এই মাত্র পাওয়া:

» একুশের বিদায়ের বেলায় আগত মার্চ

প্রকাশিত: ০২. মার্চ. ২০২১ | মঙ্গলবার

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আমাদের বাংলা ভাষা আজ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, বহু ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত একটি স্বাধীন ভাষা। পৃথিবীর অন্য কোন জাতিকে তাদের মাতৃভাষার জন্য প্রাণ দিতে হয়নি। দিতে হয়নি বুকের তাজা রক্ত। শুধু বাঙালি মায়ের সন্তানেরাই তাদের এ মাতৃভাষার জন্য প্রাণ দিয়েছে। বহু মায়ের সন্তানদের বুকের তাজা রক্তের বিনিময়ে অর্জন করা হয়েছে এই বাংলা ভাষা। এই ভাষাটি বাঙালি জাতির মায়ের ভাষা বাংলা। বাংলাদেশ আমাদের মা, তাই এ ভাষা আমাদের মায়ের ভাষা, আজ আন্তর্জাতিক খ্যাতিতে রূপ লাভ করেছে। এ কারণেই আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা মানে বাঙালিদের জন্য একটি বিশেষ দিন। এই দিনে আমরা আমাদের প্রিয় ভাষা বাংলাকে বাঙালির মাতৃভাষা হিসেবে অর্জন করেছি। আর এই বিশাল অর্জনের পিছনে রয়েছে বহু বাংলা মায়ের সন্তানদের প্রাণের বিসর্জন। যাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি বাংলা ভাষায় কথা বলার অধিকার। যাদের ত্যাগে বাংলা বিশ্ব আসনে পেয়েছে গৌরবের উচ্চাসন। মায়ের ভাষার মর্যাদা রক্ষায় ১৯৫২-এ জীবন দিয়েছিলেন সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার সহ আরো অনেকেই। তাদের রক্তের বিনিময়েই আজকে বাঙালি জাতির মুখে মুখে বাংলা ভাষা। রচিত হচ্ছে গান, কবিতা, উপন্যাস হাজারো কথার মালা। এই অমর একুশে ফেব্রুয়ারি বাঙালির রক্তঝরা ভাষা আন্দোলনের স্বীকৃতি দিয়ে জাতিসংঘের সহযোগী সংস্থা ইউনেস্কো ১৯৯৯ সালের ১৭ই নভেম্বর ২১শে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণার মধ্য দিয়ে বাংলা ভাষাকে বিশ্বের দরবারে করেছে অলংকৃত। কিন্তু আজ আমাকে লজ্জার সাথে বলতে হচ্ছে, বাঙালি জাতি তাদের নিজেদের অর্জিত ভাষাকে ভুলুন্ঠিত করে যাচ্ছে, আবার অন্যদিকে এখন আধুনিকতার চর্চায় ভিনদেশিদের ভাষা ও সংস্কৃতিতে আসক্ত হয়েছে বলে আমরা দেখছি। একটি জাতিকে ধ্বংস করতে হলে প্রথমে তার ভাষা ও সংস্কৃতি ধ্বংস করতে হয়। এখন যেভাবে বাঙালি জাতি অনেকাংশে সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের শিকার হয়ে হিন্দি, ইংরেজি গান, নাটক, সিনেমায় আসক্ত হয়ে তাদের হি-বাংলিশ ব্যবহার করে চলেছে। তাই অন্যদিকে আমরা দেখতে পাই নিজ মাতৃভাষা নিগৃহীত হচ্ছে। আজ আমাদের দেশের বাবা-মায়েরা যেভাবে ভিনদেশি ভাষা ও সংস্কৃতি চর্চা করে আসছে, এখন বাবা বলে মাই সন আর সন্তান বলে পাপ্পা। এভাবে আমাদের ভাষা ও সংস্কৃতির অপচর্চা হতে থাকে। তাহলে আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্ম কিভাবে তাদের মাতৃভাষাকে শহীদদের সম্মান ধরে রাখবে? আজ আমরা হয়তো ভুলতে চলেছি, আমাদের সেই ভাষাসৈনিকদের তথা যাঁদের জীবনের বিনিময়ে এই বাংলা ভাষাকে আমাদের স্বাধীন মাতৃভাষা করে দিয়ে গেছেন। এই লক্ষ্যে আমি/আমরা সকল শহীদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি। বিদায়ের বেলায় দু’হাজার একুশ ভাষার মাস আগত মার্চ।

লেখক: মিরাজুল ইসলাম শান্ত
ছাত্রনেতা

Facebook Pagelike Widget