» করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে মানহীন পিপিইতে বাজার সয়লাব

প্রকাশিত: ২০. এপ্রিল. ২০২০ | সোমবার

জাতির সংবাদ টোয়েন্টিফোর ডটকম।।      
করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের পর কয়েকটি বিষয়ের সঙ্গে সাধারণ মানুষেরও বেশ পরিচিতি ঘটেছে। এর মধ্যে অন্যতম একটি হচ্ছে- পার্সোনাল প্রটেকটিভ ইক্যুইপমেন্ট (পিপিই)। এটি সচরাচর চিকিৎসকরা ব্যবহার করেন স্পর্শকাতর রোগীকে চিকিৎসাপ্রদানের সময় অথবা অস্ত্রোপচারের সময়।

কিন্তু প্রাণঘাতী করোনার সংক্রমন থেকে রক্ষা পেতে এখন শুধু চিকিৎসকই নন, পুলিশ, সাংবাদিক, স্বাস্থ্যকর্মী থেকে শুরু করে সচেতন অনেক সাধারণ মানুষও এটি পরিধান করছেন। করোনা নিয়ে দেশের এই ক্রান্তিকালে পিপিই-র কাটতি যাচ্ছে বেশ। নানা প্রতিষ্ঠানের পিপিইতে বাজার সয়লাব হয়ে গেছে। কিন্তু, এসব পিপিইর অধিকাংশই মানহীন ও ঝুঁকিপূর্ণ। অর্থাৎ পার্সোনাল প্রটেকটিভ ইক্যুইপমেন্ট বা ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জামটি মোটেও সুরক্ষা দিতে পারছে না।

জিটেক লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটি মূলত সোলার নিয়ে কাজ করে। করোনাকালে তারাও নেমেছে মেডিক্যাল ইক্যুইপমেন্ট ব্যবসায়। প্রতিষ্ঠানটির একটি অফার দিয়েছে। ১শ পিস পিপিই ক্রয় করলে প্রতিটির দাম পড়বে ৮৫০ টাকা করে। আরও বেশি ক্রয় করলে দাম কমে দাঁড়াবে ৭৫০ টাকা। তাদের প্রতি সেট পিপিইতে রয়েছে এক সেট পার্সোনাল প্রটেকটিভ ক্লথ, এক জোড়া গ্লাভস, একটি মাস্ক ও এক জোড়া সুজ কভার।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক অনুমোদিত কাপড়ে ও ডিজাইনে স্থানীয়ভাবে তৈরি এটি। বিজ্ঞাপনে এমন তথ্যের উল্লেখ দেখে যোগাযোগ করা হলে প্রতিষ্ঠানটির মার্কেটিং ম্যানেজার লিসাও বলেন, দেশীয় প্রোডাক্ট আমরা দেশীয় গার্মেন্ট দিয়ে তৈরি করে থাকি। এগুলো স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদিত।

এক সেট পিপিই এর দাম বলা হয়েছে ১২৫০ টাকা থেকে ৭৫০ টাকা। পিপিই প্যাকেটে থাকছে তিনটি প্রোডাক্ট (পিপিই ড্রেস, মাস্ক একটি এবং হ্যান্ড গ্লোভস ২টি)। এই পিপিই ওয়ানটাইম নয়, ওয়াশেবল। পরিষ্কার করার পর পুনরায় ব্যবহার করতে পারবেন। ডাক্তার, নার্স, স্বেচ্ছাসেবক, হাসপাতাল, প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা যোগাযোগ করুন। সেইফটেক নামে একটি আইডি থেকে সোস্যাল মিডিয়ায় এমন বিজ্ঞাপনের সঙ্গে দুটি মোবাইল নাম্বার দেওয়া হয়েছে।

এর মধ্যে একটি নম্বরে যোগাযোগ করা হলে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান আরিফুল ইসলাম আরিফ বলেন, এটা ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশনের গাইডলাইন মেনে একটি কোম্পানিকে দিয়ে আমরা তৈরি করাই। এসব পিপিই ঢাকার নিউরোসায়েন্স হাসপাতালসহ অনেক হাসপাতালে তারা সরবরাহ করে থাকেন বলেও দাবি করেন তিনি। সেইফটেক মূলত টেকনোলজি বিষয়ক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। তারাও এখন এ ব্যবসা করছেন।

এ বিষয়ে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স অ্যান্ড হাসপাতালের ডা. আসিফ হাসান খান আমাদের সময়কে জানান, আমাদেরকে বাইরের কোনো পিপিই সরবরাহ করা হয় না। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে সরবরাহ করা পিপিই দেওয়া হয়।
বাজারের পিপিই সম্পর্কে তিনি বলেন, আসলে যেসব পিপিই পরে ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া যায় এবং জীবাণুরোধক, সেগুলো অনেক মান নিয়ন্ত্রণ করে তৈরি করা হয়, সেগুলোর দামও বেশি। এখন যে যেভাবে পারছে, পিপিই বানাচ্ছে, বিক্রি করছে। এ ক্ষেত্রে চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়ে যাচ্ছে। তারা কতটুকু মান নিয়ন্ত্রণ করে সেটি নিয়ে যথেষ্ট প্রশ্ন আছে। কারণ জীবাণু রোধে যে কোয়ালিটি রক্ষা করা দরকার, অধিকাংশই তা করছে না।

শুধু অনলাইনে নয়, রাজধানীর বিভিন্ন দোকানেও পিপিই পাওয়া যাচ্ছে। অনেকগুলোর দাম ৩শ থেকে ৪শ টাকা। অনেকেই এসব কেনার পর মন্তব্য করছেনÑ এটাকে সাদা রেইন কোট বলাটাই শ্রেয়তর। অনেক গরম লাগে। অল্পতেই ঘেমে যেতে হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক গার্মেন্টস মালিক বলেন, আমাদের দেশে এখন যে পিপিই পাওয়া যাচ্ছে সেগুলো শপিংব্যাগের কাপড় দিয়ে তৈরি। এগুলোকে জীবাণুনাশক বলা যাবে না। আমিও তৈরি করছি। তবে বলে নিচ্ছি যে, এগুলোর কোয়ালিটি কিন্তু এমন। এগুলো ভাইরাস প্রোটেক্ট করে বলে মনে হয় না।