যাশ আউট করতে ফি দিতে হয় সাড়ে ১৮ হাজার থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত। এখন শ্রমিকদের বেতন গ্যাসের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ চার্জ হবে ৪ টাকা। গতকাল নির্ধারণ করে দিয়ে সার্কুলার জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেম বিভাগ।

দেশের রপ্তানিমুখী শিল্প শ্রমিকদের বেতন দিতে পাঁচ হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠন করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। মাত্র ২ শতাংশ সার্ভিস চার্জ দিয়ে বিনাসুদে ছয় মাসের গ্রেস পিরিয়ডসহ ২ বছরের জন্য এ ঋণ নিতে পারবেন শিল্পমালিকরা। তবে এই টাকা শিল্পমালিকদের কাছে দেওয়া হবে না। সরাসরি শ্রমিকদের অ্যাকাউন্টে পাঠাবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো। এ জন্য ২০ এপ্রিলের মধ্যে শ্রমিকদের মোবাইল ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার নির্দেশ দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এই সময় বিকাশ, রকেট ও নগদ এই তিন জনপ্রিয় মোবাইল ব্যাংকিংয়ের ২৬ লাখ নতুন অ্যাকাউন্ট খোলা হয়। এর মধ্যে বিকাশের সাড়ে ১২ লাখ ও রকেট এবং নগদের সাত লাখ করে নতুন অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে। মোবাইল ব্যাংকিংগুলোর সাধারণ চার্জ আদায় করলে, ১০ হাজার টাকা বেতন পেলে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত ফি দিতেই চলে যেত। শ্রমিকদের স্বার্থ বিবেচনাকরে ফি কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

গতকালের সার্কুলারে বলা হয়েছে, গত ২ এপ্রিল রপ্তানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধের জন্য সবাইকে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্ট খোলার নির্দেশনা দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এই স্কিমের আওতায় পরিশোধিত বেতনভাতা ক্যাশ আউটের ক্ষেত্রে শ্রমিক-কর্মচারীদের স্বার্থ বিবেচনায় ফি আদায়ে শুধু কষ্ট রিকভারি বা কোনো ক্ষেত্রে সাবসিডি প্রদানের জন্য অপারেটরদের (নগদসহ) অনুরোধ করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ বা হাজারে ৮ টাকার বেশি চার্জ আদায় করা যাবে না। এর মধ্যেও এমএফএস অপারেটরদের নিজেদের কমিশন থেকে ৪ টাকা দেবে ঋণ প্রদানকারী ব্যাংক। বাকি ৪ টাকা পরিশোধ করবে গ্রাহক বা প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক।

উল্লেখ্য, গত ২ এপ্রিল বৃহস্পতিবার একটি সার্কুলার জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। সার্কুলারে বলা হয়, রপ্তানিমুখী শিল্প খাতের শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠন করা হয়েছে। এই তহবিল থেকে কেবল সচল রপ্তানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানের মালিকরা ঋণ নিতে পারবেন।