এই মাত্র পাওয়া:

» আমরাই পারি’র উদ্যোগে ঐতিহ্যবাহী পটুয়াখালী সরকারি কলেজে যৌন নির্যাতন প্রতিরোধ নীতিমালার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা

প্রকাশিত: ১১. অক্টোবর. ২০২১ | সোমবার

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

জাতির সংবাদ টোয়েন্টিফোর ডটকম।। 

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে করোনা পরবর্তী কার্যক্রম শুরুর সাথে সাথে আজ ১১ই অক্টোবর পটুয়াখালী সরকারি কলেজে একটি যুগান্তকারী অধ্যায়ের সূচনা ঘটল।

নারীর প্রতি সংবেদনশীল এবং যৌন হয়রানি মুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার লক্ষ্যে ইউএন ওমেন এবং গ্লোবাল এফেয়ার্স কানাডার সহায়তায় আমরাই পারি জোট এর উদ্যোগে অনলাইন মাধ্যমে অর্ধ শতাধিক শিক্ষক শিক্ষার্থীর উপস্থিতিতে ঐতিহ্যবাহী পটুয়াখালী সরকারি কলেজে যৌন নির্যাতন প্রতিরোধ নীতিমালার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়। আলোচ্য কর্মসুচিতে উপস্থিত ছিলেন আমরাই পারি জোটের চেয়ারপারসন এবং মানবাধিকারকর্মী সুলতানা কামাল, পটুয়াখালী সরকারী কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোঃ নুরুল আমিন, ইউএন উইমেনের এন্ডিং ভায়োলেন্স এগেইনস্ট উইমেনের প্রোগ্রাম স্পেশালিস্ট জুলিয়া পেলোসি, গ্লোবাল এফেয়ার্স কানাডার ডেভলপমেন্ট এডভাইজার ফারজানা সুলতানা, পটুয়াখালী সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এবং কলেজের টিচারস কাউন্সিলের সেক্রেটারি গাজী জাফর ইকবাল, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক মরিয়ম জাহান এবং পটুয়াখালীর শুভ সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক হাসিনা বেগম নীলা। পুরো আলোচনাটি সঞ্চালনা করেন আমরাই পারি জোটের নির্বাহী সমন্বয়কারী জিনাত আরা হক।

আলোচনার শুরুতেই জিনাত আরা হক উপস্থিত সবাইকে ২০০৯ সালের হাইকোর্ট নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যৌন নিপীড়ন বিরোধী নীতিমালা এবং কমিটি গড়ে তোলার বিষয়টি অবহিত করেন। হাইকোর্ট নির্দেশনা থাকার পরেও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা এবং তদারকির অভাবে এখনও বাংলাদেশে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এই নীতিমালা কার্যকরী ভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। ইউএন ওমেনের সহযোগিতায় “কম্ব্যাটিং জেন্ডার বেসড ভায়োলেন্স” প্রজেক্টের অধীনে আমরাই পারি জোট বগুড়া, কুমিল্লা ও পটুয়াখালী এই তিনটি জেলায় মোট ছয়টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যৌন নির্যাতন প্রতিরোধ নীতিমালা এবং কমিটি গড়ে তোলার কাজ করছে। আর তারই পথ ধরে ঐতিহ্যবাহী পটুয়াখালী সরকারি কলেজ আজ আনুষ্ঠানিক ভাবে যৌন নির্যাতন প্রতিরোধ নীতিমালা ঘোষণা করে।

আলোচ্য আলোচনায় পটুয়াখালী সরকারি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক মরিয়ম জাহান কীভাবে নীতিমালাটি প্রতিষ্ঠানে বাস্তবায়িত হবে তা প্রেজেন্টেশন আকারে তুলে ধরেন। নীতিমালাটি বেনামে অভিযোগ দাখিল, তদন্ত কমিটি গঠন, নির্দিষ্ট সময় পর পর পুনঃমুল্যায়নের সুযোগগুলো অবারিত রেখেছে। আলোচনায় উঠে এসেছে যে, নারী পুরুষ যে কেউই এই যৌন নির্যাতন প্রতিরোধ নীতিমালার আওতায় অভিযোগ দায়ের এবং পর্যালোচনার সুযোগ পাবে।

উক্ত আলোচনায় আমরাই পারি জোটের চেয়ারপারসন সুলতানা কামাল বলেন যে, “প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব হচ্ছে তাদের শিক্ষার্থীদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা। আমরা একটি নির্যাতনমুক্ত দেশ চাই। আমরা এমন একটি সমাজ চাই যেখানে একজন ব্যক্তি তার অধিকার পাবে, তার পরিচয়ের কারণে কোন বৈষম্য বা অসমতার শিকার হবে না, তার চিন্তা চেতনা মৌলিক অধিকারকে কাজে লাগিয়ে মানুষের মত মাথা উঁচু করে বাঁচতে পারবে। আর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কাজ হচ্ছে শিক্ষার্থীকে এইসকল বিষয়ে সচেতন করে তোলা”। পটুয়াখালী সরকারী কলেজের যৌন নির্যাতন প্রতিরোধ নীতিমালা বিষয়ে মানবাধিকারকর্মী সুলতানা কামাল জানান, “কেবল নীতিমালা তৈরি নয়, কলেক কর্তৃপক্ষ থেকে কলেজের শিক্ষার্থী এবং কলেজের সাথে সম্পৃক্ত সবাইকে এই নীতিমালার বিষয়বস্তুকে গ্রহণ করতে হবে। সবাই যেন বিশ্বাস করে যে, আমরা এই নীতিমালা গড়ে তুলেছি, আমরা এই নীতিমালা জানব, বুঝব , সম্মান করব এবং ব্যবহার করব”।

সভার সবশেষে পটুয়াখালী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর নুরুল আমিন যৌন নির্যাতন প্রতিরোধ নীতিমালাটির আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মাধ্যমে এর কার্যক্রম শুরু করেন। তিনি মনে করেন, রাতারাতি সবকিছু পরিবর্তন হয়ত হবে না। কিন্তু সকলের সম্মিলিত ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় যৌন নির্যাতন প্রতিরোধের ক্ষেত্রে পটুয়াখালী সরকারি কলেজ এমন একটি ভুমিকা রাখতে চেষ্টা করবে যাতে তারা অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কাছে উদাহরণ হয়ে উঠতে পারে।

 

Facebook Pagelike Widget