এই মাত্র পাওয়া:

» আগামী নির্বাচনে ৩০০ আসনে প্রার্থী দিবে এনপিপি: শেখ ছালাউদ্দিন ছালু

প্রকাশিত: ১৯. নভেম্বর. ২০২২ | শনিবার

 

জাতির সংবাদ টোয়েন্টিফোর ডটকম।।
এনপিপি সংঘাতের রাজনীতি করে না। সম্প্রীতির রাজনীতি করে, সুশাসনের রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করতে চায়। দুর্নীতিমুক্ত রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করে মাদকমুক্ত দেশ গড়তে চায়। সুষ্ঠ নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রের বিকাশ ঘটাতে চায়।

শনিবার সকালে ইঞ্জিনিয়ার্স  ইনস্টিটিউশনে ন্যাশনাল পিপলস্ পার্টি (এনপিপি)’র ৬ষ্ঠ জাতীয় সম্মেলনে এসব কথা বলেন ন্যাশনাল পিপলস্ পার্টি (এনপিপি) ও এর নেতৃত্বাধীন জোট ন্যাশনালিস্ট ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (এনডিএফ)’র চেয়ারম্যান আলহাজ্ব শেখ ছালাউদ্দিন ছালু।

শেখ ছালাউদ্দিন ছালু বক্তব্যের শুরুতে ন্যাশনাল পিপলস্ পার্টি (এনপিপি)’র ৬ষ্ঠ জাতীয় সম্মেলনে আগত এনপিপির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, কর্মীবৃন্দ, আগত অতিথিবৃন্দ, প্রিন্ট মিডিয়া ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়া, সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, আপনারা জানেন ২০০৭ সালে মরহুম শেখ শওকত হোসেন নিলু বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তোলার লক্ষ্যে এনপিপি সৃষ্টি করেছিলেন। শেখ শওকত হোসেন নিলুর একটা স্লোগান ছিল মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, জাতীয়তাবাদ ও ধর্মীয় মূল্যবোধের ভিত্তিতে বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তোলা।

অত্যন্ত দুঃখ ও পরিতাপের বিষয় ২০১৭ সালের ৬ই মে শেখ শওকত হোসেন নিলু মৃত্যুবরণ করেন। আমি তার আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি। তার অল্প কিছু দিন পরে আমি দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য হিসেবে যুক্ত হই। তারপর ২০১৭ সালে ৪ই আগস্ট ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে ৫ম জাতীয় সম্মেলনের মাধ্যমে আমি দলের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করি। তারপর হাটি-হাটি,পা-পা করে বিগত ৫বছরে সারা বাংলায় এনপিপি বিস্তার লাভ করেছে এবং সাংগঠনিক ভাবে শক্তিশালী হয়েছে। তার পরিপ্রেক্ষিতে আজ দল ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে সম্মেলন করতে পারছি।

তিনি বলেন, এনপিপি একটি মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী দল। তাই জনগণ যদি আমাদের রাজনীতির মধ্যে তাদের স্বার্থ ও নিরাপত্তা খুঁজে না পায়, এমনকি সংবিধানের সব মানুষের জন্য যে অধিকার আছে, সেই অধিকার না পায়, তবে জনগণ আমাদের সাথে আসবে না। তাই জনগণকে আমাদের সাথে সম্পৃক্ত করতে হলে জনগণের স্বার্থে কথা বলতে হবে।

তিনি আরো বলেন, আজ রাজনীতির আকাশে ঘন কালো মেঘ দেখা দিয়েছে। যার পরিপ্রেক্ষিতে বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে । সরকারি নেতা বলছে খেলা হবে, আবার বিএনপি নেতারা বলছেন বন্ধুকের লাইসেন্স করা দরকার ও লাঠি মিছিল করতে হবে। এটা রাজনীতির কোন ভাষা না, রাষ্ট্রবিজ্ঞানে এ ধরনের ভাষা আছে কিনা তা আমার জানা নাই।

এনপিপি নির্বাচন মুখি দল। যদি নির্বাচন বর্জন করে তাহলে নেতা কর্মীদের সাথে জনগণের সম্পৃক্ততা কমে যায়। আর যদি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করি তাহলে জনগণের সাথে নেতা কর্মী যোগাযোগ করে, তার পরিপেক্ষিতে দল শক্তিশালী হয়। আপনারা জানেন বর্তমান সিইসি গাইবান্ধা উপ-নির্বাচনে যে দৃঢ়কার পরিচয় দিয়েছে তার পরিপ্রেক্ষিতে সংবিধান সমোন্নত রাখতে এনপিপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে ইনশাআল্লাহ। ২০২৪ সালের জানুয়ারী মাসে যে নির্বাচনের রোড ম্যাপ ঘোষণা করা হয়েছে তাতে আমরা ৩০০ আসনে প্রতিদ্বন্দিতা করব। দেশ উন্নত প্রযুক্তিতে 3G থেকে 4G, 5G তে উন্নত হচ্ছে। আমরা ইন্টারনেটের সমস্ত সুযোগ ব্যাবহার করছি। ইভিএম একটি আধুনিক প্রযুক্তি। ইন্ডিয়া এবং ব্রাজিল ইভিএম ব্যবহার করছে। তবে ইভিএম এ ভোট হলে এনপিপি তাতে অংশগ্রহন করবে।

শেখ ছালাউদ্দিন ছালু আরো বলেন, বিএনপি আন্দোলন করছে সেখানে সরকারি দলের মদতে ধর্মঘট ডেকে পক্ষান্তরে বিএনপিকে জনগণের মনে স্থান করে দিয়েছে এবং বিএনপিকে আরো শক্তিশালী করেছে এ ধর্মঘট। যদি ধর্মঘট না থাকতো তাহলে লোক আরো ১০ হাজার বেশি হতো হয়তোবা, কিন্তু এই ধর্মঘটের কারণে বিএনপি আরো শক্তিশালী হচ্ছে তাই অনুরোধ করবো যারা ধর্মঘট  ডাকছেন তারা যেন আর ধর্মঘট না ডাকে, বিএনপি কে শক্তিশালী না করে।

আমরা জানি বিএনপির বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সাজাপ্রাপ্ত, বাংলাদেশে এলে তাকে কারাবদ্ধ হতে হবে। কিন্তু যেহেতু তিনি সারাজীবন বিলাসবহুল জীবন যাপনে অভ্যস্থ তাই তিনি কারাবরণ করতে চান না। সেই কারণে জনগণ আন্দোলনে সম্পৃক্ত হচ্ছে না।

তিনি বলেন, দেশে কোন শক্তিশালী বিরোধী দল নাই বিধায় সরকার এককভাবে সমস্ত সিদ্ধান্ত  গ্রহণ করছে জনগণের কথা চিন্তা না করে। আপনারা জানেন করোনা মহামারীর পর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হয়েছে যার পরিপ্রেক্ষিতে সারা পৃথিবীতে অর্থনৈতিক সুনামি দেখা দিয়েছে এবং এই সুযোগে কিছু জগৎশেঠ এর মতো ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে জিনিসপত্রের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। চাল, ডাল ,তেল ,চিনি, সমস্ত নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম আকাশচুম্বী। ধনীরা আরো ধনী হচ্ছে আর গরীবেরা আরো গরীব হচ্ছে। আপনারা জানেন এরশাদের সময় চিনির দাম ৫০ টাকা কেজি হযেছিল, সেই কারণে কাজী জাফরকে চিনি জাফর বলা হত। এখন চিনির দাম ১২০ টাকা।

আপনারা জানেন দেশের উন্নয়ন হচ্ছে কিন্তু দুর্নীতি এবং অসৎ সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের জন্য জনগণ সুফল পাচ্ছে না। তাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করব জনগণের দুঃখ দুর্দশা লাঘবের জন্য এই সিন্ডিকেট ভেঙ্গে দিয়ে বাজার মনিটরিং করে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম কমানোর জন্য।

আপনারা জানেন বাংলাদেশের বাজেট ছয় লক্ষ কোটি টাকা, যদি এর ২০% দুর্নীতি হয়, তাহলে এক লক্ষ ২০ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি হয়। আমরা যদি ১০% দুর্নীতি কমাতে পারি তাহলে ৬০ হাজার কোটি টাকা আমাদের সাশ্রয় হয়। তাহলে আমরা জ্বালানি খাতে ভর্তুকি দিতে পারি যার পরিপ্রেক্ষিতে জ্বালানি তেলের দাম কমানো যায়। সেই পরিপ্রেক্ষিতে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি প্রয়োজন হয় না। জ্বালানি তেল ও গ্যাসের কারণে প্রতিটি পণ্যের উপর প্রভাব পড়ে। তেল ও গ্যাসের কারণে শিল্প কারখানা বন্ধ হওয়ার উপক্রম, তাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন তেল ও গ্যাসের ব্যাপারে সজাগ দৃষ্টি রেখে শিল্প কারখানা চালু রাখা। পরিশেষে তিনি সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে বক্তব্য শেষ করেন।

সম্মেলনে সাংগঠনিক রিপোর্ট পেশ করেন, ন্যাশনাল পিপলস্ পার্টি (এনপিপি)’র মহাসচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আব্দুল হাই মন্ডল এবং শোক প্রস্তাব করেন ন্যাশনাল পিপলস্ পার্টি (এনপিপি)’র সহ-দপ্তর সম্পাদক এস এম আল আমিন।

আরো বক্তব্য রাখেন, এনপিপি’র প্রেসিডিয়াম সদস্য মিসেস খালেকুজ্জামান খান দুদু, মোঃ ইদ্রিস চৌধুরী, শেখ আবুল কালাম,  মোঃ আনিসুর রহমান দেওয়ান, প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিনের সভাপতি সৈয়দ মাহমুদুল হক আক্কাছ, পরেশ চন্দ্র দাশ, চেয়ারম্যান এর রাজনৈতিক উপদেষ্টা শেখ জামাল উদ্দিন, মোহাম্মদ আলী কিসমত, ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ জাকারিয়া, মির্জা হামিদুল ইসলাম, মোঃ শফিকুল ইসলাম সরকার, মোঃ ইমরুল কায়েস, যুগ্ম মহাসচিব মেহেদী হাসান রনি,  খোশাল খান, আহসান হাবিব তছির, মোঃ মনিরুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক শাফি আল আসাদ বাপ্পি, সাংগঠনিক সম্পাদক ও ন্যাশনাল পিপলস্ যুব পার্টির সভাপতি ইঞ্জি: কে এম সামসুল আলম মিশুক, সমবায়  বিষয়ক সম্পাদক মোঃ ফজলুল হক, সহ-এনজিও বিষয়ক সম্পাদক মোঃ শরিফুল ইসলাম মুন্সি,  কেন্দ্রীয় নেতা খন্দকার ইন্তেখাব আলম রুবেল, কিশোরগঞ্জ জেলার সভাপতি তারেক মুহাম্মদ শহিদুল ইসলাম, সাতক্ষীরা জেলার সভাপতি আব্দুল হামিদ রানা, পাবনা জেলার সভাপতি মোঃ আবু দাউদ, চুয়াডাঙ্গা জেলার সভাপতি এম জমসেদ খান, কুড়িগ্রাম জেলার সভাপতি মোঃ আব্দুর রশিদ, ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি মোঃ গিয়াস উদ্দিন, ন্যাশনাল পিপলস্ মহিলা পার্টির সভাপতি ফেরদৌসী আক্তার নিলা মল্লিক, ন্যাশনাল পিপলস্ শ্রমিক পার্টির সভাপতি মোঃ আবুল কালাম জুয়েল, ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি মোঃ গিয়াস উদ্দিন, ঢাকা মহানগর দক্ষিনের সাধারণ সম্পাদক মোঃ আরিফুর রহমান সুমন, চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি মোঃ কামাল পাশা, খুলনা মহানগর আহবায়ক এ্যাড. মেহেদী ইনছার, রংপুর মহানগর সভাপতি শফিউল আলম রাকু, সিলেট মহানগর সভাপতি মোঃ ইউসুফ ও আগত বিভিন্ন দলের নেতৃবৃন্দ প্রমুখ।

এসময় উপস্থিত ছিলেন,  এনপিপি ও এনডিএফ’র কেন্দ্রীয়, এনপিপি’র জেলা ও মহানগর এবং এনপিপি’র অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ।

এনপিপি’র প্রেসিডিয়াম সদস্য মিসেস আশা সিদ্দিকা, চেয়ারম্যান এর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ছাবের আহাম্মদ (কাজী ছাব্বীর), শেখ ইকবাল হাসান স্বপন ও যুগ্ম মহাসচিব এমাদুল হক রানার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন ন্যাশনাল পিপলস্ ওলামা পার্টি’র সভাপতি মাওলানা মুহাম্মদ লোকমান সাইফী। গীতা পাঠ করেন, এনপিপি’র প্রেসিডিয়াম সদস্য ডাঃ পি কে মিত্র। স্বরচিত কবিতা আবৃত্তি করেন, ন্যাশনাল পিপলস্ শ্রমিক পার্টির ঢাকা মহানগর আহবায়ক এম এ খায়ের।