এই মাত্র পাওয়া:

» ঈদের চাঁদ

প্রকাশিত: ২৩. মে. ২০২০ | শনিবার

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

 

★ ★ সিকদার আব্দুস সালাম ★ ★

ঈদের চাঁদ দেখাও একটি আনন্দের বিষয়। ছোটবেলা বাড়ির পশ্চিম পাশে বিলের পাশে দাঁড়িয়ে থাকতাম চাঁদ দেখার জন্য। চাচাদের হাতে বড় পটকা থাকতো। কোথাও চাঁদ দেখা গেলে পটকা ফুটানো হতো। গ্রামে গ্রামে হৈহুল্লোড় শুরু হয়ে যেত।
★ বর্তমানে বিজ্ঞানের যুগে কি হচ্ছে? যেটা হচ্ছে তাহলো হ-য-ব-র-ল। যতই বিজ্ঞানের জয়জয়কার হচ্ছে ততই মানুষ ধর্ম নিয়েও গবেষণা করে। গবেষণায় বেরিয়ে আসে অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য।
★ এক সময় তর্ক ছিল পৃথিবী ঘুরে না সূর্য ঘুরে। প্রমাণ হলো পৃথিবী ঘুরে। আবিষ্কার হলো অনেক অনেক নতুন নতুন গ্রহ। মানুষ চাঁদে পৌঁছলো। মঙ্গল গ্রহে যাওয়ার অপেক্ষায়। পৃথিবীতে আবিষ্কৃত হয়েছে ফাইভজি মোবাইল। যার দ্বারা বাংলাদেশে বসে আটলান্টিক মহাসাগরের পানিও দেখা যায়। মায়ের গর্ভের সন্তান ছেলে না মেয়ে তা গর্ভধারণের ৩ মাস পরই বলে দেয়া যায়। এমনই একটি যুগে বাস করছি যেখানে অপরাধ করেও আর পালিয়ে থাকা যায় না। প্রযুক্তির কল্যাণে ফেরাউনকেও নীল নদের তলদেশে থেকে উত্তোলন করা হয়েছে। পৃথিবীতে কখন কোন্ দেশে নতুন চাঁদ উঠবে তাও বলে দেয়া যায়।
★ ইসলামিক গবেষকরা বিজ্ঞানের যুগের আগেও বলেছেন অমাবশ্যার পরই নতুন চাঁদের জন্ম হয়। এ ক্ষেত্রে হযরত সুরেশ্বরী র. তাঁর নূরেহক গঞ্জেনূর কিতাবে বিস্তারিত লিখেছেন। আমরা চন্দ্রগ্রহনের সময় দেখি, চাঁদটি গ্রাস করার পর আস্তে আস্তে আবার আলোকিত হচ্ছে। অন্ধকার সরে যাচ্ছে। ঠিক অমাবশ্যাও এভাবেই সরে। কিন্তু আমরা খালি চোখে নতুন চাঁদ দেখি উদয়ের প্রায় ২৭ ঘণ্টা পরে। ততক্ষণে বাংলাদেশের আগে অনেক দেশেই চাঁদ দেখে।
★হযরত মুহাম্মদ সা. মক্কা নগরীতে জন্মগ্রহণ করেন। এখানকার ভাষা আরবি। এখানেই পবিত্র কাবা শরীফ। পবিত্র কুরআন শরীফ মক্কায়ই নাজিল হয়েছে। হিজরি সনের দিনক্ষণ গণনা হয় এখান থেকেই। অন্যান্য ভাষার মতো মহা উৎসবে এরাবিয়ানরা আরবি নববর্ষ উদযাপন করেন। আমাদের ভাষা বাঙলা হলেও একজন মুসলমান হিসেবে ইসলামি পর্বসমূহ পালনের জন্য হিজরি সন তারিখ প্রাধান্য দিয়ে থাকি। কিন্তু গণনার কাজটি এরাবিয়ানদেরই করা উচিত।
★ পৃথিবীতে মানুষ বাড়ার সাথে সাথে বহু রাষ্ট্রেরও সৃষ্টি হয়েছে। ইসলাম ধর্ম এখন আর মক্কা নগরীতে সীমাবদ্ধ নেই। পৃথিবীর সব মেরুতেই মুসলমান আছেন। কোথাও সংখ্যাগরিষ্ঠ। কোথাও ক্ষুদ্রাকারে। সবাই আমরা ইসলামের আলোতে আলোকিত।
★ ঈদ নিয়ে মুসমানরা আজ দুই সারিতে বিভক্ত। এক সারি হলো নিজ দেশের ভৌগোলিক সীমারেখার মধ্যে চাঁদ দেখে ঈদ করতে হবে। অন্য সারি হলো- সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে ঈদ উদযাপন করা।
★ যুক্তি ঃ ভৌগোলিক সীমারেখা যারা মানেন তাদের যুক্তি হলো ১. এ দেশের সরকার. ২. বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবের দূরত্ব, ৩. দুই দেশের সময়ের পার্থক্য আড়াই ঘণ্টা, ৪. খালি চোখে চাঁদ দেখা। ৫. একদিন আগে রোজা থাকে আবার একদিন আগে রোজা ভেঙে রোজার মধ্যে ঈদ করে।
★ যারা সৌদি আরবের সাথে ঈদ করেন তাদের যুক্তি হলো ঃ ১. সৌদি আরব যেহেতু পৃথিবীর মাঝখানে সেহেতু ওখানে চাঁদ দেখা গেলে খবরটা দ্রুত পৌঁছায়। ২. বেশির ভাগ সময়ই প্রথম চাঁদ দেখা যায় সৌদি আরবে। ৩. চাঁদের কোনো ভৌগোলিক সীমারেখা নেই। ৪. মাত্র আড়াই ঘণ্টা পার্থক্যের জন্য একদিন পর ঈদ করা যুক্তিসঙ্গত নয়। ৫. চাঁদের হিসাব ঠিক না থাকলে শবেবরত, শবেকদরও ঠিক থাকে না। ৬. আরাফার ময়দানে হজ্ব দেখার পর দিন কোরবানি করা। ৭. তিন জন মমিন মুসলমান চাঁদের উদয়ের সংবাদ দিলে রোজা রাখা ও ঈদ করা। ৮. ভৌগোলিক সীমারেখাওয়ালারা রোজার শুরুতে থাকে না আবার ঈদের দিন রোজা থাকে। ফলে প্রতিবছর দুইটা রোজা কম থাকে।
পূর্ব এশিয়ার দেশ ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ব্রুনাইসহ বিশ্বের এক- তৃতীয়াংশ দেশ এবং অন্য দেশের ২৫% মানুষ সৌদি আরবের সাথে ঈদ উদযাপন করেন। বাকি মানুষ আছে সরকারের দিকে তাকিয়ে।
★ বাংলাদেশের মুফতি বোর্ড, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়ার মুফতি বোর্ড বা মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মুফতি বোর্ডের সমন্বয়ে একটি সিদ্ধান্ত নিলে ঈদ নিয়ে বিভ্রান্তি না হওয়ারই কথা। এদেশের মুসলমানরা এ রকম একটি সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছেন।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৮২ বার

[hupso]
Facebook Pagelike Widget