» ইতিহাসের অন্তরালে সংবাদ পত্রের কালো দিবস ও আজকের প্রেক্ষাপটঃ

প্রকাশিত: ১৪. জুন. ২০২২ | মঙ্গলবার

 

।।মোহাম্মদ সাখাওয়াৎ হোসেন ইবনে মইন চৌধুরী।।

১৯৭৫ সালের ১৬ জুন স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা তথা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হরণ করা হয়। বিভিন্ন সংবাদপত্রে কর্মরত অসংখ্য সংবাদকর্মী বেকার হয়ে পড়েন। অনিশ্চিত হয়ে পড়ে তাদের রুজি-রোজগার ও সন্তানদের ভবিষ্যৎ। আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের মূল চেতনা ছিল বাংলাদেশের ভৌগলিক স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র। গণতন্ত্রে মানুষের নাগরিক স্বাধীনতা নিশ্চিত হয়। মানুষের স্বাধীনতার মূল শর্ত হচ্ছে বাক, চিন্তা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা। সংবাদপত্রের স্বাধীনতার মধ্যে যার বহিঃপ্রকাশ ঘটে। কিন্তু স্বাধীনতাত্তোর ক্ষমতাসীনরা স্বাধীনতা যুদ্ধের মূল চেতনার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে বহুদলীয় গণতন্ত্রের পথচলাকে স্তব্ধ করে দিয়ে একদলীয় বাকশাল ব্যবস্থা কায়েম করে। সংবাদপত্রের স্বাধীনতা হরণ মূলত চিন্তা ও বিবেককে বন্দি রাখা।
সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র ফিরিয়ে দিয়ে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেন। বাতিল করেন বাকশালী আমলের সব কালাকানুন। বিএনপি বহুমত, পথ ও গণতন্ত্র রক্ষার সংগ্রামে বারবার অগ্নিপরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে। বহুমাত্রিকতা বিএনপির রাজনৈতিক আদর্শ। বারংবার অবৈধ স্বৈরাচারী গোষ্ঠীর কবল থেকে গণতন্ত্রকে মুক্ত করেছে বিএনপি। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় বর্তমান আওয়ামী সরকার পুরনো বাকশালের পুনরুত্থান ঘটিয়েছে। সংবাদপত্র ও সাংবাদিকদের ওপর দমন-পীড়ন অব্যাহত রেখেছে। নানা কালাকানুন প্রণয়ন করে তা দিয়ে সংবাদপত্র এবং ভিন্নমত ও সত্য প্রকাশের স্বাধীনতার গলা চেপে ধরা হয়েছে। বর্তমান সময়ে দেশের সব গণমাধ্যম সত্য প্রচারে শঙ্কিত থাকে, না জানি কখন সরকারের রোষানলে পড়তে হয়। স্বাধীন সাংবাদিকতা ও সত্য প্রকাশ করতে গিয়ে অসংখ্য সাংবাদিককে নিষ্ঠুর নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে, মিথ্যা মামলায় কারাবরণ করতে হয়েছে। এমনকি গুম ও হত্যাকাণ্ডেরও শিকার হতে হয়েছে।  প্রেসিডেন্ট জিয়া উর রহমান ক্ষমতায় এসে গনতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রুপ দিতে আওয়ামিলীগ সহ সকল রাজনৈতিক দল গুলোকে রাজনীতির মাঠে আনেন।গণমাধ্যমকে মুক্ত করেদেন।বিচার বিভাগকে স্বাধীন করার পথ উন্মোচিত করেন।রাষ্ট্রের বেতনভুক্ত সেবকদের রাষ্ট্রের মালিক জনগনের কাছে জবাবদিহি করার উদ্যোগ গ্রহণ করেন।জনগন রাষ্ট্রের মালিক এটি জনগন উপলব্ধি করে স্বতস্ফুর্ত ভাবে দেশের উন্নয়নে অংশ গ্রহণ করে।দেশবাসী নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য মূল্য নিয়ন্ত্রণে পাওয়া, রেশন দোকানের কথা ভুলে যায়।বহুদলীয় গনতন্ত্রের প্রব্যক্ত সাংবাদিকদের সাথে যখনই কথা বলতেন!তার একটা কথা ছিল আমরা জনগনের খাদেম আর রাষ্ট্রের বেতনভুক্তরা জনগনের কল্যাণে কাজ করবে!এর ব্যতয় ঘটলে আপনারা মানে সাংবাদিকরা তা তুলে ধরবেন।জাতীয় প্রেসক্লাবের বরাদ্দ সহ সাংবাদিকদের কল্যানে নানা মুখী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। তিনি সাম্প্রদায়িক অপশক্তি, সম্প্রসারণবাদ,,আধিপত্যবাদ,সাম্রাজ্যেবাদের নিলনক্সা প্রতিহত করতে,মুসলিম রাষ্ট্র গুলোর মধ্যে সুসম্পর্ক গড়ে তুলার কাজে আত্মনিয়োগ করেন।সাম্প্রদায়িক অপশক্তি আর আধিপত্যবাদের চক্রন্ত তিন দিকে শক্র বেষ্টিত হযরত শাহজালাল -হযরত শাহ পরান সহ ৩৬০ আউলিয়ার পূর্ণ ভুমিকে নিরাপদ করতে সার্ক গঠন করেন।ইসলামী সম্মেলন সংস্হা(ওআইসি)’র  সম্মেলনের আয়োজন করে জাতীয় সংসদ ও শাহ জালাল এয়ারপোর্টের কাজ সম্পূর্ণ করেন। স্বাধীন বাংলায় প্রথম যে পত্রিকা ডিক্লেয়ারেশন বাতিল হয় তার নাম”হক কথ”। এই পত্রিকা স্বপ্নদ্রোষ্ট্রা ছিলেন স্বাধীনতার স্বপ্নদ্রোষ্ট্রা,রুপকার, স্হপতি,প্রবাসী সরকারের উপদেষ্টা মজলুম জনতার নেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী।পত্রিকাটা সমাজের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরতে গিয়ে নয় মাসের অধিক প্রকাশনা থাকতে দেওয়া হয়নি?তার পর পর্যায়ক্রমে সংবাদ মাধ্যম বন্ধের প্রতিযোগিতা শুরু হয়। এর ফলশ্রুতিতে দূবৃত্তদের অভয়ারণ্যে আর আধিপত্যবাদ মাথাচারা দিয়ে উঠতে থাকে।এক পর্যায়ে রক্ত দিয়ে কিনা স্বাধীনতা বিশ্বমানচিত্রে তলা বিহীন ঝুড়ি হিসাবে আত্মমর্যাদাহীন হয়ে পরে।আর এ জন্যে সাংবাদিক সমাজ দিনটিকে কালো দিবস হিসাবে পালন করে।ওয়ান ইলেভেনের দখলদাররা ক্ষমতা হস্তান্তর পর প্রথম নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ববধায়ক সরকার বিল বাতিল করে।তারপর রাষ্ট্রের বেতনভুক্ত সেবকদের দায়মুক্ত করে।এরপর সিএসবি টিভি,চ্যানেল ওয়ান,দিগন্ত টিভি,ইসলামি টিভি সাময়িক ভাবে বন্ধ করলেও সাময়িক এখন শেষ হয় নাই!এর পর সর্বপ্রথম আমারদেশ সাময়িক ভাবে শুধু বন্ধই করে নাই!এখনেই শেষ নয় তারপর সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে কাল্পনিক মামলা দিয়ে রিমান্ডে অত্যাচারের অভিযোগ আছে।আদালত প্রাঙ্গণে তার উপর নিলজ্জের মত পুলিশ প্রশাসনের সামনে হামলা করেছে। দৈনিক সংগ্রামের ডিএফপি বাতিল করেছে,সম্পাদক আবুল আসাদ, সাহাদত হোসেন,সাংবাদিক নেতা রুহুল আমীন গাজীকে গ্রেফতার করে জোর পূর্বক ১৭ মাস কারাগারে রেখেছে!আরেক নেতা শওকত মাহমুদকে অর্ধশতাধীক মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। তথ্যমন্ত্রনালয় ও চলচ্চিত্র প্রকাশনা যৌথ উদ্যোগে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে  পত্রিকা বন্ধ শুরু করেছে। কিন্তু যে অজুহাতে পত্রিকা গুলো বন্ধ করছে বা করার উদ্যোগ গ্রহণ করছে!কিন্তু পত্রিকা গুলো নিয়মিত প্রকাশ না হওয়ার কারণ, রাষ্ট্র জানা এবং সমস্যার সমধান করেছে,এমনটি জানা যায় না!৪০ বছর আগের তথাকথিত মামলার বিচার শাস্তি হয়!কিন্তু সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনী হত্যকারীদের এখন চিহ্নিত করতে না পেরে খালি সময় নিচ্ছে। এদিকে আধিপত্যবাদের আগ্রাসনে মৌলিক মানবিক আর নাগরিক ও ভোটের অধিকার শুন্যের ঘরে।ইসলামের দাওয়াত দানকারী ও মুক্তি পথ নির্দেশনাকারীদের জামিনে আপত্তি। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া বিদেশে উন্নত চিকিৎসা নিতে যেতে পারছে না!বিশ্বমানবতার দিকনির্দেশনাকারী হযরত নবী করিম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নিয়ে কুটক্তির রাষ্ট্রীয় ভাবে প্রতিবাদ করতে ব্যর্থ হলেও জনগন প্রতিবাদ করতে গেলে বির্তকীত ডক্টরদের ভেঙ্গচি দেখতে হয়।আজ গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নাই বলেই বিশ্বমানচিত্রে পদে পদে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হতে চলেছে। এবার পত্রিকা সরাসরি বন্ধ না করে নতুন কৌশল শুরু হয়েছে। ১)পত্রিকার ট্রেড লাইসেন্স করা,২)ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন করে অনুসন্ধান মুলক সংবাদ থেকে বিরত রাখা,৩) সংসদে পাশের অপেক্ষায় গণমাধ্যম কর্মী সুরক্ষা আইন।এ গুলোকে আড়াল করতে সাংবাদিক কল্যান ফাউন্ডেশন তৈরী হয়েছে তা থেকে যাদের প্রয়োজন তারা কি আদোও সাহায্যে পাচ্ছে কিনা তা একটু অনুসন্ধান করলে বুঝা যাবে! তারপর প্রণোদনার টাকার ব্যাপারে একই রকম অভিযোগ! আবারো সংবাদপত্রের কালো দিবস অন্য কৌশলে চলছে।কর্পোরেট হাউজ বা রাষ্ট্র ও নাগরিকদের সম্পদ লুটেরাদের নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়া গণমাধ্যম আর গনমানুষের কথা বলার অধিকার রাখে কি!সর্বশেষ নিউজ প্রিন্টের দাম বৃদ্ধি করে ঢাকার দায়িত্বশীল পত্রিকা গুলো সহ জেলা শহরের অধিকাংশ পত্রিকা বন্ধের নতুন ফাঁদ বলে সাংবাদিক মহলের ধারণা। চতুর দিকে অন্ধারের মধ্যে এ বছর কালো দিবস চার দেওয়ালের মধ্যে পালন হবে।

 

লেখক: সিনিয়র  সাংবাদিক ও চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক এ্যাসোসিয়েশন(বিআরজেএ)