» আজ থেকে ২২ দিন সারা দেশে ইলিশ মাছ আহরণ, পরিবহন, মজুত, ক্রয়-বিক্রয় নিষিদ্ধ

প্রকাশিত: ১৪. অক্টোবর. ২০২০ | বুধবার

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

জাতির সংবাদ টোয়েন্টিফোর ডটকম।।
১৪ অক্টোবর থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত উৎপাদন বাড়াতে ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুম ২২ দিন সারা দেশে ইলিশ মাছ আহরণ, পরিবহন, মজুত, ক্রয়-বিক্রয় নিষিদ্ধ করা হয়েছে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় প্রতি বছরের মতো এ বছরও ইলিশের প্রজনন নির্বিঘ্ন করতে এই পদক্ষেপ নিয়েছে।

এ অনুযায়ী মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে।

নিষেধাজ্ঞা কার্যকর ও এ সময়ে জেলেদের সহায়তা দিতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২২ দিন বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও সমুদ্র মোহনায় কোস্টগার্ডের টহল জোরদার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া মসজিদে জুম্মার নামাজের খুতবায় ইমামেরা মা ইলিশ রক্ষার গুরুত্ব ও আইন ভঙ্গের শাস্তির বিষয়ে আলোচনা করবেন।

মা-ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান-২০২০ উপলক্ষে গতকাল সোমবার মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন। তিনি বলেন, মা ইলিশ রক্ষায় ইলিশের বিজ্ঞানভিত্তিক প্রজনন সময় বিবেচনায় নিয়ে আশ্বিন মাসের পূর্ণিমাকে ভিত্তি ধরে মৎস্য সংরক্ষণ আইন সংশোধন করে ইলিশ আহরণ নিষিদ্ধের সময়সীমা ২২ দিন করা হয়েছে। এ সময় দেশের জলসীমায় কোনোভাবেই মা-ইলিশ আহরণ করতে দেওয়া হবে না।

মা ইলিশ থাকতে পারে এমন নদীতে কাউকে মাছ ধরতে দেওয়া হবে না। নৌ-পুলিশ ও কোস্টগার্ডের টহলের পাশাপাশি অত্যাধুনিক উপায়ে মনিটর করা হবে যেন কোনো নৌকা বা জাহাজ ইলিশ ধরতে না পারে।

এদিকে কক্সবাজারের টেকনাফে মা ইলিশ সংরক্ষণে জেলেদের উদ্বুদ্ধকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার মৎস্য অধিদপ্তরের সহযোগিতায় ও উপজেলা মৎস্য দপ্তরের আয়োজনে ওই সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ইলিশ সংরক্ষণে অংশগ্রহণকারী মৎস্যজীবি, বোট মালিক সমিতির সদস্য ও মৎস্য ব্যবসায়ীদের মাঝে লিফলেট বিতরণ করা হয়।

টেকনাফ উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন জানান, আজ মধ্যরাত থেকে দেশের সব নদ-নদী ও বঙ্গোপসাগরে ইলিশ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা শুরু হবে। ইলিশ সম্পদ উন্নয়নে গণসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে উপজেলা টাস্কফোর্স কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। জেলেদের সচেতন করতে তাদের নিয়ে মতবিনিময় সভা করা হচ্ছে।

এ বছরও মা ইলিশ রক্ষা ও ইলিশের প্রজনন কার্যক্রম সফলভাবে হবে। ৬৫ দিন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর উপলক্ষে প্রথম দফায় জনপ্রতি ৫৬ কেজি চাল বরাদ্দ ছিল। দ্বিতীয় দফায় ২২ দিন মাছধরা বন্ধ উপলক্ষে জেলেদের জন্য ৩০ কেজি করে চালের বরাদ্দ আছে। তবে বরাদ্দের চাল এখনো পায়নি। চালের বরাদ্দ পাওয়া গেলে প্রাথমিকভাবে পৌরসভাসহ ৬ ইউনিয়ন পর্যায়ের জেলেদের মাঝে চাল বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

টেকনাফ নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা রয়েছে ৭ হাজার ৮৮৩ জন। এর মধ্যে ৭ হাজার ৮৮৩ জন জেলেকে সহায়তা হিসেবে ৩০ কেজি করে চাল দেওয়ার কথা জানিয়েছে উপজেলা মৎস্য বিভাগ।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৭০ বার

[hupso]
Facebook Pagelike Widget