এই মাত্র পাওয়া:

» করোনা কালের কথকতা -১

প্রকাশিত: ২৭. মে. ২০২০ | বুধবার

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

 

### মোঃ জামাল উদ্দিন আহমেদ ###

 

জীবন ও জগতের পরিবর্তন হয়। অনেকে বলেন, শুধু জীবনের পরিবর্তন হয়, জগতের হয় না । এটা ঠিক না। জগতেরও পরিবর্তন ঘটে । জগতের যা কিছু সময়ের সাথে সাথে তা ঠিক আগের মতো থাকে না । কথাটি মনে হলো প্রথম কর্মস্থলের স্মৃতি সামনে আসায়।
চাকরি করবো না বলেই ব্যবসা শুরু করেছিলাম বাবার কথা না মেনে । তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে অনেকগুলো টাকা পুঁজি হিসেবে নিয়েছিলাম । বাবা বলেছিলেন, এমএ পাস করলেই ব্যবসা করা যায় না । ব্যবসা শিখতে হয়। কে শুনে কার কথা । ফলাফল যথারীতি সব পুঁজি হাওয়া । চরম হতাশায় যখন চোখে শর্ষেফুল, দুই জুনিয়র ফ্রেন্ডের উৎসাহ ও আয়োজনে বিসিএস পরীক্ষা দেয়া । আয়োজনে মানে ফরম ফিল আপ থেকে শুরু করে চালান তৈরি এবং আবেদন পাঠানো সব তারাই করেছে। মোট এগার জন ছিলাম পরীক্ষার্থী ঐ উপনিবেশে মানে কলোনিতে। সবাই পড়াশুনা করে আমি আড্ডা দিয়ে বেড়াই আর এতগুলো টাকা কোথায় গেল তা ভেবে ভেবে অবাক হই । পরীক্ষা দিই পালিয়ে পালিয়ে । কারণ তখন চার পাঁচ ব্যাচ পরের সবাই পরীক্ষার্থী হয়ে গেছে । প্রথম দিন ছাড়া সব কটি পরীক্ষায় হলে ঢুকেছি পাঁচ মিনিট পর, বের হয়ে গেছি পাঁচ মিনিট আগে । ব্যর্থ বুড়ো মনে হতো নিজেকে। লজ্জা এড়াতে তাই এই পলায়ন । পরীক্ষার ফলে বেরুলে দেখি আল্লাহ্ অপরিসীম দয়ায় আমাকে প্রাত্যহিক লজ্জা থেকে রক্ষা করেছেন । কলোনিতে একমাত্র আমারই মনোনয়ন হয়েছে এবং তা প্রশাসনে। আমার সাবজেক্ট পাবলিক এডমিনিসট্রেশন। ফিজিক্স পড়ে ব্যাংকার হবার ঝামেলা নেই ।
রাজশাহী বিভাগে ন্যস্ত হই আমরা একশ তিপ্পান্ন জন। রাজনৈতিক সমস্যার তথা হরতাল ঘোষণার মধ্যে যোগদানের নির্দেশ দেয়া হয় । এত নবাগতকে সার্কিট হাউজ কিম্বা ডাকবাংলোতে স্থান দেয়া সম্ভব হয় না । তাই রাজমহল হোটেলেই অবস্থান নিতে হয় তিন দিন আগে থেকে । তিন দিনের ওরিয়েন্টশন শেষে পদায়ন হয় সিরাজগঞ্জ জেলায় । প্রথম প্রেমের মতোই গুরুত্বপূর্ণ প্রথম পোস্টিং । এও জানি যোগদানের জন্য সাত দিন সময় পাবো মানে জয়েনিং টাইম পাবো। দেই দৌড় চট্টগ্রামে । মনে দিলে চট্টগ্রাম ছাড়াটা মানতে পারছিলাম না। পরে জেনেছি, ডিসি সাহেব এই জয়েনিং টাইম ভোগ করা নিয়ে খুব উষ্মা প্রকাশ করেছিলেন ।
সিরাজগঞ্জ কীভাবে যাবো তা আগেই জেনে নিয়ে মহাখালী থেকে ভুয়াপুর যাত্রা করি। লঞ্চে যমুনা পার। লঞ্চে নদীর ওপারে টেলিফোন টাওয়ারটি নজরে আসে । জানতে পারি, ওটাই সিরাজগঞ্জ । লঞ্চ থেকে লেপতোষক নিয়ে নামার পর বুঝতে পারি, আমার আগমন সংবাদটি জেলা প্রশাসনকে না জানিয়ে বড় ভুল করে ফেলেছি। কীভাবে ডিসি অফিসে যাওয়া যাবে জানতে চাইলে স্থানীয় লোকজন ভ্যানগাড়ি দেখিয়ে দেয় । আমি ভাবতে পারিনা মানুষ কীভাবে ভ্যানগাড়িতে চড়ে । অনেক চেষ্টা করে এক রিকশায় লেপতোষক আরেক রিকশায় নিজে জেলা প্রশাসকের অফিসের উদ্দেশ্যে রওনা দেই। যমুনা ঘাটে অনেক মনুষ্যবাস । জানতে পারি, এগুলো ঘাটের পতিতা নিবাস।

অনেক দিন পর সিরাজগঞ্জ গেলাম মানে প্রায় আঠাশ বছর পর। সবমিলিয়ে সিরাজগঞ্জ ও চৌহালী উপজেলায় তিন বছরের মতো ছিলাম । কিন্তু আঠাশ বছর আগে যে সিরাজগঞ্জকে ফেলে গিয়েছিলাম তা আর খুঁজে পাইনি । অনেক ইট পাথর জমা হয়েছে । নদী ভেঙ্গে ভেঙ্গে অনেক ভূমি গ্রাস করে নিয়েছে । প্রথম পোস্টিং বা প্রথম প্রেম সিরাজগঞ্জ বড্ড অপরিচিত মনে হলো । তাইতো বলি, জীবন শুধু বদলায় না জগতও বদলায় । সময় এগিয়ে যায় সবকিছু পিছনে ফেলে ।

অনেক গল্প জমা আছে, সিরাজগঞ্জের এবং চাকরি জীবনের । ভাবছি সব লিখবো কিন্তু কীভাবে লিখবো মানে শুরু করবো এগোব তা ভেবে উঠতে পারছি না । এটি একটি নিরীক্ষা । দেখি কী ফলাফল আসে ।

-ফেসবুক স্ট্যাটাস থেকে নেয়া

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ২৮ বার

[hupso]
Facebook Pagelike Widget