» করোনা পরীক্ষার ৫০ হাজার ‘অনুমোদনহীন’ কিট এনেছেন গাজীপুরের মেয়র, বিলি করছেন দেশব্যাপী!

প্রকাশিত: ০৭. এপ্রিল. ২০২০ | মঙ্গলবার

জাতির সংবাদ টোয়েন্টিফোর ডটকম।।।   

করোনাভাইরাস সনাক্ত করার জন্য চীন থেকে ব্যক্তিগত উদ্যোগে ৫০ হাজার র‍্যাপিড টেস্ট কিট আমদানি করেছেন গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র জাহাঙ্গীর আলম। তবে এসব কিট আমাদানির জন্য ওষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের কোনো অনুমোদন নেননি তিনি।

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র জাহাঙ্গীর আলম নিজেই বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, এ পর্যন্ত ৫০ হাজার কিট আমদানি করেছেন। এ ছাড়া চীনে আরও এক লক্ষ কিট প্রস্তুত আছে। চাইলে সেগুলোও তিনি আনতে পারেন বলে দাবি করেন।

অনুমোদনের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে যেসব কিট আনছি, সেগুলো আমি বিভিন্ন হাসপাতালে দিয়েছি। এ ছাড়া আমার স্টকে কিছু আছে। এগুলো বিপদ মোকাবিলার জন্য এনে রাখছি। আমদানির অনুমোদন নিতে সবমিলিয়ে ১৮০ দিন পর্যন্ত টাইম লাগে। এখন বিশ্বজুড়ে মহামারি অবস্থা। এতদিন সময় লাগলে মানুষ বাঁচবে?’

গাজীপুরের এই মেয়র জানান, ডাক্তারদের পরামর্শ অনুযায়ী এসব কিট ব্যবহার করা হবে। তার দাবি, তিনি র‍্যাপিড টেস্ট কিট ছাড়াও পারসনাল প্রোটেকশন ইকুইপমেন্ট (পিপিই) আমদানি করেছেন। এ ছাড়া র‍্যাপিড টেস্ট কিট আমদানি করে অন্যান্য জেলায়ও দিয়েছেন।

পাবনার বেড়া উপজেলায় এ ধরনের টেস্ট কিট দেওয়ার কথা জানান গাজীপুর সিটি করপোরেশনের এই মেয়র।

এ বিষয়ে পাবনার বেড়া পৌরসভার মেয়র আব্দুল বাতেন বলেন, ‘তার অনুরোধের প্রেক্ষিতে গাজীপুরের মেয়র জাহাঙ্গীর আলম বেড়া উপজেলার জন্য ২০০ র‍্যাপিড টেস্ট কিট দিয়েছেন।’

এই র‍্যাপিড টেস্ট কিটের বিপদ সম্পর্কে তিনি অবগত আছেন কি না? এমন প্রশ্নে বেড়া পৌরসভার মেয়র বলেন, “আমি তো বিশেষজ্ঞ নই। এটা আমার জানা নাই। ডাক্তারদের বলেছি এগুলো বুঝে শুনে ব্যবহার করতে। দরকার হলে সিভিল সার্জনের সাথে কথা বলতে।’

একই ধরনের টেস্ট কিট গিয়েছে নাটোরের সিংড়া উপজেলায়। এখানে ২০০ কিট দেওয়া হয়েছে।

নাটোরের সিভিল সার্জন বলেন কাজী মিজানুর রহমান জানান, এসব কিট দিয়ে যাতে পরীক্ষা না করা হয় সেজন্য তিনি নির্দেশ দিয়েছেন।

সিভিল সার্জন বলেন, ‘আমাদের এখানে যদি সন্দেহজনক নমুনা সংগ্রহ করা হয়, তাহলে আমরা সেগুলো রাজশাহী মেডিকেল কলেজে পাঠিয়ে দেই। সেখানে পিসিআর মেশিনের মাধ্যমে পরীক্ষা করা হয়।’

বাংলাদেশের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এএসএম আলমগীর বলেন, ‘র‍্যাপিড টেস্ট কিট বাংলাদেশে এখনো অনুমোদন দেওয়া হয়নি। বিষয়টি নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। কেউ যদি সেটি আমদানি করে তাহলে নিয়ম বহির্ভূতভাবে করেছে।’

বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপ-উপাচার্য এবং ভাইরোলজিস্ট অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, ‘এসব র‍্যাপিড টেস্ট কিট ব্যবহারের কিছু বিপদ রয়েছে। এগুলোর মান সম্পর্কে শতভাগ নিশ্চিত হতে না পারলে পরীক্ষার ফলাফল ভুল হওয়ার ঝুঁকি থাকতে পারে।‘

‘সেজন্য ওষধ প্রশাসন অধিদপ্তর দ্বারা এগুলোর মান নির্ণয় করা জরুরি। কিন্তু এসব র‍্যাপিড কিট আমদানির ক্ষেত্রে ওষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের কোনো অনুমোদন নেওয়া হয়নি, বলেন তিনি।

অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, “এসব কিটের ক্ষেত্রে স্পেসিফিকেশন (রোগ নির্ণয়) প্রায় শতভাগ হওয়া প্রয়োজন। দেখা গেল কারো দেহে হয়তো করোনাভাইরাসের অস্তিত্ব নেই, কিন্তু র‍্যাপিড টেস্টের মাধ্যমে ভুল হলে তাকে হয়তো পজিটিভ দেখানো হতে পারে। আবার যার দেহে করোনাভাইরাস আছে, তার ক্ষেত্রে যদি ফলস নেগেটিভ হয়, তাহলে তো সে নিশ্চিন্তে ঘুরে বেড়াবে এবং অন্যদের সংক্রমিত করবে।’

ওষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের অনুমোদন ছাড়া এসব র‍্যাপিড টেস্ট কিট কীভাবে বাংলাদেশে আসছে সেটি নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেন অধ্যাপক নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘সাধারণত যেসব করোনাভাইরাস পরীক্ষার জন্য ল্যাবরেটরির সুবিধা নেই, সেসব এলাকায় র‍্যাপিড টেস্ট কিট ব্যবহার করা যেতে পারে। র‍্য্যাপিড টেস্ট কিটের ক্ষেত্রে মান নির্ণয় অত্যন্ত জরুরি।’-বিবিসি বাংলা