» এফডব্লিউভিরা প্রসব, গর্ভবতী চেকআপ ও জন্মনিয়ন্ত্রণে আউটডোর ও ইনডোর সেবা প্রদান করে যাচ্ছেন প্রতিনিয়ত

প্রকাশিত: ২২. এপ্রিল. ২০২০ | বুধবার

জাতির সংবাদ টোয়েন্টিফোর ডটকম।।   
ঠাকুরগাঁও মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে। এখানকার চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরাও (এফডব্লিউভি) বসে নেই। করোনা ভাইরাস সংক্রমণের সরকারি নির্দেশনা মেনে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছেন তারা। এই কেন্দ্র থেকে সেবা নিয়ে গর্ভবর্তী মায়েরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

ঠাকুরগাঁও জেলায় প্রথম তিনজন করোনা সংক্রমণ রোগী শনাক্ত হওয়ার পর গত ১১ এপ্রিল লকডাউন করা হয় পুরো জেলা। সোমবার পর্যন্ত এ জেলায় করোনা সংক্রমণ ছয়জন রোগী শনাক্ত করেছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। তাদের মধ্যে পাঁচজনই ঢাকার নারায়ণগঞ্জ জেলা থেকে ফেরত।

মানুষের চলাচলে সরকারি নানা বিধিনিষেধ, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা আর ঘর থেকে বের না হওয়ার নির্দেশনা দেয় জেলা প্রশাসন। কিন্তু জরুরি প্রয়োজনে স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ ও সেবা প্রদানে এই বিধি শিথিল রাখা হয়েছে। তাই সেবা নিতে প্রতিদিনই আসছেন গর্ভবতী মায়েরা ঠাকুরগাঁও মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে। তারা নিয়মিত শারীরিক চেকআপ করাচ্ছেন। এই কেন্দ্রটি ২৪ ঘণ্টাই খোলা থাকে প্রসব সেবা দেওয়ার জন্য।

গত ১৮ মার্চ থেকে দেশে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে বন্ধ করে দেওয়া দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এরপর একে একে ছুটি ঘোষণা করা হয় সব সরকারি অফিস-আদালতসহ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানও। এরপরও থেমে নেই ঠাকুরগাঁও মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রটি। এখানকার চিকিৎসক ও এফডব্লিউভিরা প্রসব, গর্ভবতী চেকআপ ও জন্মনিয়ন্ত্রণে আউটডোর ও ইনডোর সেবা প্রদান করে যাচ্ছেন প্রতিনিয়ত।

ঠাকুরগাঁও জেলা মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের এক হিসাবে দেখা যায়, গত এক মাসে (১৮ মার্চ থেকে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত) স্বাভাবিক প্রসব হয়েছে ৩৫টি, গর্ভবর্তী মাকে সেবা দেওয়া হয়েছে ৩২০ জনকে, প্রসবোত্তর সেবা দেওয়া হয়েছে ৫০ জনকে। জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতিতে ইনজেকশন দেওয়া হয় ১৭০ জনকে, ইমপ্লানন ৪০ জনকে, খাবার বড়ি দেওয়া হয়েছে ১৯০ জনকে, কনডম প্রদান করা হয় ২০ জনকে ও আইইউডি সেবা দেওয়া হয়।
এছাড়াও অন্যান্য সাধারণ রোগী হিসাবে সেবা দেওয়া হয় ৪০০ জনকে ও ১০২ জন শিশু ও ৪০ জন কিশোরীকেও দেওয়া হয় স্বাস্থ্যসেবা।

সোমবার সকালে ঠাকুরগাঁও মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র ঘুরে রোগীদের সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে সেবা দিতে দেখা গেছে চিকিৎসা ও এফডব্লিউভিদের। চিকিৎসক ও সেবা কর্মীরা পিপিই, হাতে গ্লাভসসহ অন্যান্য সামগ্রী পরিধান করে সেবা দিচ্ছেন এই কেন্দ্রটিতে।

জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার লোহাগাড়া থেকে এসেছেন জাহানারা নামে এক গর্ভবতী। তিনি নিয়মিত চেকআপে এসেছেন। তিনি বলেন, লকডাউনে সারাক্ষণ ঘরেই থাকি। কিন্তু স্বাস্থ্যসেবা নিতে এই কেন্দ্রে এসেছি। চিকিৎসকদের আন্তরিকতায় আমারা সন্তুষ্ট। সেবা প্রদানকারী চিকিৎসক ও কর্মীরা সতর্কতার সঙ্গে খুব যত্নসহকারে সেবা প্রদান করছেন।

তার মতোই সদর উপজেলার জামালপুর গ্রামের মিনতি রানী, বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার রীনা খান নিয়মিত স্বাস্থ্য চেকআপ করেন। এ ছাড়াও সাধারণ চিকিৎসায় এসেছেন শহরের গোবিন্দনগরের বাবলি আক্তার, মুন্সীপাড়ার মহন্ত বালা। ওই দিন শহরের কলেজপাড়ার কিলকিস বেগম ও ঝর্ণা বেগম এসেছেন জন্মনিয়ন্ত্রণের ইনজেকশন নিতে।

ওই দুজন বলেন, এই কেন্দ্র পরিচ্ছন্ন এবং করোনা সংক্রমণ রোধে সব ধরনের বিধি মেনেই চিকিৎসকরা চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছেন। নরমাল ডেলিভারির জন্য সর্বক্ষণিক খোলা থাকে এই কেন্দ্রটি বলে জানান তারা।

ঠাকুরগাঁও মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা মেহেবুবা শিরীন শুভ ও সহকারী পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা খালেদা ফাহমি বলেন, এই কেন্দ্রে সব ধরনের সেবা দেওয়া হচ্ছে রোগীদের। অনেক সময় সদর হাসপাতাল থেকেও ফিরে আসছেন এই কেন্দ্রে সেবা নিতে।

কেন্দ্রের মেডিকেল অফিসার ডা. মোহাম্মদ রেজা হাবীব বলেন, ঠাকুরগাঁও মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে গর্ভবতী মায়েদের সব ধরনের সেবা, জন্মনিয়ন্ত্রণ সেবাসহ সর্দি, কাশি, জ্বরসহ অন্যান্য রোগের চিকিৎসা প্রতিনিয়ত দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়াও করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে সচেতনতা বৃদ্ধির কাজও করা হচ্ছে এখানে। এখানে শিশু ও কিশোর-কিশোরীদেরও সেবা দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়াও মাঠ পর্যায়ের কেন্দ্রগুলোতেও সেবা প্রদান অব্যাহত এবং তা পরিদর্শন করা হচ্ছে নিয়মিত।