» করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে আসুন আমরা সবাই মিলে যার যতটুকু সামর্থ আছে তাই নিয়ে অসহায় দিনমজুর মানুষের পাশে এসে দাঁড়ায়” : মোঃ আকতার হোসেন

প্রকাশিত: ২৮. মার্চ. ২০২০ | শনিবার

জাতির সংবাদ টোয়েন্টিফোর ডটকম।।    জাতির এই ক্রান্তিকালে অনেকেরই শখ আছে সাধ্য নাই, অনেকের মনেই নাড়া দেয় অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারতাম, অনেকেই ভাবে আমার চেয়ে অনেক খারাপ অবস্থায় মানুষ আছে আমি তাদের জন্য কিছু করে যেতে চাই। তেমনি এক নিবেদিতপ্রাণ সমাজসেবক গরিবের বন্ধু
বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী কল্যাণ ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আকতার হোসেন । তার ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়া এক অনুভুতি “জাতির সংবাদ টোয়েন্টিফোর ডটকম”র পাঠকদের সুবিধার্থে হুবহু তুলে ধরা হলো :

 

“করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে আসুন আমরা সবাই মিলে যার যতটুকু সামর্থ আছে তাই নিয়ে অসহায় দিনমজুর মানুষের পাশে এসে দাঁড়ায়”

আজ তিন দিন হলো করোনা ভাইরাসের কারণে বাসা থেকে বের হয়নি। কিন্তু মনের ভিতর খুব অস্থিরতা কাজ করছে। বারবার মনে হচ্ছিল আমি তো পরিবার নিয়ে বেশ ভালোই আছি। সমাজের অসহায় রিকশা চালক দিনমজুর মানুষগুলো এই মহামারীর সময় কেমন আছে? বারবার একই প্রশ্ন মাথার মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে, নিজের মধ্যে খুব অস্থিরতা কাজ করছে। কি করবো, কি করা যায় ভাবছিলাম? ঠিক এই সময়ে আমার এক বন্ধু মোবাইলে কল করে, তাকে বললাম, চল দেখে আসি অসহায় মানুষদের কি অবস্থা? সে উত্তরে বললো এ মুহূর্তে ঘর থেকে বের হওয়া ঠিক হবে না। মনটা বেশ খারাপ হলো। বিষয়টি স্ত্রীর সাথে শেয়ার করলাম। সে আমার মতকে সমর্থন করলো। কোন কিছু না ভেবেই কিছু টাকা নিয়ে বের হলাম। কিছু পথ যেতেই দেখলাম এক মধ্যে বয়সি চাচা রিকশা থেকে যাত্রী নামাচ্ছে। তার পাশে গিয়ে দাড়াঁলাম। চাচাকে জিজ্ঞাসা করলাম চাচা কেমন আছেন? উত্তরে বললেন, ভালো নেই বাবা বড়ই কষ্টে আছি। চাচা বললো, কি যেন একটা রোগ আসছে দেশে। মানুষ মারা যাচ্ছে কেহ ঘর থেকে বের হচ্ছে না, রাস্তায় মানুষ নাই, বড় রাস্তায় রিকশা নিয়ে যেতে দিচ্ছে না। জিজ্ঞাসা করলাম কখন ঘর থেকে বের হয়েছেন? বাবা ফজলের নামাজের পরে। এখন পর্যন্ত কতো টাকা ভাড়া পেয়েছেন। তিনি বললেন দেখতে হবে,  বলেই কোমরের লুঙ্গির ভাঁজে মধ্যে  থেকে টাকা বের করে আমার হাতে দিলেন। আমি গুনে দেখলাম  ১৮৭/-  টাকা। চাচাকে জিজ্ঞাসা করলাম, এই রিকশা কি আপনার নিজের, নাকি ভাড়ায় চালান? তিনি বললেন, ভাড়ায় চালায়, মালিককে প্রতিদিন ২৫০\- টাকা দিতে হয়। জিজ্ঞেস করলাম আপনার ছেলে মেয়ে কয়জন? তিনি বললেন, ৭ (সাত) জন। দুই ছেলে বিয়ে করে তারা পৃথক থাকে। তারা আমাকে কোন খরচপত্র দেয়না। বাকি সদস্য নিয়ে আমি একটা বসতিতে থাকি। চাচার সব কথা শুনে চাচার রিকশায় চড়ে চাচার বসতিতে গেলাম, অবাক দৃষ্টিতে শুধু চেয়ে চেয়ে দেখলাম, এক জরাজীর্ণ ঘরের মধ্যে (বারান্দসহ) ৭ (সাত) জনার বসবাস। চাচীকে জিজ্ঞেস করলাম, সংসার চলে কিভাবে? চাচার একার আয়ে কি সংসার চলে? চাচী বললো আমিও বাসাবাড়িতে কাজ করি। কিন্তু এখন কাজ বন্ধ। বাসায় যাওয়া নিষেধ করে দিয়েছে। এখন সংসার চলে কিভাবে? আল্লাহ্ চালাই। অবাক দৃষ্টিতে চেয়ে থাকলাম আর ভাবলাম সত্যিই আল্লাহ্ ছাড়া ওনাদের আর কেহ নাই। চাচীকে জিজ্ঞেস করলাম, বাসায় কয়দিনের খাবার আছে।  উত্তরে বললো দিন আনি দিন খায়। এতে বুঝলাম বাসায় খাবার মজুদ নাই। এবার চাচাকে নিয়ে বাজারের দিকে রওনা হলাম। পথের মাঝে আরো একজন বৃদ্ধ রিকশা চালকের সাথে দেখা ওনারও একই অবস্থা। দুই জনকে নিয়ে বাজারে গিয়ে কিছু চাল, ডাল, তেল, আলু, পেঁয়াজ, মাছ এবং সাথে কাচা বাজার করার জন্য কিছু নগদ টাকা দিয়ে দিলাম। তাদের মুখের হাসি দেখে মনের অজান্তেই আমার দুই চোখ অশ্রুতে ভরে গেলো। তাদেরকে বিদায় দিয়ে বাসায় আসলাম।

উপরোক্ত কথাগুলো লেখার একটিই কারণ,  যারা সমাজে বিত্তশালী, মধ্যেবিত্ত যার যতটুকু সামর্থ আছে,  ততটুকু নিয়ে এই মহামারীর সময় অসহায় দিনমজুর মানুষের পাশে এসে দাঁড়ায়।

“মানব প্রেমই পরম ধর্ম
মানুষ মানুষের জন্য”

ধন্যবাদান্তে,
মোঃ আকতার হোসেন