» আমি সারা বিশ্বের এক নম্বর অর্থমন্ত্রী

প্রকাশিত: ০৬. ফেব্রুয়ারি. ২০২০ | বৃহস্পতিবার

 জাতির সংবাদ টোয়েন্টিফোর ডটকম।।       অর্থমন্ত্রী বুধবার জাতীয় সংসদে স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত, সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষ, পাবলিক নন-ফাইন্যানশিয়াল কর্পোরেশনসহ স্ব-শাসিত সংস্থাগুলোর তহবিলের উদ্বৃত্ত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা তৈরিতে বিল পাসের জন্য সংসদে তুললে বিরোধিতায় সরব হন বিরোধীদের আসনে বসা দুই দলের সদস্যরা।

ঋণ কেলেঙ্কারিতে ব্যাংক খাত ধুঁকতে থাকার মধ্যে এই আইন করা হলে তা একটি ‘কালো আইন’ হিসেবে বিবেচিত হবে বলে মন্তব্য করেন তারা। শেয়ারবাজারে ধস, অর্থপাচার ও ঋণ খেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না কেন, সে প্রশ্ন তুলে অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামালের সমালোচনা করেন তারা। অর্থমন্ত্রী যে একজন ‘ব্যবসায়ী’, সে কথাও ইঙ্গিতপূর্ণভাবে বলেন কেউ কেউ।

জাতীয় পার্টির সদস্য মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, “অর্থমন্ত্রী ব্যবসায়ী হলে যা হয় তাই হয়েছে। বাজেট করার সময় চিন্তা করে নাই? রাজস্ব ঘাটতি সম্পর্কে চিন্তা করে নাই? ৩৫ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি। আগের বছরের চেয়ে ৪৫ ভাগ রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য ঠিক করেছিল। করেছে মাত্র ৭ শতাংশ। এনবিআরের ব্যর্থতার কারণে এই বিল সমর্থন করতে পারছি না। প্রত্যাহার করার দাবি করছি।

“আমি একজন অ্যাডভোকেট। এটা বললে কি অপরাধ হবে? উনি চার্টার্ড একাউনটেন্ট। কিন্তু উনার মূল পরিচয় একজন ব্যবসায়ী। এটাতে আহত হওয়ার কারণ নেই। আমরা আশা করেছিলাম, সাকসেসফুল বিজনেসম্যান, অর্থনীতিতে ভালো করবেন। কত দূর ভালো করেছেন উনি চিন্তা করবেন। ব্যাংকের মালিক ডিরেক্টররা ঋণ নিয়ে বসে আছেন। এটা কি দেশ? টাকা পাচার হয় উনি ব্যবস্থা নেয় না। বিভিন্ন সংস্থার টাকা খরচ করছেন। আাগমী বছর ট্যাক্স না পেলে কী করবেন।”

বিগত সরকারের শ্রম প্রতিমন্ত্রী চুন্নু বলেন, “২০১৭ সালে আমাকে বেস্ট লেবার মিনিস্টারের অ্যাওয়ার্ড দিয়েছিল। কেন যে দিয়েছিল, তা আমি জানি না।”

অর্থমন্ত্রীর সমালোচনা করে বিএনপির রুমিন ফারহানা বলেন, “অর্থমন্ত্রী অসাধারণ মেধাবী ছাত্র ছিলেন। সাধারণ অবস্থা থেকে ব্যবসায়ী হয়েছেন। উনি অর্থনীতি বোঝেন না এটা পাগলেও বিশ্বাস করবে না। তাহলে সমস্যটা কোথায়? উনার সদিচ্ছার অভাব। এত মেধাবী তিনি কিন্তু শেয়ারবাজার, খেলাপি ঋণ নিয়ে কিছু করলেন না। কেন মেধাবী অর্থমন্ত্রী এদিকে নজর দিচ্ছেন না? উনি ধনী সমাজের জন্য অর্থমন্ত্রী হন নাই। কেন খেটে খাওয়া মানুষের দিকে উনার নজর নেই?”

জবাব দিতে গিয়ে অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল বলেন, “একবার চিন্তা করে দেখেন। সাইফুর রহমান চার্টার্ড একাউনটেন্ট ছিলেন। আমিও তাই। আমি সারা বিশ্বের এক নম্বর অর্থমন্ত্রী। পারসোনাল লেভেলে কথা বলবেন, এটা ঠিক নয়। আমিও অনেক কিছু বলতে পারি। সবারই বিষয়েই আমি জানি।”

লন্ডনভিত্তিক ‘দ্য ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস’ গ্রুপের সাময়িকী ‘দ্য ব্যাংকার’ গেল মাসে বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালকে ‘ফাইন্যান্স মিনিস্টার অব দ্য ইয়ার ২০২০’ ঘোষণা করে।

সে সময় অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সারা বিশ্বের অর্থমন্ত্রীদের আর্থিক খাতে গতিশীলতা আনা ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন নিশ্চিতকরণে গৃহীত পদক্ষেপসহ সার্বিক বিবেচনায় এ পুরস্কার দেওয়া হয়।

এশিয়া-প্যাসিফিক, আমেরিকা, আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপ- এই পাঁচটি অঞ্চল থেকে পাঁচ জন অর্থমন্ত্রীকে বাছাই করা হয় এবং তাদের মধ্যে থেকে একজনকে ‘বিশ্বের শ্রেষ্ঠ’ অর্থমন্ত্রী হিসাবে ঘোষণা করা হয়।

মুস্তফা কামাল এশিয়া-প্যাসিফিকের পাশাপাশি বিশ্বের ‘সেরা’ অর্থমন্ত্রী হয়েছেন তাদের বিবেচনায়। ‘ফাইন্যান্স মিনিস্টার অব দ্য ইয়ার ফর এশিয়া প্যাসিফিক অ্যান্ড গ্লোবাল অ্যাওয়ার্ড ২০২০’ পাচ্ছেন তিনি।

বিএনপি ও জাতীয় পার্টির আরও বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্য অর্থমন্ত্রীর সমালোচনা করে বক্তব্য দেন, যা নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করেছেন মুস্তফা কামাল।

তিনি বলেন, “এত বক্তৃতা শুনতে ভালো লাগে নাই। আপনারা এক সময় দায়িত্বে ছিলেন। কী কাজ করেছেন? পৃথিবীতে কোথায় কী হচ্ছে জানা দরকার। বাংলাদেশ অন্য দেশের কাছে দৃষ্টান্ত। আপনারা বলছেন, ব্যাংক, শেয়ার বাজার সব খালি করে ফেলেছি। আপনাদের সময় পুঁজিবাজার কী ছিল? আপনাদের সময় ইনডেক্স কী ছিল? এবার সারা পৃথিবীতে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা। অর্থনীতিতে ওঠানামা থাকে।”

বিলের পক্ষে যুক্তি দিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, “এই প্রতিষ্ঠানগুলো কার টাকার তৈরি হয়েছে? সরকারের টাকায়। জনগণের টাকায়। তৈরির সময় যদি সরকার টাকা দেয় তবে লাভের সময় ইচ্ছামতো বোনাস নেবে। বিদেশে ঘুরবে তা হয় না।”

পরে বিলটি সংসদ সদস্যদের কণ্ঠভোটে পাস হয়, যদিও বিএনপি-জাতীয় পার্টির সদস্যরা বিপক্ষে ভোট দেয়।