এই মাত্র পাওয়া:

» আর্জেন্টিনার জয়

প্রকাশিত: ১১. জুলাই. ২০২১ | রবিবার

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

জাতির সংবাদ টোয়েন্টিফোর ডটকম।।
দীর্ঘ ২৮ বছর পর কোপা আমেরিকার শিরোপা পুনরুদ্ধার করল আর্জেন্টিনা। মারাকানায় ব্রাজিলকে ১-০ গোলে হারিয়ে কোপা আমেরিকা ২০২১-এ চ্যাম্পিয়ন হলো মেসিরা। আর এর মাধ্যমে প্রথম আন্তর্জাতিক ট্রফি জয় হলো লিওনেল মেসির।

আজ রোববার সকালে ৬টায় রিও দে জেনেইরোর মারাকানা স্টেডিয়ামে ১-০ গোলে জিতেছে আর্জেন্টিনা।

দীর্ঘ ২৮ বছরের শিরোপা আক্ষেপ গুছিয়েছে আর্জেন্টিনা। দক্ষিণ আমেরিকান চ্যাম্পিয়নশিপ ও কোপা মিলিয়ে মোট ১৫ বার খেতাব জিতল আর্জেন্টিনা। এর ফলে তারা ছুঁয়ে ফেলে উরুগুয়েকে। আপাতত সবচেয়ে বেশি ১৫ বার করে কোপা জয়ের রেকর্ড যুগ্মভাবে লেখা রইল উরুগুয়ে ও আর্জেন্টিনার নামে। এরই মধ্য দিয়ে ক্যারিয়ারে প্রথম কোনো আন্তর্জাতিক শিরোপা জিতেছেন আর্জেন্টাইন তারকা ফরোয়ার্ড লিওনেল মেসি।

বাংলাদেশ সময় আজ সকালে হওয়া ম্যাচের শুরু থেকেই একে অপরের ওপর চাপ বাড়ানোর চেষ্টা করে যাচ্ছিল দুই দল। তবে অ্যাঞ্জেলো দি মারিয়ার গোলে প্রথমার্ধেই এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। ২০০৪ সালের পর কোপা আমেরিকার ফাইনালে গোল করলেন কোনো আর্জেন্টিনার ফুটবলার। রডরিগো ডি পলের বাড়ানো পাস আটকাতে ব্যর্থ হন ব্রাজিলের রেনান লোডি। পা বাড়িয়েছিলেন তিনি, কিন্তু পৌঁছতে পারেননি।

ওই বল পেয়ে যান দি মারিয়া। একাই এগিয়ে যেতে থাকেন বল নিয়ে। তার গতির সাথে পেরে ওঠেনি কেউ। গোলের সামনে পৌঁছে ব্রাজিলের গোলরক্ষক এডেরসন মোরায়েজের মাথার ওপর দিয়ে বল পাঠিয়ে দেন জালের ভিতর।

প্রতিযোগিতার বাকি ম্যাচে বারবার দেখা গেছে ডি মারিয়াকে প্রথম একাদশে রাখেননি লিওনেল স্কালোনি। তবে দি মারিয়া নামতেই আর্জেন্টিনার খেলায় ছন্দ দেখা যেত। ফাইনালে তাই কোনো রকম দেরি করেননি আর্জেন্টিনার প্রশিক্ষক। জানতেন শুরুতেই গোল করতে পারলে বাড়তি আত্মবিশ্বাস পাবে দল। প্রথম একাদশেই রেখেছিলেন দি মারিয়াকে। সুফলও পেলেন।

দুই দলই একে অপরের অর্ধে চাপ বাড়ানোর চেষ্টা করেছিল। ৩৪ মিনিটের মাথায় গোল বক্সের সামনে ফ্রি কিক পেয়েছিল ব্রাজিল। তবে আর্জেন্টিনার মানব প্রাচীরে ধাক্কা খেয়ে ফেরে নেমারের শট। প্রথমার্ধে বল দখলের লড়াইয়ে এগিয়ে ছিল ব্রাজিল। গোলে দুটি শটও নিয়েছিল তারা। কিন্তু গোল করতে পারেনি।

ম্যাচ শুরুর ৩ মিনিটের মাথায় হলুদ কার্ড দেখেন ব্রাজিলের ফ্রেড। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই তাঁকে তুলে তিতে। ফ্রেডের বদলে মাঠে নামেন রবের্তো ফিরমিনো। একে অপরের জামা ধরা, চোরাগোপ্তা পা চালানো, ইচ্ছাকৃত ভাবে আটকে রাখা চলতেই থাকে দুই দলের মধ্যে। হলুদ কার্ড দেখেন আর্জেন্টিনার লিয়েন্ড্রো প্যারাদেসও।

৫২ মিনিটের মাথায় গোল পেয়েই গিয়েছিল ব্রাজিল। রিচার্লিসনের শট জালে জড়িয়ে যায়। তবে অফ সাইড ছিলেন তিনি। বাতিল হয়ে যায় সেই গোল। ২ মিনিটের মধ্যে ফের আক্রমণে উঠে আসে ব্রাজিল। ফের সুযোগ পান রিচার্লিসন। তাঁর জোরালো শট আটকে দেন এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। বারবার আক্রমণে উঠতে থাকে ব্রাজিল। চাপ বাড়তে থাকে আর্জেন্টিনার রক্ষণে। বক্সের মধ্যে এক বার পড়ে যান নেমার। তবে পেনাল্টি দেননি রেফারি।

সময় যত এগিয়েছে ব্রাজিল মরিয়া হয়ে উঠেছে। ফ্রি কিক পেয়েছে, কর্নার পেয়েছে, মাঠে আসা কিছু দর্শকের উৎসাহ পেয়েছে কিন্তু গোল করতে পারেননি নেমাররা। গোল না খাওয়ার পণ করে নেমেছিলেন ওটামেন্ডিরা।

আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে ম্যাচ জমে উঠে। ম্যাচে ফিরতে মরিয়া হয়ে উঠে ব্রাজিল। তবে আর্জেন্টিনার জমাট রক্ষণ কিছুতেই ভেদ করে পারেনি স্বাগতিকরা। ৮৭তম মিনিটে গাব্রিয়েল বার্বোসার দুর্দান্ত শট ফিরিয়ে দেন মার্টিনেজ। এতেই জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে আর্জেন্টিনা।

Facebook Pagelike Widget