» একজন বীর মুক্তি যোদ্ধার গল্প

প্রকাশিত: ১৪. জুন. ২০২২ | মঙ্গলবার

।। লেখক: মোঃ শহিদুল্লাহ মিয়া ।।

মোঃ নূরুল ইসলাম পিতা মৃত রস্তম আলী মাতা মোছা অজুদের নেসা।১৯৫৬সালে ৩রা এপ্রিল জন্ম গ্রহণ করেন, গ্রামঃ কমলপুর পোস্টঃ সমাজ সহিলদে উপজেলা মোহনগঞ্জ জেলাঃ নেএকোণা। প্রাইমারী স্কুল কমলপুর, হাইস্কুল খিলা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে তিনি মেট্রিক পাস করেন এবং মোহনগঞ্জ কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট পাশ করেন এই বীর মুক্তি যোদ্ধা। জনাব মোঃ নূরুল ইসলাম ১৯৭১সালে এপ্রিল মাসে ১১নাম্বার সেক্টর ট্রেনিং সেন্টার মেগালয় প্রদেশ তুরা ক্যাম্প থেকে একমাস প্রশিক্ষণ শেষ করেন, ১৯৭১ সালে যুদ্ধ ক্ষেত্রে প্রথম যুদ্ধ দুর্গাপুর থানার বারং পাড়া পাকবাহিনী ক্যাম্প কোম্পানি কমান্ডার চৌধুরী ইলিয়াস আহমেদ নেতৃত্বে প্রথম যুদ্ধ করে পারংপাড়া সেখান থেকে কলমাকান্দা বাংলাদেশের সিমান্ত বর্তী থেকে যুদ্ধ করতে করতে নৌকা যুগে আমরা এলাকায় মুক্ত করি।আবার নৌকা বেয়ে মোহনগঞ্জ থানা বরান্তর গ্রামে এসে রাত যাপন করি,সেখান থেকে কেন্দ্রা বইসের বাজার পাকবাহিনীকে ঘায়েল করার জন্য রাস্তা একটি ব্রীজ ভেঙে দেয় ঐ রাতে যাতে করে পাকিস্তানী ক্যাম্পে হামলা চালোনো সহজ হয়, তবে আমরা মুক্তি বাহিনীরা রাজাকারদের ধরতে সক্ষম হই এবং পাকিস্তানীকে ঘায়েল করে বাইশটা রাইফেল তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করি।কেন্দ্রয়া আশ্চর্য স্কুল মাঠে ভারতের ক্যাপটিন সোহানের হাতে অস্ত্র ও গুলি জমা দেয়,তার পর মদন থানা পাকবাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত হয়,এর আগে কাইটাইল বাজার এর মোড়ে এম ব্রসে ফেলে পাকবাহিনী কে গুলি করে হত্যা করি,অবশেষে আমরা নিজ থানা মোহনগঞ্জে কোম্পানি কমান্ডার গোলাম মোলা তালুকদার পাকবাহিনীর হাতে ধরা পরেছে শুনে আমরা কোম্পানি সহ ছুটে যায়।মোহনগঞ্জে যুদ্ধ অভিযান শুরু করি ব্যাপক ভাবে, এবং ঐ থানা থেকে পাঁচ জন রাজাকার দিলওয়ার নেতৃত্বে আমাদের কাছে আয়ত্ব সমর্থন করেন, ব্যাপক যুদ্ধের ফলে মোহনগঞ্জ থেকে ৭ই ডিসেম্বর রাতে সকল পাকবাহিনী পালিয়ে যায়। এবং ৮ইডিসেম্বর মোহনগঞ্জ মুক্ত দিবস আমরা ঘোষণা করি।এই দিনে মোহনগঞ্জ রাজাকারদের মধ্যে কুখ্যাত রাজাকার কে ধরে হত্যা করে,তখনকার সময় মোহনগঞ্জ লঞ্চ ঘাট বর্তমানে পাথর ঘাটা নামে পরিচিত, সেখানে একটি বড় গর্ত করে রাজাকারদের মাটি চাপা দেয়, ১৪ ই ডিসেম্বরে বুদ্ধি জীবি দের কে হত্যা করে পাকিস্তানীরা, ১৬ই ডিসেম্বরে ৯৩নব্বই হাজার পাকবাহিনী ও মিত্র বাহিনী হাতে ঢাকা রেসকোর্স ময়দানে আতত্বসমর্পন করে কর্নেল এম জি ওসমানীর কাছে। তার পর আমি ১৯৭২সাল থেকে ৫ন সমাজ সহিলদে ও ইউনিয়নে কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করি,১৯৯২ সাল থেকে মোহনগঞ্জ উপজেলার কমান্ডার আহবায়ক নির্বাচিত হই,এবং ১৯৯৪ সালে ৫ই আগষ্ট মাসে নির্বাচনের মাধ্যমে তলোয়ারের পথিক নিয়ে উপজেলা কমান্ডার মুক্তি যোদ্ধাদের ভোটে নির্বাচিত হই,২০০১ সাল পযর্ন্ত দায়িত্ব পালন করি। তাছাড়া সমাজ স্কুলে ম্যানেজিং কমিটি সভাপতি ছিলেন, বর্তমানে তিনি মোহনগঞ্জ উপজেলার আওয়ামী লীগের বিষয় সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি একজন দূর সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন বাংলাদেশে মুক্তি যুদ্ধ চলাকালীন ওনার সাহসিকতার দৃষ্টান্তই আমাদের বাঙালির জাতির গর্ব, আমরা বাঙালি শ্রেষ্ঠ সন্তানের শ্রদ্ধা সাথে স্বরন করবো ইতিহাসের পাতা শূন্য অক্ষরে যাদের বিনিময়ে এই দেশের স্বাধীনতা পেয়েছি ৯ মাস যুদ্ধ করে মুক্তির সনদ । আজ আমাদের মাঝে বেচে আছেন তিনি, বীর মুক্তি যোদ্ধা মোঃ নূরুল ইসলাম।